জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সানজিদুল প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ইয়ুথ ইকোপ্রেনিয়ার অ্যাওয়ার্ডের শর্টলিস্টেড হয়েছেন

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ইকোভেশন বাংলাদেশের (পূর্ব নাম লিটার অফ লাইট বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক সানজিদুল আলম সিবান শান ইয়ুথ ইকোপ্রেনিয়ার অ্যাওয়ার্ডে শর্টলিস্টে জায়গা করে  নিয়েছেন ।”নবায়নযোগ্য শক্তি এবং শক্তি দক্ষতা” ক্যাটগরিতে তাকে শর্টলিস্টেড করা হয়।

বুধবার (২০ অক্টোবার) ইয়ুথ ইকোপ্রেনিয়ার অ্যাওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জার্মানি ভিত্তিক ওয়াইই কমিউনিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার এই পুরষ্কারের আয়োজন করেন। অ্যাওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জানা যায়, সব আবেদনের মধ্য থেকে ৬৫০ জনকে শর্টলিস্টে রাখা হয়েছে। এই পর্যায়ে ইকোভেশন বাংলাদেশের(পূর্ব নাম লিটার অফ লাইট বাংলাদেশ) পক্ষ থেকে সানজিদুল আলম সিবান শান এর প্রোফাইল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষজ্ঞগন প্রোফাইল এবং আবেদনের পর্যালোচনা করে নাম্বার দেবেন এবং তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিলেকশন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ইকোভেশন বাংলাদেশ একটি উদ্ভাবনী গবেষণাভিত্তিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। “উদ্ভাবনই পারে যে কোনও সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে” সেই চিন্তা ধারা থেকেই সানজিদুল আলম ২০১৫ সালে ইকোভেশন বাংলাদেশ শুরু করেছিলেন। তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সুনির্দিষ্টভাবে এসডিজি ৭, এসডিজি ৯, এসডিজি ১১ এবং এসডিজি ১৭ অর্জন করতে কাজ করছে। তাদের উদ্ভাবিত সোলার লাইট বিনামূল্যে আলোকিত করেছে ৯০ হাজার মানুষের জীবন। তাদের প্রজেক্ট লাইটগিভারে স্বেচ্ছাসেবীরা প্লাস্টিক বোতল, বাঁশ, সোলার প্যানেল, ছোট সার্কিট আর ব্যাটারি দিয়ে সোলার ল্যাম্প আর স্ট্রিটলাইট তৈরি করে এবং এসব লাইট যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেসব জায়গা যেমন সমূদ্রতীরবর্তী এলাকা, পাহাড়ি এলাকা, দ্বীপ, বস্তি এবং শরনার্থী ক্যাম্পে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তারা জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে রোহিংগা এবং স্থানীয় তরুণদের স্বনির্ভর করার প্রোগ্রামের আওতায় সোলার লাইট তৈরি শেখাচ্ছে , যাতে তারা লাইট তৈরি করে ক্যাম্পে বিক্রয় করে উপার্জন করতে পারে। তাদের প্রজেক্ট লাইটগিভার এবং সোলার প্রেনেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে তারা ২৭৫০ মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে যেখানে বাংলাদেশে ১৮ কোটি ৮৫ লক্ষ মানুষ কেরোসিন বাতি ব্যবহার করে যা প্রতি বছর ৪৫ হাজার টন কার্বন উৎপাদন করে। তারা কেরোসিনের ব্যবহার কমাতে পেরেছে যা বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক, যেখানে বাংলাদেশে প্রায় ২০০ কোটি লিটার কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। তাদের সুবিধা ভোগীরা প্রায় ১৫ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে জ্বালানি খরচে, গত কয়েক বছরে তারা ৩ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করেছে। ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের পরিকল্পনা অনুসারে তারা রোহিঙ্গা তরুণদের তৈরি প্রায় ১,০০,০০০ সোলার ল্যাম্প এবং স্ট্রিট লাইট সরবরাহ করার লক্ষ্যে কাজ করছে যা প্রায় ৩,০০,০০০ শরনার্থীকে উপকৃত করবে, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ২০০০ সৌর উদ্যোক্তা তৈরি করবে যারা তাদের পরিবারকে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া একই বছরে ১০০ টি স্থানে সোলারযুক্ত পানির ফিল্টার স্থাপন করবে যা প্রায় ১ লক্ষ মানুষের বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য, ইয়ুথ ইকোপ্রেনিয়ার অ্যাওয়ার্ডের স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য, যা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী সমাধান দিতে কাজ করে। এই পুরস্কারটি লক্ষ্য হল গ্রীন ইকোনমি নিয়ে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত এবং সক্রিয় করা। এই অ্যাওয়ার্ডের পুরস্কার হিসেবে ১৫, ০০০ ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি তাদের কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply