ডিসেম্বর ৩, ২০২২ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা ( ২২৫) আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমীপে

মাননীয়,

সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমীপে,

শ্রদ্ধেয় খসরু ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা-সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া  তেল, গ্যাস ও আটা ও দ্রব্য মূল্যের অধিক মূল্য্ বৃদ্ধিতে হিমসিম খাইয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি।গেলবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন এবং ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন- সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্হায়ী কমিটির সদস্য, খালেদা জিয়া  ও তারেক রহমান ঘনিষ্টজন।আপনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপ নির্বাচনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়াছিলেন। ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করিয়া এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। বর্তমানে আপনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন।আপনার পিতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরীও ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইন পরিষদ নির্বাচনে  ডবলমুরিং-সীতাকুন্ড আসন থেকে জয়লাভ করিয়া যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রথমে গণযোগাযোগ মন্ত্রী পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হইয়াছিলেন।যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে হিসাব বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা একজন সুশিক্ষিত ব্যাক্তি আপনি ।যাক, সেইসব কথা।

ভাইজানরে,

শুনিয়াছি, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ আপনিই প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন এবং চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বও পালন করিয়াছেন।আপনি  চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসাবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়া খ্যাতি অর্জন করিয়াছেন ।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিজয়ী হইয়া আসনটি ছাড়িয়া দেওয়ার পর আপনি চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন। একই আসন থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচন করিয়াছিলেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এম. আবদুল লতিফের কাছে পরাজিতও হইয়াছিলেন।এই সবই এখন আপনার কাছে স্মৃতি ও ইতিহাস।

ভাইজানরে,

আপনার দলের কেন্দ্রিয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, গোলাম আকবর খোন্দকার, সরোয়ার জামাল নিজাম এইসব নেতারা হাত পা গুটিয়া বসিয়া আছে বলিয়া বিএনপির কর্মী ও সমর্থনেরা অভিযোগ করিতেছে।এই কারণে চট্টগ্রামের নেতা কর্মীরা হা হুতাশ করিতেছে।আনোয়ারা উপজেলায় বিএনপির এই দশা কেন ? একজন খুনীকে আনোয়ারায় সেক্রেটারী করা হইয়াছে বলিয়া আপনার দলীয়া লোকেরা অভিযোগ করিতেছে।বাঁশখালীতেও দলীয় গ্রুপিং এখন চাঙ্গা হইয়াছে।পটিয়াতে বিএনপি কয়েক টুকরো হইয়া আছে দীর্ঘদিন।তারপরও কেন্দ্রিয় কমিটি এইসব ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত লইতেছে না কেন ?

ভাইজানরে,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদি্ন জেলে ছিলেন।কারাগারই ছিল বঙ্গবন্ধুর যেন আরেকটি ঘর।রাজনীতি করিলে কারাগারে যাইতে হইবে ।মামলা মকদ্দমাও হইবে এইসব রাজনীতিবিদের জন্য স্বাভাবিক বিষয়।বিশ্বের সকল রাজনৈতিক নেতারা জেল জুলুম মানিয়া লইয়াই নেতৃত্ব দিয়াছেন।জাতীয় ৪ নেতা জেলেই মরিয়াছে।বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হইয়াছিল। কিন্তু তারেক জিয়া জেল জুলুম ও মামলা মকদ্দমার ভয়ে লণ্ডনে থাকিতে হইবে এই কেমন কথা ! বিএনপির নেতা কর্মীরা যদি ভোট করিয়া প্রধানমন্ত্রী করিয়া দেন তখন কি তিনি দেশে আসিবেন? এইসব ভুল চিন্তা বলিয়া স্বয়ং বিএনপির সচেতন লোকেরা বলিতেছে। বিষয়টি লইয়া সাহস করিয়া তারেক জিয়ার সাথে আলোচনা করিবেন।

আজ আর না ।আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় ইতি আপনার গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্থনা ম আ হ

আগামী সংখ্যায় ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৬) সম্প্রচার করা হইবে।

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply