জুন ১৩, ২০২১ ১:৪৩ অপরাহ্ণ

তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর মঞ্চালোকে ৪৭

AS U LIKE IT

 

শিল্পের জন্যেই শিল্প’ এ তত্ত্বে তিযর্ক বিশ্বাসী নয়। তিযর্ক বিশ্বাস করে ‘জনগণের জন্যেই শিল্প’। তাই তিযর্ক কমিটেড হয়েই শিল্প সাধনা করে। চুয়াত্তরের জন্ম লগ্নে তিযর্কের শপথ ছিল নাটক চাই, নিয়মিত পাদ প্রদীপের সামনে এসে দাঁড়াতে চাই, অবক্ষয় হতাশা থেকে মুক্তি চাই, নাট্যকার এবং নাট্যকর্মী সৃষ্টি করতে চাই, প্রগতিশীল নাটক মঞ্চস্থ করতে চাই, নাটকের দর্শক  সৃষ্টি করতে চাই। এখনও তিযর্ক এই প্রতিজ্ঞা পালনে যত্নবান। নানা বিধি নিষেধ সংকট ও অভাব এবং প্রচন্ড নৈরাশ্য বার বার চলার পথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তারা থামেনি। করোনাকালে জনজীবনে স্থবিরতার মধ্য তিযর্ক নাট্যগোষ্ঠীর
৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপস্থিত। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারনে ১৬ মে রাত ৮.৩০ টায় তারা লকডাউনের মধ্যে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সদস্যদের অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত করে উদযাপন করে ‘মঞ্চালোকে ৪৭’। এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট ব্যপী অনুষ্ঠানটি তিযর্ক নাট্যগোষ্ঠীর ফেইসবুক গ্রুপে লাইভ সম্প্রচারিত হয়। কারিগরী সহায়তা প্রদান করে Mango People। সাঈদ হিরোর পরিকল্পনায় শাহরিয়ার হান্নানের সঞ্চালনায় প্রথমে তিযর্ক নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রবিউল আলমকে যুক্ত করা হয়। নাট্যসাহিত্য বাংলা একাডেমি পুরষ্কার প্রাপ্তির জন্য তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। তিনি সংক্ষিপ্ত
ভাবে তিযর্কের শুরুর দশকের প্রযোজনা,উল্লেখযোগ্য অর্জন, তাঁর প্রত্যাশা তুলে ধরেন ও দর্শককে শুভেচ্ছা জানান। তির্যক লিটল থিয়েটারের সদস্য রুমানা শফি যুক্ত হয়ে লিটল থিয়েটারের ম্মৃতি ও এর প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করেন। তিনি ‘কাঠের ঘোড়া ‘ নাটকের একটি গান গেয়ে শোনান। যুক্ত হন সিনিয়র সদস্য ও চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম‘র সভাপতি খালেদ হেলাল। নাহিদা আক্তার মুন্নী যুক্ত হয়ে তিযর্ক নাট্যগোষ্ঠীতে পারিবারিক আবহের বিষয়টি আলোচনা করেন ও দ্বিতীয় দশকের প্রযোজনা সমূহের উপর আলোকপাত করেন। তিনি ও নাসরিন আক্তার হীরা ‘তীর্থযাত্রা ‘ নাটকের অংশ বিশেষ পাঠ করেন।
তৃতীয় দশকের প্রযোজনা নিয়ে কথা বলেন ইরশাদ উল্লাহ সাঈদ হিরো। ‘সত্তান্ধ' নাটকের অংশ বিশেষ পাঠ করেন শাহরিয়ার হান্নান।। তির্যক সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক শামীম হাসান যুক্ত হয়ে তার থিয়েটার জীবন ও তার নির্দেশিত নাটক ‘ নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে ‘ এবং ‘সত্যসন্ধ’ নিয়ে আলোচনা করেন। ‘নননপুর….’ ও ‘রোমিও জুলিয়েট’ নাটকের অংশ বিশেষ পাঠ করে শোনান নাইমা নাজনীন।
সবশেষে সঞ্চালক শাহরিয়ার হান্নান সকলকে ধন্যবাদ জানান ও বলেন করোনার কারনে জনজীবনের সাথে থিয়েটার চর্চায় যে বিরতি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তার বিকল্প উপায় খুঁজতে গিয়ে ও সকলকে যুক্ত রাখার প্রয়াসে অনলাইনে তিযর্ক নাট্যগোষ্ঠীর ৪৭ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় এই করোনাকালে থিয়েটার তার আপন শক্তিতে পথ খুঁজে নেবে। তিযর্কের প্রত্যাশার পূর্ণতা এখনো অনেক দূরে। পথ চলায় তাই আজো বিরাম নেই।সহৃদয় দর্শকের শুভাশিষ নিয়ে তিযর্ক নাটকের মুকুরে স্বরূপ দর্শনে এগিয়ে যাবে। লাইভ আয়োজন ছাড়াও সপ্তাহব্যাপী তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর
ফেসবুক গ্রুপে নাট্যজনদের ভিডিও শুভেচ্ছা, তির্যক সদস্যদের ভিডিও উপস্থাপনা এবং নাটক ‘সত্তান্ধ’ ও ‘স্বপ্নবৎ’ প্রচার করা হয়।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply