মে ৯, ২০২১ ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতে পণ্যবাহী বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ দিলো চীনা এয়ারলাইন্স

ভারতে পণ্যবাহী বিমান চলাচলে ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমান সংস্থা। গত ২৬ এপ্রিল, ২০২১, সোমবার, চীন মালিকানাধীন সিচুয়ান এয়ারলাইনস ভারতে তাদের যাবতীয় পরিষেবা দু সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। স্থগিতাদেশের পূর্বে এয়ারলাইন্সটি ভারতের অন্যতম প্রধান চারটি শহর যথাক্রমে, দিল্লী, চেন্নাই, মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরুতে ছয়টি রুটে দশটি ফ্লাইট পরিচালনা করছিলো।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ভারত। প্রতিদিনই করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুতে নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে সেখানে। সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতে করোনায় দৈনিক সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন। চারিদিকে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।

এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে ভারতে ভ্যাক্সিন সহ অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং সরঞ্জাম উৎপাদনের কাঁচামাল স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। প্রকট হয়ে প্রকাশ পেয়েছে অক্সিজেন স্বল্পতা। উক্ত পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে মেডিসিন ও মেডিকেল সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কাঁচামাল সমূহ আমদানীর ব্যাপারে ক্রমাগত জোর কূটনৈতিক প্রয়াস চালাচ্ছে ভারত এবং ভারতীয় মালিকানাধীন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন সময়ে চীনা সংস্থার পরিষেবা বন্ধের ঘোষণায় ব্যাপক সমালোচনায় মেতেছে ভারতীয় মিডিয়া সহ নেটিজেনরা।

তবে সমালোচনার জবাবে, চীনা সংস্থাটি জানায়, মহামারী পরিস্থিতিতে নব উদ্যমে নতুন পরিকল্পনায় কার্যক্রম শুরুর প্রচেষ্টাস্বরূপ ফ্লাইটগুলো ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতে পণ্য পরিষেবার নতুন পরিকল্পনা তৈরীর জন্য ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছে উক্ত এয়ারলাইন্সের লজিস্টিক বিভাগ।

তবে চীনা সংস্থার এ পদক্ষেপ ভারতের সঙ্কট মুহূর্ত থেকে বেরিয়ে আসার পথে বড় বাধা বলে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলও এই সিদ্ধান্তে যারপরনাই অবাক এবং হতাশ বলে জানিয়েছে তারা।

তাছাড়া এসব পণ্য আমদানীর ক্ষেত্রে চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো হঠাত করেই পণ্যের দাম ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং মাল পরিবহণের চার্জ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।

চীনা সংস্থার এমন এক তরফা সিদ্ধান্তে ভারত এবং চীন উভয় দেশের বেসরকারী ব্যবসায়ীগণ বিপাকে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন সাংহাই ভিত্তিক ভারতীয় পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ী সিদ্ধার্থ সিনহা।

এদিকে এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের ঠিক পূর্বেই চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জানিয়েছিলেন, ভারতের মহামারী পরিস্থিতি চীন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তবে চীনা সংস্থার হঠাত করে ফ্লাইট বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply