জুন ১৩, ২০২১ ২:১৩ অপরাহ্ণ

পাথরঘাটা বিদ্যুৎ প্রকৌশলীকে লাইন কাটার কারনে গুলি করার হুমকি, গ্রাহকের অভিযোগ ঘুষ দাবী

শেখ শফি ও মোঃ শাহিন
 পাথরঘাটা বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে  চকবাজারের গ্রাহক জনৈক আইয়ুব বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন । টেলিফোনেও গুলি করার হুমকিও দিয়েছেন ওই প্রকোশলীকে। ওই প্রকৌশলী এখন অজানা আতংকে রয়েছেন।
  বিল বকেয়া থাকায় নিয়ম অনুযায়ী চকবাজারের ব্যবসায়ী আইয়ুবের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয় সহকারী প্রকৌশলী শুভ বিশ্বাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পাথরঘাটায় উল্টো বিদ্যুৎ উপ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ওই ব্যবসায়ী। ফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঘটে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা – কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে । বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যান, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা এখন দায়িত্ব পালনে হিমসিম খাচ্ছে।
  জানা গেছে,   প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে এনে বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক বরাবর একটি লিখিত আবেদন দায়ের করা হয়। । এ বিষয়ে নাজমুল হোসেন চৌধুরী বলেন অভিযোগগুলো মিথ্যা। ওই গ্রাহককে ২৫মে ২০২১ সনে বিদ্যুৎ অফিস থেকে নোটিশ দিয়ে লাইন কাটা হয়। তার ৫টি মিটার রয়েছে। ওই মিটারের বিপরীতে তার বকেয়া  রয়েছে  ৫১,৪২২ টাকা।  গত ২৫ মে সহকারী প্রকৌশলী শুভ বিশ্বাস  বিদ্যুৎ লাইন নিয়ম অনুযায়ী কেটে দেয়। লাইন কেটে দেবার জের ধরে টেলিফোনে  সাধু ও চলিত মিশ্রিত অকথ্য ও অভদ্র ভাষায় উপ প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন চৌধুরীকে গালিগালাছ করে ও গুলি করার হুমকি দেয়। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের মধ্যে তোললপাড় শুরু হয় ও অজানা আতংক বিরাজ করছে এখন।
পাথরঘাটা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ  বিভাগের অধীনে চকবাজারের ব্যবসায়ী আইয়ুব একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক । ব্যবসায়ী আইয়ুবের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ‘আপনার বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা হয়েছে, লাইনের মেইনটেনেন্স বাবদ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। সে জন্য আপনি ৫০ হাজার টাকা দিন, তা না হলে মিটারের লাইন কেটে দেওয়া হবে’। এ রকম চাহিদামত টাকা প্রদান করা না হলে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানরা, আবার টাকা দিলে পুনরায় সংযোগ দেন।

অভিযোগে তিনি আরো বলেন, প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন  বেশ কিছুদিন ধরে আমার মার্কেটে গিয়ে আমাকে ডেকে অনৈতিক  (ঘুষ দাবি ) প্রস্তাব  দিতে থাকে। এতে আমি রাজি না হওয়ায় গত ২৫ মে সকাল বেলা আমার মার্কেটে মিটারের লাইন কেটে দেন। আমি উনার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি লাইন লাগানোর জন্য আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি আমার বিলের কাগজ পেইড দেখালে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন। অথচ আমি ১৮ মে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি। তারপর আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করলে গত ২৬ মে সকাল ১০ টার সময় আমার লাইন পুনরায় লাগিয়ে দেন। তবে এর আগে আমার মার্কেটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভাড়াটিয়ারা আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করেন। বিষয়টি বিবেচনা করে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিনীত  অনুরোধ করছি।

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply