অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

ফেসবুকের গরু-ছাগলের কথাবার্তার ওপর ডিপেন্ড করে সারা দুনিয়া চলে না।’

পূবা ডেক্স

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, একটি উদ্বোধনী খাম এবং একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন।
কিন্তু প্রকাশ করা স্মারক ডাকটিকিট ও খামে ব্র্যাকেটবন্দি সাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা।
তবে এই সমালোচনাকে একেবারে গায়ে মাখছেন না স্মারক ডাকটিকিট ও খাম প্রকাশের দায়িত্বে থাকা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। উল্টো তিনি বলছেন, যারা সমালোচনা করছেন তারা ‘গরু-ছাগল’।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মবার্ষিকীতে মঙ্গলবার প্রকাশ করা খাম ও ডাকটিকিটে ব্র্যাকেটবন্দি করে লেখা হয়েছে (১৯৭১-২০২১)। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাকারীরা বলছেন, কোনো মৃত ব্যক্তির আয়ুষ্কাল বোঝাতে এভাবে ব্র্যাকেটবন্দি সাল লেখা হয়।
শিক্ষার্থী রেজওয়ান আরাফ নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘কিন্তু একটা বিষয় না বলে পারছি না। মানে অনেক চেষ্টা করেছি মাথা থেকে ব্যাপারটা সরানোর কিন্তু পারিনি। সজীব ওয়াজেদ জয় স্যারের নামের নিচে যেভাবে ১৯৭১-২০২১ লেখা আছে, এটা নিয়ে বলতে চাইছি।
‘ইয়ে মানে, এভাবে সাধারণত মৃত মানুষদের বেলায় লেখা হয়। যেমন- (এপিটাফে) সম্রাট আকবর, ১৫৪২-১৬০৫। মানে এ রকমই আর কি…
‘ডাক বিভাগ হয়ত আবেগে লিখে ফেলেছে। যাই হোক৷ আশা করি এই ভুল শুধরে নেবেন উনারা। নয়ত মাতাল বাঙালি আবার কখন কি বুঝে নিয়ে কি মজা করে বসে বলা মুশকিল…’
এই পোস্টটিও কপি-পেস্ট করে নিজের টাইমলাইনে দিয়েছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী। আরও অনেকে এ ঘটনার নিন্দা ও আপত্তি জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বুধবার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এটা কোন বাংলা ভাষায় বলা হয়েছে যে, ব্র্যাকেটে যদি সাল দেয়া হয় সেটি জন্ম সাল ও মৃত্যু সাল বোঝায়?’
কারও জন্ম ও মৃত্যু সাল বোঝাতে বাংলা ভাষায় এভাবে লেখার চল সম্পর্কে নেটিজেনের বক্তব্য মন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা কোথায় কমন প্র্যাকটিস? ওপরে যে লেখা আছে ৫০তম জন্মবার্ষিকী, সেটা যদি না পড়ে, তাহলে তো গরু-ছাগল বলা উচিত। এখানে জন্ম-মৃত্যু খুঁজতে যাবেন কেন? আমরা কি জন্ম-মৃত্যু লিখে দিছি?’
বিভিন্ন পাঠ্যবইসহ নানা লেখায় একজন মানুষের জন্ম-মৃত্যুর সাল বোঝাতে ব্রাকেটবন্দি লেখার চর্চা আছে, এমন তথ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘টেক্সট বই বা অন্য কোথাও যা-ই হোক, আমরা এখানে যেটা বলেছি সেটা একট সন উল্লেখ করে, সেটা কিসের সন সেটাও উল্লেখ করে দিয়েছি। আপনি জন্ম-মৃত্যু বানাতে যান কেন?
‘বাংলা ভাষা কি আপনাকে বলেছে যে ব্র্যাকেটের ভেতর সাল দিলে ওইটা জন্ম ও মৃত্যুই কেবলমাত্র বোঝাবে? আমরা কি লিখে দিয়েছি এখানে জন্ম আর মৃত্যু?’
তিনি বলেন, ‘আমি তো নিচে লিখে দিয়েছি। আমি স্পষ্ট করে এটা লিখে দিয়েছি যে, এটা হচ্ছে ৫০তম জন্মবার্ষিকী। এবং ৫০তম জন্মবার্ষিকী কত সাল থেকে কত সাল সেটা উল্লেখ করা।’
সে ক্ষেত্রে কোনো প্রয়াত বিশিষ্ট মানুষের স্মরণে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের সময় কীভাবে সাল লেখা হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জন্ম-মৃত্যু লিখে দেব তখন। আমি লিখে দেব জন্ম এত, মৃত্যু এত।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কবরস্থানে গিয়ে যদি দেখেন, তাহলে সাল যখন লেখে, তখন লিখে দেয় জন্ম এত, মৃত্যু এত। আমি কী লিখেছি? আমি লিখেছি ৫০তম জন্মবার্ষিকী। ৫০তম জন্মবার্ষিকী যদি না লিখতাম তাহলে বুঝতেন যে, এটা জন্ম ও মৃত্যু হয়ে গেছে। আমি স্পষ্ট করে সাল যাতে বোঝা যায়, সেটা লিখে দিয়েছি যে এটা ৫০তম জন্মবার্ষিকী।‘
প্রশ্ন ছুড়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিজে নিজে কেন ওখানে জন্ম শব্দ বসাচ্ছেন, মৃত্যু শব্দ বসাচ্ছেন? কোন যুক্তিতে?’
নিজেকে বাংলা সাহিত্যের একজন ছাত্র দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলার ছাত্র। আমি লেখাপড়া করেই আসছি। এবং বাংলার ছাত্র এটা বলে নাই যে, সাল উল্লেখ করলে ওটাই জন্ম এবং মৃত্যু হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘একটু জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে যদি কেউ দেখে, তাহলে স্পষ্ট করে বুঝতে পারবে। আমরা যদি ওখানে এটার বিবরণটা না দিতাম তাহলে বলতে পারত। আমরা ওপরে লিখেছি ৫০তম জন্মবার্ষিকী, তারপর লিখেছি কত সাল থেকে কত সাল। অর্থাৎ ৫০তম জন্মবার্ষিকীটা কত সাল থেকে কত সাল। জন্ম-মৃত্যু এখানে কোত্থেকে আসল?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা নিয়ে খুব সমালোচনা হচ্ছে জানালে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে গরু-ছাগলরাও কথাবার্তা বলেন। ফেসবুকের গরু-ছাগলের কথাবার্তার ওপর ডিপেন্ড করে সারা দুনিয়া চলে না। ফেসবুকে গালিগালাজ থেকে আরম্ভ করে সবকিছু করে। এগুলো যেসব লোকজন করতেছে তাদের মূর্খতা ছাড়া আমার আর কিছু বলার থাকবে না।’সৌজন্য ভোরের পাতা
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply