মে ৯, ২০২১ ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

প্রতারণা করে দোদণ্ড প্রতাবে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রতারক মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
 চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা, পাক্কিক পত্রিকার সম্পাদক, ইউটিউব চ্যানেলসহ বহু প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে পরিচয় ব্যবহার করে দোদণ্ড প্রতাবে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী। তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম একটি স্বনামধন্য পত্রিকা দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ’র বাঁশখালী প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছিল। সেই সুবাদে তিনি নিজেই একটি অনিবন্ধিত পত্রিকা  ‘বাঁশখালী সমাচার’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। দু’টি পত্রিকার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অনেকের কাছ থেকে বহু প্রত্যাশা পূরণের মিষ্টিভাষী কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবশেষে লাপ্পাত্তা হয়েছে।
সূত্র আরো জানা যায়, সাংবাদিকতা করার সুবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিক ও সাংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকে চাকুরির দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ইং নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগির হাতে আটক হয়েছিল। তখন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ভাষার অনলাইন টিভি সি-প্লাসে একটি প্রতিবেদনে তার কু-কৃত্তির কথা নিজেই নিজের মুখে স্বীকার করে ভুক্তভোগিদের টাকা তার পরের দিন (অর্থাৎ- ১৯ ডিসেম্বর’২০২০) ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার প্রকাশ করে। ভুক্তভোগিদের টাকা ফেরতে দেওয়ার জন্য মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী তার মেয়ের জামাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী ছাদেকা নুর খানম বিউটি টেলিফোনে অঙ্গীকার করে উপস্থিত সাংবাদিক ও  পুলিশ কর্মকর্তাসহ সকলকে অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সেই থেকে তিনি ও তার মেয়ের জামাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী ছাদেকা নুর খানম বিউটি কাউকে কোন টাকা পরিশোধ করেননি, বরং তারা উল্টো ফোনে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়ত্ব ব্যাংকের সাথেও প্রতারণা করেছে। সোনালী ব্যাংক জলদী শাখা হতে তার নিজ বসতবাড়ি বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে সেই বন্ধকী সম্পত্তি বীর দর্পে বিক্রি করে দিয়েছে ব্যাংককে না জানিয়ে। তিনি জলদি পৌরসভা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা না হয়েও পৌরসভার বাসিন্দা বলে প্রচার করতে থাকে। মূলত তাঁর জন্মস্থান ছনুয়ায়। ১৯৯১ সালে প্রলংঙ্কারী ঘূর্নিঝড়ে উপকূলীয় এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে সেই সুবাদে তিনি জলদীতে ভাড়া ঘরে বসবাস করতে থাকে। সম্ভব ১৯৯৬ সালে জলদীর এক হিন্দু সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের সন্তান সুজিত কুমার থেকে বর্তমান নিজ বসত ভিটার ৪ গন্ডা জমি ক্রয় করে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার পার্শ্ববর্তী দাগে ৬.৫ গন্ডা জমি সব দখল করে নেয়।
মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে অপসাংবাদিকতা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। বাঁশখালীতে প্রথম পৌরসভা ঘোষণার পর তিনি বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার বিরুদ্ধে হিন্দু বাঁশখালী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হামলার ইন্দন দাতার অভিযোগও আছে বাঁশখালী থানায়। তার বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে সাগরে জলদস্যুতার অভিযোগে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদককে তিনি তার অপকর্মের কথা কৌশলে এডিয়ে যান এবং ফোন সুইচ অপ কলে দেওয়া হয়। এই ব্যাপারে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ছানুবীর মোবাইল নাম্বার-০১৭১৪-৮৫২১৬৬ বেশ কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply