সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

পরী মনির জলসায় কারা যেতেন ?

আলোচিত চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি।  র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় সন্ধান মিলেছে মিনি বারের আলামত। তার জলসা ঘরে কারা যেতেন এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। দিনে ও রাত ক্লাব, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউসে ঘুরে বেড়ানো পরীমনির রঙমহল ঘিরে ধনীর দুলালদের আড্ডা জমত প্রায় রাতে। নামি দামি ব্রান্ডের গাড়ি হাঁকিয়ে সমাজের অনেক চেনামুখ অতিথি হতেন তার। তারকা হোটেলগুলোতে স্যুট বুকিং হতো তার জন্য। পরীমনির ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার বাসায় মিলেছে নারীসঙ্গ কাটানোর বিশেষ ধরনের খাট! পরীমনির ঘনিষ্ঠ কারা এবং নিয়মিত কাদের যোগাযোগ ও যাতায়াত ছিল তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটকের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

এদিকে র‌্যাবের হাতে বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মোহাম্মদপুরের মরিয়ম আক্তার মৌয়ের রঙমহলে কারা যেতেন তাও এখন আলোচনায়। পিয়াসার ঘনিষ্ঠ মিশু হাসান নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিয়াসা ও মৌয়ের জাল বেশ বিস্তৃত। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতানো তাদের নেশা এবং পেশায় পরিণত হয়েছিল। দেশের নামিদামি প্রায় সব ব্যবসায়ী পরিবারেই তাদের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছিল।
র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেছেন, পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তিনি ২০১৪ সালে সিনেমা জগতে আসেন। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও ৫/৭টি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। তাকে পিরোজপুর থেকে ঢাকার সিনেমা জগতে আনেন আটক হওয়া প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানান, ২০১৬ থেকে তিনি নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করেন। মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে তিনি বাসায় একটি মিনি বার করেছেন। মিনিবার থাকায় তার বাসায় পার্টির আয়োজন করা হতো। সেই পার্টিতে বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করতেন রাজ। গ্রেপ্তার হওয়া মো. নজরুল ইসলাম রাজসহ আরো অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ এবং পার্টিতে অংশ নিতেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে ৮ বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, ২টি সিভাস সিগ্যাল, ২টি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, ২টি গ্যানলিভেট, একটি  গ্যান ফিডিচ বোতল। এ ছাড়া এই অভিনেত্রীর বাসা থেকে জব্দ হয়েছে ৪ গ্রাম আইস ও এক স্লট ভয়ংকর মাদক এলএসডি। জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে। আর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জব্দ তালিকা অনুযায়ী, তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্যানলিভেট, ২টি গ্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল। এর বাইরে সিসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সিসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সিসা তামাক, সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দ তালিকায়। এ ছাড়া, বেআইনি যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে। পরীমনি ও রাজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। মাদক, পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এসব মামলা রুজু হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হয়।
র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক সূত্র বলেছে, পরীমনির যাতায়াত ছিল উঁচু তলায়। সমাজের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্য। তাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। ২৪টি সিনেমার মধ্যে ২২টি ফ্লপ হলেও তার বিলাসী জীবনের নেপথ্যে এরা তার অর্থের জোগান দিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ি ক্ষতি হওয়ার পর ৩ কোটি টাকা মূল্যে গাড়ি কেনার নেপথ্যে এক ধনীর দুলালের নাম আলোচিত হয়েছে। চলচ্চিত্র ঘনিষ্ঠ কারাবন্দি এক যুবলীগ নেতার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন দুবাই, সিংগাপুর।
বনানীর লেকভিউ ১৯/এ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়ির যে ফ্ল্যাটে পরীমনি থাকতেন সেখানে রাতের অন্ধকারে কারা যেতেন তার একটি তালিকা করেছে র‌্যাব। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনির কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বাহিনীটি বলছে, বিভিন্ন পার্টিতে যোগ দিয়ে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে বিপুল অর্থ আয় করেছেন এই অভিনেত্রী। চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ এবং মিশু হাসান নামে এক ব্যক্তির হাত ধরে পরীমনি অর্থের জোগান পান বলে জিজ্ঞাসাদে উঠে এসেছে। পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান শেষে বুধবার রাতে তাকে নিজেদের জিম্মায় ব্যাবের হেডকোয়ার্টার্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিনেত্রীর বাসায় অভিযান শেষ হতেই বনানীতে চালিয়ে আটক করা হয় রাজকে। র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে মাঝরাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। র‌্যাব জানতে পেরেছে, বিপুল পরিমাণ অর্থের কারণে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন পরীমনি। বিভিন্ন মহলের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন তিনি। এদের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বনানীর জি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাসা যেন আরেক জগৎ। সেখানে আলো-আঁধারির খেলায় অনেক তারকা নিজেকে বিলিয়ে দেয়। ডিজে পার্টির নামে উড়ানো হয় টাকা। পরীমনির ঘনিষ্ঠ জিসান রিমান্ডে রয়েছেন। রাতের আড্ডার নিয়মিত অতিথি তিনি। পরীর সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও তার সহযোগী সবুজ মিয়া এসব অপকর্মের খবর রাখতেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র মতে, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন পার্টি, তাদের আয়োজক ও কয়েকজন বিতর্কিত সেলিব্রেটির কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় একটি সিন্ডিকেটের তথ্য পায় তারা। যে সিন্ডিকেটে পরিচিত সেলিব্রেটিসহ, উঠতি মডেল এমন অনেক নারী জড়িত। তারা সবসময় মাদকের সংস্পর্শে থাকে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে নানা সময় ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা হাতানোর মতো কাজও করেছে। সেই সঙ্গে তাদের নিজেদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণেও কাউকে কাউকে নজরদারিতে আনে র‌্যাব। র‌্যাবের একটি সূত্রের দাবি, পরীমনির মোবাইল ফোনে অনেক বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যবসায়ীর নাম মিলেছে। রয়েছে স্টিল ছবি ও ভিডিও। মিলেছে ভয়েস রেকর্ড। এসবের সূত্রে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ল্যাব। পুরুষদের পাশাপাশি কোনো কোনো তারকা তার এসব কাজে সায় দিয়েছে তাদেরও আটকে অভিযান চলবে বলে জানা গেছে। বোট ক্লাব কান্ডে আটক ব্যবসায়ী তুহিন ইসলাম অমি ছিলেন পরীমনির ঘনিষ্ঠ। জেদের বশে পরীমনি তাকে ধরিয়ে দেন বলেও পুলিশ তথ্য পেয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি ব্রান্ডের দামি মদ সংগ্রহ করা পরীমনির শখ। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি এসব সংগ্রহ করতেন। ব্যবসায়ী ও ঘনিষ্ঠরা এগুলো নিয়ে যেতেন তার বাসায়। বিদেশে গেলে ডিউটি ফ্রি শপ থেকেও তিনি মদ নিয়ে আসতেন। ঢাকার অভিজাত ক্লাবগুলোতে তিনি যেতেন বিভিন্নজনের রেফারেন্সে। ক্লাবের ওইসব সদস্যদের কাছ থেকেও তিনি মদ নিতেন। নিয়মিত পানের পাশাপাশি গড়ে তুলেন সংগ্রহশালা। আর নিজের ফ্ল্যাট সাজান বারের আদলে।
প্রসঙ্গত, পিরোজপুরে এসএসসির গণ্ডি পেরোনো পরীমণির প্রথম সিনেমা ‘ভালোবাসা সীমাহীন’-এর প্রযোজক ছিলেন নজরুল ইসলাম রাজ। তার হাত ধরেই নাটক থেকে সিনেমায় নাম লেখান পরীমণি। নজরুল ইসলাম রাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম রাজ মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন হাউস।

                                                                                                            পরীর যত বিয়ে ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

পরীমনি ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন পরী। মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছিলেন।

তবে সিনে জগতের প্রবেশের আগে পরে তার একাধিক বিয়ে ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা শোনা যায় তাকে ঘিরে।

২০০৭ সালের দিকে পরীমনির মা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর বাবার সঙ্গে সাভারে বসবাস শুরু করেন পরীমনি। মাঝে মাঝে বরিশালে নানা বাড়ি গিয়ে থাকতেন। সেখানে মাসুদ নামের দূর-সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে প্রেম ও পরে বিয়ে হয়।
একদিন নানা বাড়ি থেকে মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। ১ মাস পর আবারও বরিশালে ফিরে আসেন। এরপর বিচ্ছেদ হয় মাসুদের সঙ্গে।

২০১১ সালের দিকে বাবার সঙ্গে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় বসবাস শুরু করেন পরীমনি। এ সময় সাভার কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত ক্লাস করতেন না।

২০১২ সালের শুরুর দিকে সিলেটে তার বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় বলে পরীমনির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়। ধারণা করা হয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ তাকে খুন করে। এরপর থেকে পরী সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতে শুরু করেন।

এরপর ২০১১ সাল থেকে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন। নাচ করতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এভাবে সুযোগ পান টিভি নাটকে অভিনয়ের। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ নামের নাটকে দেখা গেছে তাকে। এরপর ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নামে একটি নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।

২০১৪ সালের দিকে তার সঙ্গে পরিচয় হয় কথিত প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের। রাজই তাকে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। এরপর থেকে রাজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় পরীর।

ওই সময় নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন পরী। কিন্তু ছবিটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর রাজই প্রযোজক হয়ে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ নামের একটি ছবি। ছবিতে নায়ক ছিলেন জায়েদ খান। এটিই পরীর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি।

সে সময়ই সিনেমাপাড়ায় তাকে নিয়ে ঘটে যায় হুলুস্থুল কাণ্ড। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ১৯টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন পরী। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেপরোয়া জীবন। নজরুলের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। সেখানে প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল।

অভিনয় জীবন ছাড়া ব্যক্তিজীবন নিয়েও বিতর্কিত এ নায়িকা। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় পরীমনির সঙ্গে দুজনের বিয়ের খবর। এমনকি বিয়ের ছবি, কাবিননামা ও তালাকনামার ছবিও প্রকাশ পায় ফেসবুকে। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকালে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু ছবি শেয়ার দিয়ে দাবি করা হয়, পরীমনি ইসমাইল নামের একজনের স্ত্রী।

কিছুদিন পরেই ফেসবুকে পাওয়া যায় সৌরভ কবীর নামের আরও একজনের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামা এবং কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি। ছবিতে অভিষেক হওয়ার ঠিক আগের দুই বছর অর্থাৎ নাটকে অভিনয় করার সময় সেতু নামের এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তারা দুই বছর সংসারও করেছিলেন।

২০১৭ সালে তামিম হাসান নামের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানা যায়। বাগদানও হয়েছিল। তামিমকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন দেশে ঘুরতেও গিয়েছেন পরী। দুই বছর প্রেমের পর ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। সর্বশেষ অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনার দিনও তার সঙ্গে তামিমের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এরপর  ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে তার সহকারী কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। কিন্তু সে বিয়েও ৫ মাসের মাথায় ভেঙে যায়।

এছাড়া ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পলাতক আসামি বিতর্কিত ব্যবসায়ী চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আজিজ তাকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া ছবিতে অভিনয় করা কালেই তার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পরী তার ছত্রছায়ায় ছিলেন। বিভিন্ন কারণে সেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কিছু শিল্পপতির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply