ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

সঠিক সংক্রমণে সঠিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে – উপ পরিচালক

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ (১৮-২৪ নভেম্বর) ২০২১ এর সমাপনী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা  ২৪ নভেম্বর ২০২১ ইংরেজি বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন লয়েল রোডের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্টিত হয়। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি’র রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কন্টেইনমেন্ট, ভাইরাল হেপাটাইটিস ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর সহযোগিতায় এবারের সচেতনতা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘হাক সচেতনতার বিস্তার, চাই এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স থেকে নিস্তার’। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুমন মুৎসুদ্দী ও সহকারী পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. কমরুল আজাদ।

 

 

 

 

মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য)। সভায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পূর্বে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে একটি র‌্যালি বের করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, সব রোগে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়না, আবার বিনা প্রয়োজনে কোন ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সংক্রমণে সঠিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। এন্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকেনা। এর অপব্যবহার শরীরের জন্য এত মারাত্বক ক্ষতিকর। জ্বর বা জঠিল রোগ হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে পরামর্শ মতে এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ সেবন করতে হবে। এন্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকেনা।

তিনি আরও বলেন, সব ওষুধের পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া থাকে। শুধু অসুস্থ মানুষ নয়, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী ও মাছের ক্ষেত্রেও নিজে নিজে এন্টিমাইক্রেবিয়াল ওষুধ দেয়া যাবেনা। এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হলে শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো মরে যায়। ফলে আর কোন এন্টিবায়োটিক শরীরের জন্য কার্যকর হয়না। এ ব্যাপারে ডাক্তার ও রোগী সাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সভা অন্যান্য বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিক শরীরের জন্য খুবই প্রযোজন। কোন্ রোগের জন্য কোন্ ওষুধ তা নিশ্চিত না হয়ে ওষুধ প্রেসক্রাইব না করতে চিকিৎসকদের আন্তরিক থাকতে হবে। রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে কি না তা চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা বাঞ্চনীয়। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সকল প্রকার ওষুধ বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে ফার্মেসী মালিকদেরকেও আন্তরিক থাকতে হবে। এন্টিবায়োটিকের উপকারিতা-অপকারিতা সম্পর্কে স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করা গেলে মানুষ এর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply