ডিসেম্বর ৩, ২০২১ ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

বাগমারায় সরকারি নির্দেশনাকে অবমাননা করে জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষকের গাফিলতি

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসকে অবমাননা করে ড্রপডাউন ব্যানার বা ফেষ্টুন না টানানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব নাইমা আফরোজ ইমা সাক্ষরিত একটি চিঠি/নোটিশ জারি হয়। যার স্মারক নং – ৪০.০০. ০০০০.০১১.৩৬.০৯১.১৯.১০৬। ঐ চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৬ তম শাহাদতবার্ষিকী ও ১৫ আগষ্টের সকল শহীদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে ১লা আগষ্ট ২০২১ থেকে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমুহ ভবনে ড্রপডাউন ( ভবনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত) ব্যানার টানানো বা ঝুলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পর থেকে পুরো দেশ যখন ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে ব্যস্ত, ঠিক তখন বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের মুগাইপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ আল আসাদ ওরফে হাফিজ মাষ্টার এই নির্দেশনাকে অবমাননা করে জাতীয় শোক দিবসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্মদিন পালনে ব্যস্ত। ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরকারের এমন নির্দেশনা পাওয়ার পরও এই রক্তঝরা আগষ্টকে অবমূল্যায়ন করে তিনি কোন শোক দিবসের ব্যানার টানান নি। পরে নিরুপায় হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান সরদার জান মোহাম্মদের নির্দেশে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মীরা সেই স্কুলের সামনে খুটি পুঁতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ব্যানার টানায়। এখানেও ঐ শিক্ষক ও তার দলীয় লোকজন নিয়ে বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে কুট পরামর্শে ব্যস্ত। বিষয়টি নিয়ে মুগাইপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাষ্টারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জাতীয় শোক দিবসকে অবমাননা করাকে নিয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ছে পুরো আউচপাড়া ইউনিয়ন সহ বাগমারা উপজেলা। বিষয়টি নিয়ে আউচপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান সরদার জান মোহাম্মদের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সহ এই উপজেলার পুরো আওয়ামী লীগ পরিবার হতবম্ভ হয়েছে মুগাইপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাষ্টারের এমন অবমাননাকর কার্যকলাপে। যে মানুষের জন্ম নাহলে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। স্বাধীন কন্ঠে কথা বলতে পারতাম না। অথচ সেই মানুষটিকে ও তার পরিবারকে অসম্মান করছে এই শিক্ষক। আমি ঐ শিক্ষক অর্থাৎ হাফিজ মাষ্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি চাকরিচ্যুতি বা অপসারণের জোর দাবী জানাচ্ছি। এই বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মানিত জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের ব্যানার টানাতে হবে। কিস্তু ঐ স্কুল বা শিক্ষক কেন টানাই নি তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply