ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীতে প্রতিনিয়ত নিধন হচ্ছে গর্জন গাছ! নিরব বন বিভাগ।

বাঁশখালী প্রতিনিধি

 

 

 

 

চট্টগ্রাম বাঁশখালী’র পূর্ব অঞ্চলে রয়েছে সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা। এই পাহাড়ী জনপথে রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বন বিভাগের আওতাধীন নানা ধরনের গাছ। তবে সরকারি নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে বরাবরের মত সরকারী গর্জন গাছ গুলো নিধন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী বনদস্যু। সরকারিভাবে বন বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় অভিয়ান পরিচালনা করলে ও কোন ধরনের সুরহা করতে পারছে বলে জানান তারা। জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার জঙ্গল জলদী পাহাড়ে নানা ধরনের সরকারী গাছ রয়েছে। গভীর রাতে কিছু বনদস্যু বন বিভাগের সাথে মিলিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারী গাছ গুলো কর্তন করে বিক্রি করে দিচ্ছে। আরও জানা যায় বিশেষ করে গর্জন গাছ গুলো অনেক দামী হওয়াতে যে কোন ভাবে দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের লোকের সাথে মিলে গাছ গুলো কাটা হচ্ছে। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, আমাদের এখানে গভীর রাতে ফরেস্টরকে টাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারী গর্জন গাছ সহ নানা ধরনের গাছ গুলো কাটা হয়। কারণ, এই গাছ গুলো বাঁশখালীর বাংলাবাজার, শেখেরখীলসহ নানা লোকেশনে ভালো দামে বিক্রি হয়। প্রতি ৪০ ফিট লম্বা একটি গাছ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে। এই ধরনের গাছ গুলো দেখে আমরা কয়েকবার ফরেস্ট অফিসের বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগকে কল দিলে কিংবা সরাসরি গাছ কর্তনের বিষয়ে জানালে তারা বিষয়টি জেনে ও না জানার মত করে নানা ওযু হাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। এই বিষয়ে আমরা ফেইবসুক সহ নানা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করলে তারা গাছ গুলো ফরেষ্ট অফিসে নিয়ে যায় তবে গাছ গুলো কে কাটল তার বিরুদ্ধে মামলা করে না। অন্য দিকে আমাদের হুমকি দে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আমরা গাছ গুলো কাটতে দেখেছি তবে আমরা নাম বলতে পারবো না। তারা এতই ভয়ংকর পরে আমাদের জানে মেরে ফেলবে। অন্য দিকে একটি রেঞ্জার একটি মানুষ যদি সরকারী ভাবে তিনটি দায়িত্বে থাকে তাহলে কেমন করে এসব নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনটি পদে থাকার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, তিনি দক্ষিণ বাঁশখালীর জলদী,চাম্বল,পুইছড়ি সহ মিলিয়ে তিনি একাই তিনটি পদের দায়িত্বে আছেন। জলদী পৌরসভার দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকতা কবির বলেন, কে গাছ কাটল আমি দেখে আপনাকে জানাচ্ছি ত্রিশ মিনিটের মধ্যে তবে যদি গর্জন গাছ কেটে থাকলে আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মামলা করে দিবো। গত ছয় মাসে স্থানীয় বনদস্যু মোবারক, আসহাব উদ্দীন, মালেক,নাছির এই সবার জন্য গাছ কাটার মামলা হয়েছে। তবে নতুন করে যদি আবার কেউ গাছ কাটে তাহলে আমরা আবার ও তদন্ত করে মামলা দিবো বলে আশ্বাস দেন তিনি। আমার জানা মতে এখন যে সরকারি গর্জন গাছ গুলো রয়েছে সেগুলো ১৯৭৮ সনের রোপন করা গাছ। সাইজে বেশ বড় বড় হয়েছে। স্থানীয় আরও অনেক লোকজন এই গাছ কাটার সাথে জড়িত রয়েছে বলে আমরা দেখতেছি সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া বন, সড়কের পাশের ও পাবলিক প্লেসের গাছ কাটলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০১২’ সংসদে উত্থাপন হলে ও চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে এই ধরনের আইনের প্রয়োগ কখনো দেখা মিলেনি। অন্যদিকে দেশের জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশ ও পরিবেশন সংরক্ষণে সরকারি জমিতে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ সংরক্ষণ করতেই এ বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত বিলের ৪ ধারার ২ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, সরকার যদি সংরক্ষণযোগ্য কোন গাছ কাটার অনুমতি দেয় তবে শর্ত হিসেবে প্রতি একটি গাছ কাটার বিপরীতে তিনটি গাছ লাগানোর শর্ত দিতে হবে। একই ধারার ৪ উপ-ধারায় বলা হয়েছে- পাবলিক প্লেসের কোনো গাছ শুকিয়ে গেলে বা মরে গেলে পাখি অথবা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে ওই গাছটি সংরক্ষণ করতে হবে। তবে গাছটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সরকারের অনুমতি নিয়ে সেটি সরিয়ে ফেলা যাবে। এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা পড়ে যাওয়া গাছ স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে সরানো যাবে। বিলের ৫ ধারায় বলা হয়েছে- কোন ব্যক্তি এ আইনের লঙ্ঘন করলে বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদন্ড ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানায় দন্ডিত হবেন। আরও বলা হয়েছে, যদি কোন সরকারি দফতর বা বিভাগের কেউ এ আইন লঙ্ঘণ করে তবে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ওই বিভাগের প্রধানকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এক্ষেত্রে যদি দোষী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রমাণ দিতে পারেন যে- এ আইনের লঙ্ঘন তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে এবং তিনি গাছ কাটার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন, তবে তাকে দোষী করা হবে না। বিলের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সরকারি কর্মকর্তা যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করে তবে ওই কর্মকর্তা দোষী বলে গণ্য হবেন। এ অপরাধের জন্য ওই কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ মাসের জেল ও ২০ হাজার টাকার জরিমানা হবে। এইসব বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করতে বাঁশখালীর কর্মরত রেঞ্জ অফিসার অনিছুজামান শেখ মোবাইলফোনে বলেন, আপনার সাথে বিট অফিসার কথা বলবে, তবে গত ছয় মাসে কয়টি মামলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দশ থেকে পনেরটি মামলা হয়েছে। কিছু সরকারী গাছ কাটা নিয়ে বাকি গুলো পাহাড় কাটা নিয়ে। বাঁশখালীতে একাই তিনটি পদের দায়িত্ব থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,আমি পুইছড়ির ভারপ্রাপ্ত হিসাবে আছি, চাম্বালের বিট কর্মকতা হিসাবে আছি সেইসাথে জলদী রেঞ্জটা দেখি আরকি। সরকার যদি নতুন লোক নিয়োগ দেয় তাইলে আমি পদ গুলো ছেড়ে দিবো। এত গুলো পদ আমার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply