জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

নগরীর ইপিজেডে গার্মেন্টস্ শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে রূপসা মাল্টিপারপাসের মালিক মুজিবর গ্রেফতার

এমএন ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রামের ইপিজেডে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণার মাধ্যমে মাল্টিপারপাস ব্যবসা খুলে সহজ সরল গার্মেন্টস
শ্রমিকদের অধিক লাভবানের প্রলোভন দেখিয়ে সমিতির আড়ালে চলছিল অনৈতিক কর্মকান্ড। গার্মেন্টস শ্রমিকদের শতকষ্টের অর্জিত অর্থ জমা রেখে সেই অর্থ নিয়ে রূপসা মাল্টিপারপাসের পাঁচ কর্ণধার মালিক পরিচয়ে এসব গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে তাদের জমানো অর্থ নিয়ে ব্যাপক তালবাহানার এক পর্যায়ে দুর্ণীতির মাধ্যমে গ্রাহকদের হাজার কোটি টাকা আত্ম সাতের চেষ্টায় লিপ্ত হয়
(১) রূপসার চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ( রিক্সা কোম্পানী) (২) এমডি মোঃ জাকের
হোসাইন (৩) মোঃ রাসেল হাওলাদার (৪) এজাজ হাওলাদার (৫) মুছা হাওলাদার (৬) পলাশ ও
অন্যান্য সহযোগীরা। এ সমস্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তারা রূপসা মাল্টিপারপাসের প্রায় দেড় লক্ষ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা নিয়ে চিনিমিনি খেলতে থাকে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের হাজারো কষ্টের অর্জিত অর্থ দিয়ে এ সমস্ত অভিযুক্ত মালিক পরিচয়ে কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে বাড়ী, গাড়ীর ভোগ বিলাসে ব্যস্ত থাকেন। গ্রাহক গার্মেন্টস শ্রমিকদের জমানো অর্থ দিয়ে কেউ করেছে বাড়ী, কেউ করেছে গাড়ী, আবার কেউ বা করেছে অধিক বিয়ে। বিশেষ করে সমিতির অর্থ লুটপাট করে এ সমস্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম শহরের সিইপিজেড থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে সম্পদ অর্জন বাড়ী গাড়ী ও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ব্যাংক একাউন্টে হাজার কোটি টাকা জমা সমিতি থেকে আত্মসাৎ করে নিজেদের নামে গচ্ছিত রেখেছে।

ইতিমধ্যে এ সমস্ত কর্মকর্তারা অধিকাংশ জায়গা সম্পদ বিক্রয় করে বিদেশে পাড়ী জমানোর পায়ঁতারা চালাচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। এমনকি এই ৬ কর্মকর্তা মালিক পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরী করে ভিসা লাগানোর অপেক্ষায় রয়েছে। এরা যে কোন সময় পাসপোর্ট ভিসা প্রসেসিং তৈরী হয়ে গেলে রাতের আধাঁরে দেউলিয়া হয়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাবে।

গোপন সূত্রে আরো জানা যায় যে, এই অভিযুক্ত মালিক পরিচয়ে এই মুজিবর রহমান দেশের বাড়ী বরিশালে অত্যাধুনিক পাঁচ তারকা আবাসিক ভবন তৈরী করেছেন। যাহা দেশের বাহিরে থেকে নিজের পছন্দ মতো রাজমিস্ত্রি ও টাইলস এর বাড়ীর ডিজাইন করেছেন। এক সময়কার যে মুজিবর কোম্পানী নুন আনতে পান্তা ফুরাত চট্টগ্রাম শহরে কেবলমাত্র ব্যবসা শুরু করেছিলেন সেই মুজিবর রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন, কখনো তিনি মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যান আবারো কখনো সাংবাদিক ও উপদেষ্টা।

জানা যায় যে, ঢাকার একটি পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলেও পত্রিকার সম্পাদক নিজেই জানে না মুজিবর কোম্পানী পত্রিকার উপদেষ্টা ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।

জানা যায় যে, মুজিবুর কোম্পানীকে আরেক প্রতারক উক্ত পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক পদের দায়িত্ব দিয়ে উক্ত প্রতারক মুজিবুর কোম্পানীর কাছ থেকে বহু সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ধরণের অসংখ্য অভিযোগ ও গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের ডকুমেন্টসহ পত্র হস্তগত হয়েছে। যাহা
আগামীতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। হাজারো গ্রাহক রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও রূপসা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর রক্ষিত আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান কোম্পানীকে প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করেছে ইপিজেড থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী শাহ আলমের করা মামলায় গত বুধবার দিনগত রাত্রে ১টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাঙ্গু নাথ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ইপিজেড থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী শাহ আলম এর সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণা, হুমকি ধমকি
প্রদর্শন করার কারণে বিগত ২৬/১২/২০২১ ইং তারিখে ধারা  ৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল
কোড রুজু করে ইপিজেড থানায় নিয়মিত মামলা নং ২১ দায়ের হয়।

এ ব্যাপারে ইপিজেড থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুজ্জামান জানান, এলাকায় জনস্রোতীখ্যাত
প্রতারকের সম্রাট মুজিবর রহমান কোম্পানীর বিরুদ্ধে থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা জানা যায়, উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে সিএমপি ইপিজেড থানার এফআইআর নং- ১৬/১৭৯, তারিখ -১৫ আগস্ট ২০২১ ইং ধারাঃ ৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল কোড, ইপিজেড থানার এফআইআর নং- ১১/২২৩, তারিখ ঃ ৯ অক্টোবর ২০২১ ইং, ধারা ঃ ৪০৬/৪২০/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সিআর মামলা নং- ৩০০/২১, তারিখঃ ১১/১২/২০২১ ইং, ধারাঃ ৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল কোড, সিআর মামলা নং- ৩০১/২১,তারিখ ১২/১২/২০২১ ইং, ধারাঃ ৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল কোড, সিআর মামলা নং-৩০২/২১, তারিখঃ ১৩/১২/২০২১ ইং, ধারাঃ ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৯ পেনাল কোড আদালতে মূলতবী রয়েছে। রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও রূপসা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর চৌধুরী মার্কেট (২য় তলা), ইপিজেড কার্যালয়ে সরেজমিনে গেলে এক ভুক্তভোগী সবিতা রানী শীল বলেন আমি রূপসা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের অতি লোভনীয় অফারে আমার জীবনের সঞ্চিত ৬৩ হাজার টাকা যাহার রশিদ নং- ১২৭৪ ও ১৮৯১৫নং রশিদে ২৮ হাজার টাকাসহ মোট ৯১ হাজার টাকা সঞ্চয় করি। কিন্তু আমার সঞ্চয়ী মেয়াদ পরিপূর্ণ হওয়ার পরও রূপসা কর্মকর্তা আমাকে আজ দেব কাল দিব বলে কালক্ষেপন করছেন এবং হুমকি ধমকি প্রর্দশন করছেন। আমার মত হাজারো গ্রাহকের আমানতি টাকা গুলি পাওয়া অনিশ্চিত প্রায়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে ইপিজেড থানা এলাকার চৌধুরী মার্কেটে রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন মাল্টিপারপাস কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মিললো তিন বস্তা টাকা। যেখানে রয়েছে ৮ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব টাকা উদ্ধার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল।
ইপিজেডের বিভিন্ন কলকরাখানার শ্রমিকদের লোভ দেখিয়ে ৭-৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন মাল্টিপারপাস কোম্পানী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এমন অভিযোগ জমা হওয়ার পর তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয়ে তৎকালীন ইপিজেড থানার ওসি (ওসি) মীর মো. নুরুল হুদা জানান,অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ডিভিশনের একটি ইউনিট ঘটনার দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ইপিজেড সংলগ্ন ওই কোমপানির কার্যালয় ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিনটি বস্তা থেকে ৮ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ছাড়া ইপিজেড মোড় চৌধুরী মার্কেটস্থ অফিসটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছিল । তবে এ বিষয়ে ঐ দিনের ঘটনা উল্লেখ করে ওসি মীর মো. নুরুল হুদা জানান, রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন মাল্টিপারপাস কোম্পানি নামের এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লায়ন মো. মজিবুর রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুছা হাওলাদার। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রাসেল হাওলাদার নামের নাম প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযান প্রসঙ্গে তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশকমিশনারমাহাবুবররহমানবলেন,প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণা করে পোশাক শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডিএমপি ডিবির শক্তিশালী একটি দল রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনমাল্টিপারপাস কোম্পানীর কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। গ্রাহকের টাকা দ্রুত উদ্ধারসহ গ্রেফতারকৃত মুজিবুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply