জুলাই ২৮, ২০২১ ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২০৫) স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন সমীপে

মাননীয়,

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন সমীপে

শ্রদ্ধেয় জাহিদ মালেক ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া বৈশ্বিক এই করোনাকালে নানান কল্যাণকর কর্মসুচী পালন ও দেশের ভবিষ্যত হরেক – রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং  শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য।  মানিকগঞ্জ-৩ থেকে তিন বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ২০১৪ সালে গঠিত হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রি সভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও পরে ২০১৯ হইলেন পূর্ণমন্ত্রী । আপনার বাবা মরহুম কর্নেল (অব.) আব্দুল মালেক ছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। এরশাদ সরকারের আমলে মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণ কাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আপনি জড়িত রহিয়াছেন।  ঢাকাসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা ‘৮৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত  বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লি., সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লি., বিডি থাইফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি., রাহাত রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি., বিডি সানলাইফ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসাবে সফলতার সঙ্গে আপনি দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছেন ।
আপনি ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কাছে পরাজিত হইলেও ২০০৮ সালে মুন্নুকে পরাজিত করিয়াছেন। ২০১৪ সালে  ও ২০১৮ সালে গণফোরাম প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খানকে পরাজিত করিয়া আপনি এমপি নির্বাচিত হন ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী  আপনি অনেক মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের চেয়েও শিক্ষিত ব্যাক্তি। যাক, সেই সব কথা।

ভাইজানরে,

গোটা দুনিয়ায় যখন নতুন ভাইরাস ‘করোনা’ মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে হা হুতাশ করিতেছে তখন এই দেশের স্বাস্থ্য  মন্ত্রী আপনি। দেশে দেশে এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী লইয়া সমালোচনার শেষ নাই। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী পদত্যাগ করিয়াছেন। দেশ জুড়িয়া আপনার ও আপনার মন্ত্রণালয় লইয়া সবচেয়ে বেশী অভিযোগ উঠিতেছে। স্বাস্থ্য, হাসপাতলের সেবা, ঔষধ ও চিকিৎসক বিষয়ে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়া আসিয়াছে। আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবু সাইদ সাহেবতো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলিতেও নারাজ। তিনিতো মনে করিয়া থাকেন এইটি রোগী কল্যাণ মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত। হাসপাতালের যেখানে সেবা নাই, দিনরাত যেখানে অসুস্থ মানুষের আহাজারী, রোগী ও স্বজনদের কান্নাকাটি ও অসংখ্য অভিযোগ সেখানে এইটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হয় কেমনে ? এই প্রশ্ন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইদের।

ভাইজানরে,

ডাক্তারদের যোগ্যতা অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা যায় না ? এলএমএফ হলে ৫০টাকা, এমবিবিএস হলে ২০০টাকা, এমআরসিপি বা এফআরসিএস হলে ৩০০টাকা তার সাথে আরো বিশেষায়িত ডিগ্রি থাকলে ৩৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারিত করিয়া দিবার  জন্য দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরিয়া দাবী জানাইয়া আসিতেছে। বিষয়টা লইয়া সহসা ভাবিয়া সিদ্ধান্ত লইলে সাধারণ মানুষের চরম উপকার হইবে। সেই সাথে একজন মানুষ কতজন রোগী দেখিবেন তাও নীতি থাকা চাই।দেশে ছড়িয়া চিটিয়া থাকা ভুয়া চিকিৎসকদের ১/২ বছরের কোর্স দিয়া এলএমএফ পদ মর্যদা  বা অন্য কোনভাবে অন্তত রোগীদের বিভ্রান্তি দূরীভুত করিবার জন্য পন্থা বাহির করা দরকার বলিয়া দেশপ্রেমিক লোকেরা বলিতেছে। শাহেদ ও ডাক্তার সাবরিনার শেষ হইল মানুষ তাহা জানিতে চাই। সাধারণ মানুষ জানিতে চাই সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে যাহারা হেনেস্থা করিয়াছে তাহারা কতটুকু শাস্তি পাইল ? প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়া আমাদের ২য় ডোজের টিকা দিল না কেন ? নরেন্দ্র মোদী যখন আমাদের দেশে আসিলেন তখন এত উপহার থাকিতেও কেন এম্বুলেন্স উপহার দিলেন ? বিষয়টি অনেকের মাথায় আসিতেছে না।

ভাইজানরে,

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধের নামে এসব উল্টাপাল্টা কর্মসূচী কেন হইতেছে ? লকডাউন ও শার্টডাউন কার্যকর করিতে হইলে প্রতিটি ঘরে ঘরে খাবার দিতে হইবে। আপনি মন্ত্রী আপনি হয়ত খাবার নিবেন না, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার, সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী,  অনেক প্রবাসীরাও লজ্জা শরমে খাবার নিবে না।এইভাবে দেখা যাইবে শতকরা ২০-৪০ ভাগ পরিবার সরকার খাবার দিলেও খাবার নিবে না। যাহারা নিবে তাহাদের সবাইকে খাবার দিয়া বলুন ঘরের বাইর হওয়া যাইবে না, তাহা হইলে লকডাউন সফল হইবে। তখন এত ডাক্তার, হাসপাতাল, ঔষধপত্র,  টিকা ইত্যাদির টেনশান কমিয়া যাইবে। তখন আর্মি নামাইয়া তেল জ্বালাইবার দরকার হইবে না। ঘরে খাবার থাকিলে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউই বাহির হইবে না। বিষয়টি গভীর ভাবে ভাবিয়া দেখিবেন।  সংক্রমণ যেইভাবে বাড়িয়া যাইতেছে  সেইভাবে বাড়িয়া গেলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হইয়া পড়িবে।খাবার দিয়া ঘরে রাখুন এটাই উত্তম পথ বলিয়া চিন্তাশীল লোকেরা ভাবিতেছে।মনে রাখিবেন এইটা আমেরিকা, ইতালী, স্পেন ও কাতার নয়। আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ ভাবিয়া চিন্তিয়া কাজ করিতে হইবে।

                                                                      আজ আর না । আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায় । ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত

                                                                                                                         ঠাণ্ডা মিয়া

                                                                                                                গ্রন্থনাঃ ম. আ.  হ

আগামী সংখ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২০৬) সম্প্রচার করা হইবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply