বাংলাদেশ, সোমবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

গাইবান্ধা-১ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আফরুজা বারী

শেয়ার করুন
0Shares

মোঃ গোলজার রহমান
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট শিল্পীপতি আনন্দ গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস আফরুজা বারী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন উপ-নির্বাচনকে ঘিরে অন্যান্য এলাকার মতো এই আসনটিতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কোন প্রার্থী কতটুকু শিক্ষিত, ইমেজ ভাল, জন বান্ধব, এলাকার উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন বা রাখতে পারবেন, আগামীতে কার দ্বারা এলাকার উন্নয়ন বেশি হবে তা নিয়ে চলছে ভোটারদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে এবার আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোট ১২ জন। এদের মধ্যে কিøন ইমেজ ও জন বান্ধব হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন আনন্দ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ’লীগ নেতা মিসেস আফরুজা বারী। নৌকার মাঝি হয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে চান তিনি। ১৯৫৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন আফরুজা। তার মরহুম পিতা আশরাফ আলী মাস্টার আজীবন সভাপতি ও মাতা আলতাফুন্নেছা আজীবন উপজেলা আ’লীগের মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন। ২০১২ সালে আ’লীগের সদস্য কুপন সংগ্রহ করে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন আফরুজা। বিএ অনার্স পাশের পর ইউকে থেকে অর্থনীতি ও হিসাব বিভাগের উপর কারিগরি যোগ্যাতা অর্জন করেন। এরপর ব্যবসায় নেমে পড়েন। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যেক্তা। জাতীয় রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১০ সালে জাতীয় রপ্তানী ট্রফি (স্বর্ণ) গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। শিল্প উদ্যেক্তা হিসেবে অনন্যা শীর্ষ দশ অ্যাওয়ার্ড ২০০৮ লাভ করেন। এছাড়া নৌ সেক্টরে বিশেষ অবদান রাখায় সরকার কর্তৃক ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে অ্যাওয়ার্ড ২০০৮ অর্জনসহ অনেক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ২০১৬ সালে তার ছোট ভাই এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার পর আ’লীগের রাজনীতিতে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। গত বন্যায় উপজেলার চরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে নিজের অর্থায়নে ত্রাণ বিতরণ করে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশসংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া ঈদে গরীব, দুঃখিদের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করে নন্দিত হয়েছেন তিনি। পুজা মন্ডপে অর্থ সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করে দানশীল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। অগ্নিকান্ড ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের পাত্র হয়েছেন। আনন্দ বিল্ডার্স লিমিটেড, আনন্দ শিপইয়ার্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড ও জেরিনা কম্পোজিট টেক্সটাইল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডসহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৯০ ভাগ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লোক নিয়োগ দিয়ে এলাকার বেকারত্ব সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করেছেন। গত ২২ মার্চ ২০১৭ অনুষ্ঠিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তিনি মনোনয়ন না পেলেও মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিয়ে দিনরাত কাজ করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে আফরুজা বারী বলেন আমার পিতৃ পরিবার আ’লীগ পরিবার। ছোট ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের হাল ধরে দলকে সু-সংগঠিত করেছেন। তিনি আরো বলেন ছোট ভাই এমপি লিটনের মৃত্যুর পর আমি আ’লীগের হাল ধরে এলাকার উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।
সর্বস্তরের মানুষ মনে করে রাজনীতির মাঠে দলকে বিজয়ী করতে হলে যে সকল গুনাবলি থাকা দরকার তা রয়েছে তার। শুধু তাই নয় ইতোপূর্বে উপজেলা আ’লীগের কোন উপজেলা কার্যালয় ছিল না। আফরুজা বারী গত ডিসেম্বর ২০১৭ উপজেলা শহরে একটি কার্যালয় তার নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করে দেন। উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার বাবলু, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মনজু, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনারায় ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি রনজিৎ কুমার সরকার, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি সমেস উদ্দিন বাবুু, আ’লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম প্রিন্স, গোলজার হোসেন জানান সুন্দরগঞ্জ আসনে আ’লীগের নৌকার বিজয় আনতে হলে আফরুজা বারীই তা পারবেন। কারণ তার গ্রহণ যোগ্যতা অনেক বেশি।

শেয়ার করুন
0Shares

আরো খবর

Leave a Reply