ডিসেম্বর ২, ২০২১ ২:৫৬ অপরাহ্ণ

পটিয়ায় বিএনপি নেতা নৌকা প্রতীক দাবি করায় আ’লীগে চরম ক্ষোভ

পটিয়া প্রতিনিধি

 

 

 

 

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের বড় একটি চক্র মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিতে তৎপর বলে নেতা কর্মীরা অভিযোগ  তুলেেছে।

জানা গেছে, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দীন পটিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়ার অনুসারী। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছিলেন এই বিএনপি নেতা।  আসন্ন ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় যুবদলের সাবেক নেতা কামাল উদ্দিনকে আওয়ামী লীগ সাঁঁজিয়ে প্রার্থী করার চেষ্টায়  তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানসহ সিনিয়র নেতাদের সাথে কামাল উদ্দিনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তবে কোন অদৃশ্য শক্তিতে আওয়ামীলীগে প্রবেশ করেছে কেউ সাহস করে জানাতে পারেননি। চলতি মাসের গত ১৬ অক্টোবর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামের তালিকা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের হাতে ইতোমধ্যে পৌছে গেছে। পটিয়া সুগন্ধ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- প্রাক্তন যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ওসমান আলমদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শামসুুদ্দিন আহমদ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার তালুকদার ও আওয়ামী লীগ কর্মী ফজল আহমদ। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, হুইপ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ.ক.ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ প্রার্থীদের মতামত গ্রহণ করেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার ছনহরা, শোভনদন্ডী, ভাটিখাইন, খরনা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি, ধলঘাট, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, কুসুমপুরা ও বড়লিয়া ইউনিয়নে ১৭০ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামের তালিকা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং নৌকা প্রতীক না পেলে বিরোধীতা না করে নৌকার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার নেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ছনহরা ইউনিয়নের কামাল উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ণ ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তৎকালিন বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে কামাল উদ্দীন সাক্ষাৎকার শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত মতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপুকে মনোনয়ন দিলে কামাল উদ্দীনসহ অনেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপির প্রার্থীকে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা দেন এবং বিএনপির প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পটিয়া উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব খোরশেদ আলম নিজে স্বীকার করেছেন কামাল উদ্দিন ছনহরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। এমনকি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ছনহরা ইউপি আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ওসমান আলমদার জানিয়েছেন, একজন যুবদল নেতা কিভাবে নৌকা দাবি করেন তা তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রশ্ন। দলে অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তির কাছে নৌকা নিরাপদ নয় বলে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দাবী করেন। তারা বলছেন, যিনি জীবনে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’বলেছেন কিনা সন্দেহ। এবারও প্রার্থী মনোনয়নে ভুল হলে ছনহরা ইউনিয়নে নৌকার পরাজয় নিশ্চিত।  তবে এ বিষয়ে কামাল উদ্দীন বলেন, আমি নির্বাচন কবর কি করব না সেটা মানসিকভাবে এখনো প্রস্তুত না, যেহেতু গতবার করছি সে হিসেবে দলীয় সিগন্যাল পেলে দেখা যাবে, সময় এখনো বাকী আছে সামনে দেখার বিষয়, আর আমার মা মারা গেছে বেশী দিন হচ্ছে না এ নিয়ে পারিবারিকভাবে শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কামাল চেয়ারম্যান বলেন আমি তো পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply