২ মার্চ ২০২৪ / ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ / রাত ৪:২৬/ শনিবার
মার্চ ২, ২০২৪ ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রামবাসী প্রস্তুত

     

মাহমুদুল হক আনসারী
নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ডে ৪ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ব্যাপকভাবে মাইকিং চলছে। সারা চট্টগ্রামে পোষ্টার পেষ্টুনে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচার শোভা পেয়েছে। সারা চট্টগ্রাম সিটিকে ব্যাপকভাবে ভাঙা ছোড়া সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। ফুটপাত সড়ক দ্বীপ ফ্লাইওভারে নানাভাবে সাজানো হয়েছে। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমনকে সামনে রেখে ব্যাপকভাবে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। শহর গ্রাম সারা চট্টগ্রাম প্রধানমন্ত্রীর আগমনে স্বাগত জানাতে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের বিশাল ময়দান পলোগ্রাউন্ডের এ জনসভাকে বৃহত্তর বিশাল জনসভার মাধ্যমে লোকে লোকারণ্য করার ব্যাপক প্রস্তুতি আওয়ামীলীগ নীতি নির্ধারকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা রাতদিন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা জনসভা জনসমুদ্রে রুপ নেবে।
আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বলে জানা যাচ্ছে। তার বক্তব্য শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন চট্টগ্রামবাসী। চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশেষভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে চট্টগ্রামবাসীর অনেক প্রত্যাশা। চট্টগ্রামের দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। বাংলাদেশে অপরাপর সিটি শহর এবং অন্যান্য এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের মতো চট্টগ্রামেও ব্যাপকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান আওয়ামীলীগের ক্ষমতার মেয়াদে চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নের চেহারা পাল্টে গেছে। অব্যাহতভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত গতিতে চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেসব কর্মসূচী নিয়মিতভাবে তদারকি করছেন।
শহর গ্রাম এবং অজ গাঁ গ্রাম পর্যন্ত অসংখ্য উন্নয়ন কর্মসূচী হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইনশা আল্লাহ এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। চট্টগ্রামের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং আনুগত্যশীল। রাষ্ট্রের সকল অব্যাহত কর্মসূচী বাস্তবায়নে জনসমর্থন অব্যাহত আছে। এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা সঠিক সময়ে উন্নয়ন কর্মসূচীর কর্মকাণ্ড যথাসময়ে শেষ হবে। কর্মসূচী বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ধীরগতি গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যেন সঠিক সময়ে মানদণ্ড ঠিক রেখে উন্নয়ন কর্মসূচী প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেনো চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মসূচী সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেন সে প্রত্যাশা জনগণের। দুর্নীতিমুক্তভাবে সঠিক মানদণ্ড বজায় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হোক।
চট্টগ্রামের অনেকগুলো সমস্যা বিরাজমান। জলাবদ্ধতা , সিটি কর্পোরেশন এলাকার নালা নর্দমা অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতা, ব্যাপকভাবে মশা মাছির উৎপাত চট্টগ্রামবাসীর জন্য যন্ত্রণার অন্যতম কারণ। অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সিটি এলাকার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি গভীরভাবে নজর দিতে হবে। চট্টগ্রামের উত্তর দক্ষিণ মহানগর এলাকার সাধারণ যাত্রীদের অনেক সমস্যা। রাস্তাঘাটের ব্যাপকভাবে সংস্কার হলেও যাত্রীসেবার মান বাড়েনি। নিয়মিতভাবে যারা প্রতিদিন গ্রাম থেকে শহরে চাকরি ও ব্যবসার কারণে যাতায়াত করেন তারা প্রতিনিয়ত পরিবহণ সংকটের মাধ্যমে ভোগান্তির শিকার হয়। পরিবহণ মালিক শ্রমিক ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। অনেকগুলো নির্দিষ্ট লাইনের গাড়ি যথাসময়ে রাস্তায় তাদেরকে পাওয়া যায়না। ইচ্ছেমতো ভাবে যাত্রীবাহী গণপরিবহণ রাস্তায় চলে আবার ইচ্ছে করে তারা গণপরিবহণ বন্ধ করে দেয়। জ¦ালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিতে দেখা যাচ্ছে। গণপরিবহনের সঠিক ভাবে ভাড়া আদায়ের কোনো ধরনের ভাড়ার চার্ট যাত্রীদেরকে প্রদর্শন করছেনা।
চট্টগ্রামের নিম্ন আয় মধ্য আয়ের মানুষের বড় ধরনের যন্ত্রণার কারণ গণপরিবহন। এসব গণপরিবহনকে সরকারী নিয়ম নীতি এবং সাধারণ যাত্রীদের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কার্যকরভাবে এসব পরিবহণকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও হরহামেশা যানজট লেগেই থাকে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রাস্তার উপর প্রাইভেট গাড়ি থেকে মালবাহী ট্রাক লরি দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং স্পটে নিত্যনতুন হরহামেশা যানজট চোখে পড়ে। যানজটের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা মূল্যবান সময় যাত্রীদের চলে যায়। এছাড়াও চট্টগ্রামের অফিস আদালত সেবা সংস্থাসমূহ বিশেষ করে ভূমি অফিস সমূহে এখনো হয়রানী বন্ধ হয় নাই। অনেকের জমি জমা সরকারী ভাবে ব্যবহারের জন্য মনোনীত হলেও ভুক্তভোগী জনগণ ক্ষতিপূরণ পেতে ব্যাপকভাবে হয়রানীর সম্মুখীন হয়। বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলেও অনেকেই তাদের সঠিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেনা।
চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য খ্যাত এলাকা খাতুনগঞ্জ আসাদগঞ্জ। এ এলাকায় বর্ষা আসলেই জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। এটা অত্র এলাকার ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় ধরনের দুঃখ এবং ভোগান্তি। এ সমস্যার আসু সমাধান খুব সহসা করা দরকার। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে মনে হয় ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করার জন্য সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। দেশে উৎপাদিত পণ্যসহ আমাদানিকৃত সব ধরনের পণ্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়িয়ে তুলছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন থাকবে অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ চরমভাবে খাদ্যদ্রব্যের প্রয়োজন মেটাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয়ে গভীরভাবে নজর দিতে হবে। সাধারণ মানুষের আয় ইনকাম রোজগার প্রয়োজন শাসক দলকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। সাধারণ মানুষ ভালো আছে দেশ ভালো আছে। সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তবেই শাসকদল ভালো থাকবে। তাদের সমর্থন সহযোগীতা ভালোবাসা পাওয়া অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামের মানুষের জন্য আরেকটি বড় ধরনের সমস্যা হলো রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান যত দ্রæত সম্ভব করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালোবাসা এবং মানবিকতার কারণে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেছে। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করলেও তাদের কারণে চট্টগ্রামের মানুষগুলো ভালো নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে রোহিঙ্গাদের কারণে চট্টগ্রামের জনগণ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনলাইনে জন্মনিবন্ধন , এনআইডি পাওয়া , পাসপোর্ট তৈরি করা সহ নানা কাজে প্রতিনিয়ত চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। চট্টগ্রামবাসীর এসব হয়রানী বন্ধ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহজ এবং সরলভাবে দিক নির্দেশনা প্রদান চায় এ অঞ্চলের মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে চট্টগ্রামের মানুষের ব্যাপক আশা আকাঙ্খা রয়েছে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর সমস্যা সমাধান কল্পে তার নির্দেশনা প্রদান করবেন। উন্নয়ন কর্মসূচী টেকসইভাবে যথাসময়ে শেষ করার নির্দেশ দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য সুন্দর ও নিরাপদ জীবন প্রত্যাশা করছে চট্টগ্রামবাসী।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply