ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ১:৪০ অপরাহ্ণ

সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ

মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী

 

 

 

 

দেশের শতকরা ৪০ ভাগ চামড়া সরবরাহ হয় প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানিকৃত পশুর চামড়া থেকে। দৈনন্দিন মাংস সরবরাহের জন্য জবাইকৃত পশুর চামড়া ছাড়াও বিবাহ ও অন্যান্য উৎসবাদি উদযাপন থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চামড়া সংগৃহীত হয়। পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। পাট ও পাটজাত দ্রব্যই ছিল পাকিস্তানের প্রধান রপ্তানি পণ্য। দেশের জাতীয় আয়ের ৬৫ শতাংশই আসত কৃষি খাত থেকে। দেশীয় ব্যবহার ও রপ্তানিতে চা ও চামড়ার উপস্থিতি এবং অবস্থান ক্রমে বাড়তে থাকে। এদেশ মুসলমান প্রধান হওয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার সময় প্রচুর গরু, ছাগল কোরবানি হয়। এ ছাড়াও সারা বছরই এসব পশুর মাংস ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ফলে দেশে চামড়ার উৎপাদন ও সরবরাহ ক্রমেই বাড়ছে। ব্যবসা হিসেবে এদেশে চামড়া খাতের যাত্রা শুরু হয়েছে বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিদেশেও পরিচিতি পায় এবং দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত করা হয়।
তবে দেশের চামড়া প্রক্রিয়াকরণ ও পণ্য উৎপাদনে পরিবেশ সম্মত কমপ্লায়েন্স না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কখনো আশানুরূপ হয়নি। ২০১৭ সালের পর থেকে চামড়া খাতের চলমান অগ্রযাত্রায় ভাটা পড়তে থাকে চরমভাবে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর রপ্তানি আয়-ব্যয় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য দেশীয় কাঁচামাল ভিত্তিক একটি রপ্তানিমুখী শিল্প। জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজনের নিরিখে এটি একটি অপার সম্ভাবনাময় খাত। অদক্ষতা ও গাফিলতির কারণে এখনো সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।
বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারির কারনেও চামড়া শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী অব্যাহত লকডাউনের কারণে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে প্রভাব পড়ে। কারণ চামড়াজাত পণ্য কোনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির আওতায় পড়ে না। এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাবের ফলে উদ্যোক্তারা ভীষণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। মহামারির কারণে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ থাকায় প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। চলমান পরিস্থিতিতে আরও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হওয়ার পথে নিঃসন্দেহে। চামড়া শিল্পোদ্যোক্তাদের সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তারা ঋণের অর্থ অন্যত্র ব্যয় বা বিনিয়োগ না করে চামড়া খাতেই ব্যবহার করলে এই শিল্প বাঁচানো সম্ভব। একটি সম্ভাবনাময় খাতকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধু বাঁচিয়ে রাখাই নয়, জাগিয়ে তুলে চামড়ার শিল্পের ভাবমুর্তি বিশ্ব বাজারে উঠে আনতে হবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply