১৫ জুলাই ২০২৪ / ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / সকাল ১১:৫২/ সোমবার
জুলাই ১৫, ২০২৪ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

সবকিছুতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ নাভিশ্বাস জনগনের

     

মাহমুদুল হক আনসারী

কথায় কথায় দাম বাড়ছে সব ধরনের পন্যের। আলু থেকে পিয়াজ, চাল,ডাল,মরিচ,তেল ও সব ধরনের তরিতরকারির মূল্য লাগামহীন। নিম্ন আয় মধ্য আয়ের মানুষ কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে, সেটির খবর কে রাখবে। দিশেহারা জনগন। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো সমঞ্জস্য মিলাতে পারছে না সাধারন মানুষ। চার থেকে পাচঁজনের সাংসারিক দৈনন্দিন খরচ জোগাড় করতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার গুলো মহা সংকটে সময় পার করছে। চাকরিজীবি সরকারি ও বেসরকারি যাদের নির্ধারিত মাসিক একটি আয় আছে, তারাও তাদের সেই মাসিক আয় দিয়ে পরিবারের সাংসারিক খরচ পোষাতে পারছে না।
সন্তানের স্কুল, কোচিং টিফিন যাতায়েত খরচ মিটিয়ে মাসিক পরিবারের খরচ সামাল দিতে পারছে না সরকারি বেসরকারি সব স্তরের কর্মজীবি মানুষ গুলো। একটি নির্ধারিত পরিমাণের আয় রোজগারের বেতন ভাতা নিয়ে চাকরি করেন সকল সরকারি বেসরকারি কর্মজীবিরা। নির্ধারিত আয়ের মধ্যে ওই সব পরিবার গুলোকে চালাতে ও চলতে হয়। এর মধ্যে সব ধরনের পণ্য মূল্য বৃদ্ধি। যাতায়াত খরচ বাড়ছে। বাসা ভাড়া বাড়ছে। বাড়ছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ। প্রিপেইড বিদ্যুতে টাকা রিচার্জ করলেই প্রতিমাসে দুই থেকে তিনশত টাকা পর্যন্ত নানা ধরনের চার্জ কর্তন করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ঠিক ভাবে বিদ্যুৎ মিলে না অনেক এলাকায়। গ্যাস বিদ্যুৎ ওয়াসার বিল ইত্যাদি কর্মজীবি, শ্রমজীবি জনগন পরিশোধ করছে। তবুও যথাযত ভাবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সেবা মিলে না। এই সব বিষয় অভিযোগ ও আপত্তি কোথায় গিয়ে জনগন বলবে তারও কোনো সঠিক স্থান নেই। নানা ধরনের ভ্যাট চার্জ দিতে দিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শিল্প মালিক অস্থিরতার মধ্যে আছে। শিল্প কারখানার সংশ্লিষ্ট লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়। তারা ও বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ভাবে ভোগান্তির মধ্যে থাকে। যথা সময়ে বিদুৎ সরবরাহ না পাওয়াতে উৎপাদন ব্যাগাত ঘটে।
শিল্প কারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ছোট বড় মার্কেট সরগুলো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ পাওয়া যায় বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে। অব্যবস্থাপনা এখানে জগদ্দল পাথরের মতো একটি শ্রেনি এসব প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিপরিতে জন ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছে। জনগন দৈনন্দিন কর্ম জীবন পরিচালনা করে রোজগারের মাধ্যমে পরিবার পরিজনের চাহিদা কীভাবে পূরণ করবে, সেটি নিয়েই জনগনের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। নানা ভাবে বিভিন্ন প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় দ্রব্য মূল্য উর্ধগতির জন্য সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রকে দাই করছে। এসব সিন্ডিকেট নিয়ে অনেকগুলো প্রতিবেদন নানা ভাবে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় দেশ ব্যপী প্রচার হচ্ছে। সাম্প্রতি মাননীয় প্রদান মন্ত্রীর নিকট সাংবাদিক গণ ও সিন্ডিকেট কারসাজিতে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রশ্ন করা হয়েছিল। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সিন্ডিকেট কারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেই দিন সাংবাদিকদের আস্বস্ত করেছিলেন। বাস্তবে এর কোনো বাজারে ফল এখনো পর্যন্ত দেখা যায় নি। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী পত্রিকায় এসব প্রতিবেদন কী হিসেবে দেখেন সেখানেও জনগনের যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায়। সরকারের সর্বচ্চো পর্যায় থেকে পন্য মূল্য বৃদ্ধি তদারকির নির্দেশ থাকলেও কেনো মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন হয় না। আমাদের বোধগম্য নয়। জনগন না খেয়ে মারা যাক, সরকারের কিছু যায় আসে না। মানুষ কর্ম সময় পার করে কী খাচ্ছে এবং কী খাবে তা ঠিক করতে পারছে না। বাজারে মার্কেটে গেলে মানুষ তার হুস হারিয়ে ফেলে। এ সময়ে স্বাধীনতার পর কোনো সরকারের আমলে পঞ্চাষ টাকা আলু বিক্রি করতে দেখা যায়নি।
বাজার মনিটরিং কার দায়িত্ব? যাদের দায়িত্ব তারা এ দায়িত্ব পালন করছে কিনা। করলে বাজার নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আসছে না কেন। কারা এসবের মধ্যে কারসাজি করছে। স্থানীয় প্রশাসন, জাতীয় সরকার, ভোক্তা অধিকার পরিষদ, বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী সমিতি নানা ধরনের অনেগুলো সংগঠন কাজ করে বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য। কই কোনো ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এভাবে কী একটি সমাজ পরিবার চলতে পারে?
সরকার জনগনের জন্য। রাজনীতি, ক্ষমতা , গণতন্ত্র সবকিছু জনকল্যাণে। কিন্তু দেশে সরকার আছে, অনেক গুলো সরকারের প্রতিষ্ঠান আছে। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। কই তাদের মাধ্যমে জনকল্যাণের জন্য প্রকৃত ভাবে এহেন পরিস্থিতিতে কোনো কল্যাণ মিলছে না। ভাতের হোটেল, নাস্তার দোকান, সবগুলো খাবার পণ্য ইচ্ছে মতো বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। তাদের একটিই বক্তব্য চাল ডাল পিয়াজ রসুন, নুন মরিচ সবকিছু দাম বৃদ্ধি। তাই আমাদেরকে মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমিও মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছি আবার অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছি ভোক্তাদের থেকে। এর মাঝখানে এই সব অনিয়ম দূর্নীতি মূল্যবৃদ্ধি কে নিয়ন্ত্রণ করবে। সেটিই জনগনের আহাজারির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন। একজন ডাক্তারের কাছে মূমুর্ষ রোগী গেলে তাকে একটি প্রিন্টিং ফরম দেয়া হয়। বলা হয়, আপনার নাম ঠিকানা এখানে লিপিবদ্ধ করুণ। তারপর বলা হয়, ফরমের জন্য ছয়শত টাকা জমা দিন। তারপর ডাক্তার আপনাকে দেখবে। রোগীর কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সেখানে নেই। দীর্ঘ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট বসে থাকার পর সেই ডাক্তার রোগীকে চেকাপ করে একটি প্রেসক্রিপশন তার হাতে ধরে দেয়। সেখানে আট দশটি পরীক্ষার কথা বলা হয়। এসব পরীক্ষা করে রোগীকে আসতে বলে। সেই প্রেসক্রিপশনের জন্য আটশত টাকা দাবি করে আদায় করে নেয় সেই ডাক্তার।
এভাবে দেশের জনগন নিরীহ মানুষ শিক্ষিত অশিক্ষিত নানা পেশার দুস্থ ও দরিদ্র মানুষ গুলো সর্বদা হয়রানি ও ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারি চিকিংসা কেন্দ্রে রোগীর সাথে কোনো কথা বলে না ডাক্তার। প্রেসক্রিপশনে কয়েকটি ওষুদের নাম লিখে চিকিৎসা শেষ। আর চেম্বারে গেলে দরকারি বেদরকারি পরীক্ষা নিরিক্ষা দিয়ে রোগীকে অর্থনৈতিক সংকটে ঠেলে দেয়া হয়। এই হলো আমাদের দেশের সরকারী বেসরকারি চিকিৎসা সেবার হাল চাল। আর সরকারের বড় বড় মন্ত্রী এমপিরা সরকারি খরচে দেশের বাইরে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিয়ে আসে। জনগন কোথায় যাবে। জনগনের দায়িত্ব কে নেবে। জনগনের জন্য রাষ্ট্র ও সরকার। জনগনের সূখ দুঃখ দেখবার ও শুনবার জন্য গণতান্ত্রিক সরকার। আসলে কী সরকার জনগনের সুখ দুঃখের অংশীদার হচ্ছে?। কোথায় গিয়ে কার কাছে কোন জায়গায় জনগনের দুঃখের কথা রাখি সেই যায়গায় এখন খুজেঁ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। জনগনের সরকারকে বলছি, জনগনের কাতারে এসে জনদূর্ভোগ লাগবে দ্রব্য মূল্যের লাগাম টেনে ধরুণ। তবেই জনগন কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস রাখতে পারবে।

About The Author

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply