সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (৩০৪) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ সমীপে

মাননীয়,

 

 

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ সমীপে

শ্রদ্ধেয় মোছলেম  ভাইজানরে,

  গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া বৈশ্বিক এই করোনাকালে  নানান কল্যাণকর কর্মসুচী পালন ও দেশের ভবিষ্যত হরেক – রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন, বর্তমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য। ইতিপূর্বে আপনি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। যখন সভাপতি ছিলেন বহু গুণে ও পদে ভুষিত জননেতা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।  এর আগেও আপনি লালখান বাজার ওয়ার্ড কমিশনার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বার ছিলেন।আপনি ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সরকারি কমার্স কলেজে সহ সভাপতি,  চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন পরের বছর ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন আপনি। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন আপনি। যাক, সেইসব কথা।

ভাইজানরে,

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগে ত্যাগীরা আজ নাই কেন ? যাহাদের লইয়া আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় তাহাদের বিশ্বাস করিতে পারিতেছেন? খন্দকার মোস্তাকের অনুসারীরা এখন ক্ষমতার আশে পাশে ঘুরঘুর করিতেছে। দুঃসময়ে এইসব পদ-পদবীরা খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না বলিয়া সচেতন লোকেরা বলিতেছে। আইনজীবি ও বুদ্ধিজীবিমহল সারাদেশসহ চট্টগ্রামের জেলা উপজেলায় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাবে ছাত্র অবস্হায় শিবির ও সেনা করিত এমন লোকেরা নিজেদের চরিত্র বিসর্জন দিয়া নেতাদের পদলেহন করিয়া বড় বড় পদ দখল করিয়া ধান্ধাবাজিতে লিপ্ত রহিয়াছে। তাহারাই কুবুদ্ধি দিয়া জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন করিতেছে। সরকারী গোয়ান্দা দপ্তরে এই বিষয় নিঁখুত তথ্য রহিয়াছে। কিছু কিছু সরকারী আমলারাও তাহাদের সাথে গোপন আতাঁত করিয়াছে। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনিবার জন্য অরজিনাল আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবি ও সাংবাদিকেরা আমাকে অনুরোধ করিয়াছেন বলিয়াই আপনার সমীপে উপস্হাপন করিতেছি। হাইব্রীড কিংবা উড়ে আসা ঘুরে বসা লোকগুলো আপনিই চিহ্ণিত করিবার অতি যোগ্য লোক।

ভাইজানরে,

আপনি যাহাদের সাথে যোগ্যতার গুণে রাজনীতি করিয়াছেন তন্মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছাড়া সমসাময়িক কেউ বাঁচিয়াও নাই। সাবেক গণ পরিষদ সদস্য এম এ ছালেহ বাঁচিয়া থাকিলেও তিনি রাজনীতিতে শরীর ও বয়সের কারণে সরব নাই। অধ্যাপক পুলিন দে, ফজলুল হক বিএসসি, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইসহাক মিয়া, ইদ্রিস বিকম, ওহাব মিয়া ইহারা বাঁচিয়া নাই। আপনার জুনিয়র আ জম নাছির উদ্দিন ও রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র হইয়াছেন, এম এ সালাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,  বাবু পুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও মহিউদ্দিন পুত্র ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান নওফেল মন্ত্রী হইয়াছেন আর কায়সার কন্যা ওয়াশিকা আয়েশা খান আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা এমপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন। আমিনুল ইসলাম, ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগে রহিয়াছে। এইসব এখন বাস্তবতা ও ইতিহাস। সমসাময়িককালে আপনাকে দল সম্মান দিবার ও মন্ত্রীত্ব করিবার  এখন উপযুক্ত সময়। চট্টগ্রাম থেকে ওয়াশিকা আয়েশা খান এমপি,  ডক্টর আবু রেজা মোহাম্মদ নদভী এমপি ও ফজলুল করিম চৌধুরী এমপি যে কোন সময় মন্ত্রীত্ব পাইবেন আশা করিলেও ইহাদের চাইতে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ বেশী রহিয়াছে বলিয়া চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা বলিতেছে। বিষয়টি মাথায় রাখিবেন।আপনি মন্ত্রী হইলে আওয়ামী লীগের অরজিনাল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা আশ্রয় পাইবে বলিয়া আশা করিতেছেন।এখন থেকেই ত্যাগীদের আপনি খবরাখবর রাখিবেন।

ভাইজানরে,

দেশে বিএনপি ও জামাতের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্হা। মাহামুদুর রহমান মান্না ও নুরুল হক নুর ছাড়া রাজনীতিতে কেউই সরব নাই। হেফাজততো কয়েক টুকরো হইয়াছে। এই রকম সময়েও দেশে কেন কাউন্সিল ছাড়া আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটি হয় তাহা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভাবিতে পারিতেছে না। আওয়ামী লীগ বুদ্ধিজীবিরা বলিতেছে, দলকে দলের পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতা কর্মী দ্বারা কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে উৎসবমূখর পরিবেশে কমিটি গঠন করিবার খুবই উত্তম সময় এখন। কেন্দ্রিয় সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে কথা বলিয়া অন্তত দক্ষিণ চট্টগ্রামকে সাজানোর জন্য সর্বাগ্রে আপনাকে ভুমিকা রাখিতে হইবে বলিয়া সচেতন লোকেরা বলিতেছে। মহা নগরে হ য ব র ল দশা। উত্তরে জেলা কমিটি কাউন্সিলে হইয়াছে।  একজন মৃত্যু ব্যাক্তিকে কমিটিতে রাখিবার কারণে যদিও কেউ কেউ কমিটি লইয়া সমালোচনাও করিয়াছে। তবু অধিকাংশ মানুষের দৃষ্ঠিতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন লইয়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাহবা পাইয়াছেন। দক্ষিণ জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠনের জন্য আপনার শুভাকাঙ্খীরা বলিতেছে। তাহা হইলে পদলেহনকারী , হাইব্রী্‌ড , ইয়াবা কারবারী, খুনী ও মামলাবাজ, চোরাই ব্যবসায়ী, পরিবেশ দূষণ করে এমন সব কারবারী যেমন মদ,গাজা ব্যাপারী, অবৈধ পলিথিন ফ্যাক্টরী মালিক ,  চোরাই কাঠ,  মাটি, বালু ও  মা্নব পাচারকারীরা কমিটিতে স্হান পাইবে না। ইহাদের বাদ দিয়া কমিটি করিলে সমাজের গ্রহণযোগ্য, সুশিক্ষিত, সমাজকর্মী, দলের ত্যাগীরা কমিটিতে নেতৃত্ব দিবে। এই রকম কমিটির মাধ্যমে কাজ  করিলে ভোটের সময় আর চিন্তা করিতে হইবেনা।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

ম আ  হ

আগামী সংখ্যায় স্বাস্হ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২০৫) সম্প্রচার হইবে।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply