অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

সন্দ্বীপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থীর সুস্থ ভোট নিয়ে শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে ভোটারেরা আতঙ্কিত !

 মিলাদ মুদ্দাসসির – সন্দ্বীপ প্রতিনিধি

 

 

 

সন্দ্বীপ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। উপজেলার ইউনিয়ন সমুহের ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুকিপুর্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপুর্ণ ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীও ভোটারেরা । প্রশাসন বলছেন ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত হবে। বারটি ইউনিয়নের ১১৯ টি ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৭৫ টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করছে প্রশাসন । কেন্দ্র গুলোর উল্লেখ যোগ্য হলো- সারিকাইত ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র , মাইটভাংগা ইউনিয়নের ৮ টি কেন্দ্র ঝুঁকি পূর্ণ নুরের হাট সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, মাইটভাংগা উচ্চ বিদ্যালয়, জুমিনিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, পূর্ব মাইটভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ , মুছাপুর ইউনিয়নে আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, জেবুনুর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয় এবং মুছাপুর ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র মুছাপুর আজগর হাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মুছাপুর ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জনাব নুর হোসেন বাবলু নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য মেম্বার প্রার্থী ও সমর্থকদের কাছ থেকে হুমকি-ধুমকি এবং সন্ত্রাসী হামলার ভয় প্রদর্শনের অভিযোগ জানান বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব-সন্দ্বীপ শাখার যুগ্ন আহবায়ক জনাব মিলাদ মুদ্দাসসিরসহ অন্যন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের কাছে। মুছাপুর ৯ নং ওয়ার্ডের অন্যন্য প্রার্থীরাও একে অপরের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ করছেন। হারামিয়া ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ড মুস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসা কেন্দ্র এই ইউনিয়নে এই কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন সন্ত্রাসীদের মহড়া চলে সন্দ্বীপে ঝুঁকি পূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে এই কেন্দ্র টি প্রথম, বাউরিয়া ইউনিয়নে ৫ নং চর বাউরিয়া কেন্দ্র, এদিকে আমানউল্লাহ গাছুয়া সন্তোষপুর হরিশপুর রহমতপুর আজিমপুর ইউনিয়নে নৌকার পাশাপাশি রয়েছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসব ইউনিয়নে ত্রিমুখী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে, বিশেষ করে আমানউল্লাহ ইউনিয়নে নৌকার পাশাপাশি দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় এখানে ভোটারেরা রয়েছেন দুচিন্তায়। এই ইউনিয়নের সবকয়টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত। সন্দ্বীপ উপজেলায় হারামিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার মাসুদ বলেন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবো কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি। আমানউল্লাহ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন প্রশাসন নির্বাচন সুস্থ করতে পারলে আমার জয় সুনিশ্চিত মাইটভাংগা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইল হোসেন মনি বলেন সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান। হারামিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী কাজী রাকিবুল আহসান সুস্থ ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন করেন। মাইটভাংগা ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী হাজী মোক্তাদের জামান সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকা। মাইটভাংগা ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সজিব নন্দী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে খুবই চিন্তিত, সংখ্যা লুগু এলাকা হওয়ায় এ কেন্দ্র টি ঝুঁকি পূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত, আমার প্রতিদন্দী প্রার্থী প্রশাসনের কাছে একজন চিহ্নিত লোক কিছুদিন আগে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে গ্রেফতার হলে ও তার ছেলে মুক্তি পেয়ে যায়। জয়িতা পুরস্কার প্রাপ্ত ৭/৮/৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শংকরী রাণী শীল সুষ্ঠ নির্বাচনের শঙ্কায় আছেন তিনি বলেন ওয়াডের ভোটারদের ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চান প্রশাসনের কাছে । একই সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল হাশেম। ২ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মোঃ তসলিম বলেন আমার এলাকার হিন্দু ভোটার বেশি তারা যাতে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে প্রসাশনের কাছে সে সহযোগিতা চান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন গত ১১ এপ্রিল প্রথম দফায় সন্দ্বীপ সহ দেশের ৩২৩টি ইউপি ‘ র নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু করোনা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় সে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ২য় দফায় ২১ জুন ২০৪ টি ইউপি ‘ র নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলে করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাও বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষ দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটলে নির্বাচন কমিশন এবার ২০ সেপ্টেম্বর স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনের তারিখ পুণঃঘোষণা করে,ফলে সন্দ্বীপের বিভিন্ন ইউপিতে শুরু হয়ে যায় নির্বাচনী তৎপরতা। তবে দুই দফায় ভোট গ্রহন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ প্রার্থীই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন, তাই নির্বাচনী প্রচরনায় নেই সেই জৌলুশ।অনেকটা দায়সারা গোছের নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়ছে। তবে বসে নেই নির্বাচন কার্যালয়, সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাচনী অফিসার মোঃ আবদুল কাদের এ প্রতিবেদক কে জানান- সন্দ্বীপের ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৪৫ জন নারী -পুরুষ ভোটারের জন্য মোট ১১৯ টি ভোট কেন্দ্রের জন্য ১১৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার,৫১২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১০২৪ জন পোলিং অফিসার ইতিমধ্যে নিয়োগদান সম্পন্ন করেছে এবং এদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচীও গ্রহন করেছেন। ১২ ইউনিয়নের মধ্যে সারিকাইত,মগধরা,বাউরিয়া ও হারামিয়া এ ৪ ইউনিয়নে কোনো প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী না থাকায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে না। বাকী ৮ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র- ১০ প্রার্থী সহ আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী- ৮ জন। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোট- ৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের কোনো প্রতিদ্বন্ধি নেই, সাধারন সদস্য পদে মোট- ৪১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের কোন প্রতিদ্বন্ধি নেই বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তা আবদুল বাচেত বলেন অধিক ঝুঁকিপুর্ণ ভোট কেন্দ্র গুলোতে আমাদের স্পেশাল ফোর্স থাকবে।ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কাছা কাছি ক্যাম্প স্থাপন করা জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আমরা মিটিং করে রেখেছি। রিটানিং কর্মকর্তা ডাক্তার আলী আজম বলেন আমরা সুস্থ নির্বাচন করার জন্য যা যা করার দরকার তাই করবো। সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহম্মদ খান বলেন নির্বচনে আমাদের প্রতি কেন্দ্র ৫ জন পুলিশ ১ জন করে প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি ইউনিয়নে ১ জন করে ম ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে এবং স্টাকিং ফোর্স থাকবে , ঝুঁকিপুর্ণ কেন্দ্র গুলোতে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন থাকবে। পাশাপাশি ভ্র্যামম্যান আদালত, ষ্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply