ডিসেম্বর ৩, ২০২২ ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম আনারস প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটর সাইকেল প্রতীকে নারায়ণ রক্ষিত পেয়েছেন ১১৭ ভোট। অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গননা শেষে নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়ে চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৬০ সালের ১০ আগস্ট ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা সরকারি কর্মকর্তা মরহুম আবুল ফজল বি.এ ও আমেনা বেগমের সন্তান তিনি। তাঁর দাদা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ আমলের আইনজীবী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ। নানা প্রখ্যাত জমিদার মোখলেছুর রহমান চৌধুরী ও মামা বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও দানবীর আদালত খান। সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ও ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল আলম ও ন্যাপ নেতা এমএম শহীদুল্লাহর খালাতো ভাই তিনি। তাঁর শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আবু তাহের সালাহউদ্দীন বীর প্রতীক। তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। জেষ্ঠ্য সন্তান ও পুত্রবধু সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা। ছোট ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। চট্রগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২২, রাংগুনিয়া কেন্দ্র থেকে ছবি তুরেছেন আমাদের নিজস্ব ফটো সাংবাদিক, আব্দুল হান্নান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সফল ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা। এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ২০১৪ সালে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (গাড়ি তৈরির কারখানা) পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে দুর্বল প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তিত করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল-ছাত্র সংসদে নির্বাচিত জিএস হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন নাজিরহাট কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ‘ল’ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সভাপতি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, নব্বইয়ের ছাত্র গণ-আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

১৯৯০ সালে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। চট্রগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২২, রাংগুনিয়া কেন্দ্র থেকে ছবি তুরেছেন আমাদের নিজস্ব ফটো সাংবাদিক, আব্দুল হান্নান, বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বারে বারে কারা নির্যাতিত ও একাধিক বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও আল্লাহর রহমতে রক্ষা পান। আপোষহীন, সাহসী, দৃঢ়চেতা, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম একটি জননন্দিত নাম।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply