ডিসেম্বর ৫, ২০২১ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

রাজশাহী নগরীতে আত্নহত্যার নামে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ 

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী নগরীর বসুয়া এলাকায় সুমাইয়া নামের এক ১৩ বছরের কিশরীর আত্নহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তবে এলাকাবাসির অভিযোগ এটি আত্নহত্যা নয় পরিকল্পিত হত্যা।
৮ আগষ্ট রবিবার মহনগরীর হড়গ্রাম ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড বসুয়া পশ্চিমপাড়া মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম খান এর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। জানাযায়, সুমাইয়া, নজরুল খানের বাড়িতে দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করত।  সুমাইয়ার পিতার নাম কালা সিকদার, গ্রামের বাড়ি, গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার লাখন্দ গ্রামে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার বিকাল আনুমানিক ৫.৩০ মিনিটে মুদি ব্যবসায়ী নজরুলের বাড়ি সংলগ্ন গরুর খামারে সুমাইয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসি। পরে জানাজানি হলে থানা পুলিশকে খবর দেয় এবং রাজপাড়া থানা পুলিশ উপস্থিত হয়। পরে সুরুতহাল রিপোর্ট সম্পুর্ন করে মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এরপর থেকে এই পরিকল্পিত হত্যাকে ধামাচাপা দিতে মরিয়া বাড়ি মালিক নজরুল ইসলাম ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কারন তখনো ঘটনাটি জানেনা কোন মিডিয়া কর্মী। পরের দিন মিডিয়াকর্মীরা জানতে পারলে ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহে যায় এবং নজরুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এড়িয়ে যান। নজরুল বলে আমি কিছু জানিনা। পরে  স্থানীয় লোকের জেরার মুখে পড়েন নজরুল।এক পর্যায়ে তিনি বলেন এই সুমাইয়া তার শালিকা হয়। কিন্তু কেন আত্নহত্যা করেছে তিনি জানেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে হড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মুস্তাফিজুর রহমান জিয়ার সাথে কথা বললে। তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার পর পুলিশকে অবগত করি এবং পুলিশ আসলে তাদের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। গিয়ে দেখি ওড়না প্যাচিয়ে হাটুগাঁড়া অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ ঝুলছে। মরদেহটি দেখে মনে হচ্ছে না যে, এটি আত্নহত্যা। মনে হচ্ছে পুরো  পরিকল্পিত হত্যা। কারন যেটার সাথে ঝুলন্ত ছিল সেটি হালকা কাঠের বাতা মাত্র। আর যে জায়গায় ঝুলন্ত ছিল, সেখানকার উচ্চতা প্রায় ৭ ফিট। কিন্তু মেয়েটি যে ওড়না দিয়ে ঝুলেছে সেটি তিন ফিট এবং দেহ পাঁচ ফিট ছিল। তাই সে মেয়েটি ওখানে আত্নহত্যা করেছে এটা বিশ্বাস যোগ্য না। তারপরও পুলিশ আছে তদন্ত করে আসল তথ্য খুঁজে বের করবে।
কিন্তু এলাকাবাসির দাবী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।  এই হত্যার সাথে বাড়ি ওয়ালা জড়িত রয়েছে। বাড়ি ওয়ালাকে গ্রেফতার করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এবিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর আমি সহ আমার পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সহ মরদেহর সুরুতহাল সম্পুর্ন করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। পরে বাড়ি মালিক একটি ইউডি মামলা করে। কিন্তু মেয়েটির পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। তবুও মৃত্যুটি নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে, তাই মরদেহটি পোষ্টমর্টেমে পাঠানো হয়েছে। পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে মৃত্যুর কারন।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply