ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

খুলশীতে কেয়ার টেকারের দখলে বিধবার সম্পত্তি

খুলশীতে কেয়ারটেকারের দখলে বিধবার সম্পত্তি বন্দর নগরীর খুলশী থানার দক্ষিণ খু্লশী আবাসিক এলাকায় ক্রয়কৃত সম্পতি জবর দখল করে রেখেছে ক্রেতার নিয়োগ করা কেয়ারটেকার। সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য মালিক পক্ষকে প্রতিনিয়ত দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভূমির মালিক পক্ষের লোকজন। জানা যায়, মোছাম্মৎ শামীমা ইসলামের স্বামী এস.এম আরমানুল ইসলাম দক্ষিণ খু্লশী আবাসিক এলাকায় ক্রয় কৃত সম্পত্তি ও ভাড়াঘরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন একই এলাকার নাছির আহম্মদ প্রকাশ কালা নাছিরকে। ভূমির প্রকৃত মালিক আরমানুল ইসলাম তৎস্থিত ভূমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করার কিছুদিন পর সেখানে তদারকি করতে গেলে নাছির আহম্মদ ভূমি মালিকের সাথে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে আরমানুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে রাস্তায় ফেলে দেয় নাছির। ভূমি বেদখল বিষয়ে ঘটনা পরবর্তী তে ৩ সেপ্টেম্বর ১৪ ইংরেজি তারিখে নাছিরকে বিবাদী করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন আরমানুল ইসলাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৫ ইং সালে আরমানুল ইসলামের মৃত্যু হলে আদালত হতে অভিভাবক নিযুক্ত ও সম্পত্তি বিক্রির অনুমতিপ্রাপ্ত হন আরমানুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা ইসলাম। পরবর্তীতে শামীমা ইসলাম তার স্বামীর ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে গেলে কেয়ারটেকার নাছির তাদের অকথ্য গালাগালি ও হুমকি প্রদান করে। উক্ত সম্পত্তিতে হাত বাড়ালে শামীমা ইসলামকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি ও নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নাছির ও তার সঙ্গীরা। এ নিয়ে ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ও নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন শামীমা। এছাড়া খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেন ভুক্তভোগী শামীমা। পরবর্তীতে একই বিষয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট আদালতে মিছ ৩৩/২০২০ মামলটি দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উক্ত সম্পত্তির উপর স্থিতাবস্থা জারী করে আদালত কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করার অপরাধে খুলশী থানার অভিযানে নাছির আহম্মদের ৪ ব্যক্তিকে আটকও করা হয়েছিলো। এই ঘটনার পরবর্তীতে নাছির ও তার অনুসারীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে শামীমা ও তার সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি প্রদান করে। উক্ত ঘটনা উল্লেখ করে শামীমা ইসলাম র্যাব-৭, সিএমপি পুলিশ কমিশনার বরাবরে অভিযোগও দায়ের করেন। বর্তমানে নাছির ও তার অনুসারীদের হুমকির ভয়ে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে শামীমার পরিবার। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শামীমা ইসলাম বলেন, নাছির ছিলো আমাদের কেয়ারটেকার। কেয়ারটেকার থাকা অবস্থায় সে আমাদের সাথে বেইমানী করেছে, তাকে বিশ্বাস করে আমার স্বামী খুলশী এলাকার আমার স্বামীর ক্রয়কৃত সম্পত্তি দেখাশোনা ও ঘরভাড়া উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়। কেয়ারটেকার নাছির আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমার স্বামীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্চিত করে। এতে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।দেশে ও দেশের বাইরে চিকিৎসার পরও ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর আমার স্বামী মারা যান। আমাদের ৩ টি সন্তান আছে। বর্তমানে আমি ও আমার সন্তানেরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার স্বামীর ক্রয়কৃত জায়গা ও ঘর সন্ত্রাসী কেয়ারটেকার নাছির জোর করে দখলে রেখেছে। আমি এসবের প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেছি। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেছি।আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার সন্তানরা যেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাই। এই প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত নাছির আহাম্মদের ব্যবহৃত মোবাইল ০১৯৪২৩২২৭২২ নাম্বারে ফোন করলেও বারবার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply