ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৪:২৭ অপরাহ্ণ

রাজশাহীতে রফিক বাহিনীর তান্ডবে অস্থির সাংবাদিক সমাজ : মানববন্ধনে বাঁধা

রাজশাহী ব্যুরো

 

 

 

 

 রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের পরিচালক ড. কামাল হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আবু রেজা আজাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ও কিছু সাংবাদিক সংগঠন। এরপর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ছুটে আসেন সাংবাদিক নামধারি কথিত নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ও তার বাহিনী। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

৩১ অক্টোবর (রোববার) বেলা ১১ টায় রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট গোরহাঙ্গা মোড়ে (শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর) উক্ত মানববন্ধন শুরু হলে কথিত সাংবাদিক নেতা রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বাঁঁধা দেয়। এছাড়াও মানববন্ধনে দাঁড়ানো সাংবাদিকের ধাক্কাধাক্কি করে। এতে উভয় পক্ষের উত্তেজনা বাড়লে জাতীয় দৈনিক গনমুক্তির রাজশাহী ব্যুরো চীফ ও রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম চপল ফোনে ভিডিও করে। এরপর রফিক চপলের ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয় এবং ফোন ভেঙে যায়। তারপর মানববন্ধনে আসা সাংবাদিকদের মারধর করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় রপিক সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা  যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের ভুখন্ড স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে কূটুক্তি করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন। অপরদিকে এমপিও ভুক্তির নামে অনিয়ম দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেন আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের পরিচালক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক আবু রেজা আজাদ। তাদের সেই লোপাটের সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর তারা দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার ব্যুরো প্রধান ফারুক আহমেদ তার বার্তা সম্পাদকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

  এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবসহ জাতীয় চারটি সাংবাদিক সংগঠনের জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ। এ ছাড়াও মানববন্ধনে সুশীল সমাজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে কূটুক্তিকারী শিক্ষা বোর্ড সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবিলম্বে অপসারণসহ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনের বক্তারা। অপরদিকে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের নামে মিথ্যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাকারী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের পরিচালক ও সহকারী পরিচালককে অপসারণ ও দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় মানববন্ধনে। এ ছাড়াও সাংবাদিক নেতারা মানববন্ধনে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুততার সাথে উক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহার না করা হলে, বৃহত্তর আনন্দোলনে যাবেন তারা। এমন সময় মানববন্ধনে অর্তকিত হামলা করেন রফিক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।  দুই কর্মকর্তার  ইন্ধনে রফিকুল ইসলাম সহ অনেকজন এই হামলায় অংশ নেয়। এ হামলায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক সরকার অনুমোদিত জাতীয় দৈনিক রূপালী দেশ প্রিন্ট পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি রেজাউল করিমসহ ৫ জন দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আহত হন। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম,  জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহী শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান সোনা, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম রাজশাহী শাখার সহ সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির রাজশাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি মিজানুর রহমান পাইলট, সাধারণা সম্পাদক সাগর নোমানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অশিত কুমার মৃত, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন আহমদ দিলজিত, এডভোকেট জজ কোর্টের পিপি পূর্নীমা ভট্টাচার্যসহ তার মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মোহনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সাগর প্রমুখ ।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply