জুন ১৩, ২০২১ ৩:০১ অপরাহ্ণ

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (৩০৩) সাবেক মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সমীপে

মাননীয়,

সাবেক মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সমীপে

শ্রদ্ধেয় মোশাররফ ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া বৈশ্বিক করোনাকালে  নানান কল্যাণকর কর্মসুচী পালন ও দেশের ভবিষ্যত হরেক – রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা  সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন- এই দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম সারির শিল্পপতিদের অন্যতম। বর্তমানে আপনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের  একজন দজ্ঞ সংসদ সদস্য।  রাজনৈতিক অঙ্গনে আপনি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পদ প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে আসীন আছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পরিবহন মন্ত্রী পরে গৃহায়ন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের দায়িক্ত পালন করেন।  ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারী পর্যন্ত গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রী হিসেবে আপনি দায়িত্ব পালন করেন ৷ চট্টগ্রাম ও  কক্সবাজারের মানুষ আপনাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করিয়া থাকৈন। আপনার ইশারায় চট্টগ্রামের রাজনীতি পরিচালিত হয় এই কথা অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বুঝিয়া থাকে। আপনার সমসাময়িক রাজনীতিবীদ আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু , এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইসহাক মিয়া, ইদ্রিস বিকম, ওহাব মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া ইহারা কেউই বাঁচিয়া নাই। তবে আতাউর রহমান খান কায়সারের বড় ওয়াশিকা আয়েশা খান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ভুমিমন্ত্রী ও এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিতেছেন। তাহাদের সকলেরই অভিভাবক আপনি। যাক, সেইসব কথা।

ভাইজানরে,

 শুনিয়াছি, আপনি লাহোরে অধ্যয়নকালে  ছয় দফা আন্দোলনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করিয়া বিভিন্ন সময় মিছিল সমাবেশে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়াছেন। এ সময় আপনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।  লাহোর থেকে দেশে ফিরিয়া মানুষের কল্যাণ করিবার মহান ব্রত লইয়া আপনি চট্টল শার্দুল এম.এ. আজিজের হাত ধরিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন। ১৯৭০ সালে আপনি সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে আপনি অন্যতম। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় হুইপের এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে  অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিয়াছেন আপনি। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আপনি জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে আসার পর  দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন আপনি। ১৯৭৫ সালে আপনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাকশাল এবং ’৭৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৮০ ও ৮৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২, ১৯৯৬, ২০০৪ এবং ২০১২ সালে সভাপতি এবং একই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। বর্তমানে আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন। একজন সৎ, ভদ্র, নম্র, স্পষ্টবাদী ও উদার মনোভাবের মানুষ হিসাবে নিজ দলের নেতাকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের নিকট আপনার সুনাম রহিয়াছে। 

ভাইজানরে,

 রাজনীতি করিতে গিয়া আপনি  সুদীর্ঘ সময়ে  কখনও কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি এবং কোন সন্ত্রাসী লালন করেননি।  শুনিয়াছি, ’৭৫ পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আহবান  আপনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন এবং নিজ দলের আদর্শে অবিচল ছিলেন সব সময়। রাজনীতি করিতে গিয়া মুক্তিযুদ্ধসহ বহুবার তিনি জীবন মৃত্যুর মুখোমুখী হইয়াছেন, নির্যাতনের শিকার হইয়াছেন। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট চত্বরে তৎকালীন বিএনপি’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক আপনি এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দ আক্রান্ত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা আপনার পায়ের রগ কাটিয়া দিয়াছিল। ’৮৮ সালে ২৪শে জানুয়ারী শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশ কর্তৃক গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করিবার ঘটনায় আপনি মারাত্মকভাবে আহত হইয়াছিলেন। ’৯২ সালের ৮ মে ফটিকছড়িতে জামায়াত ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হইয়া অলৈাকিকভাবে প্রাণে বাঁচিয়া যান আপনি। এই সব সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা যেমন জানেন তেমনি শেখ হাসিনাও।এই কারণে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ মহলে আপনার প্রতি বিষম শ্রদ্ধা ও সম্মান রহিয়াছে। 

ভাইজানরে,

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে সুন্দর পরিবেশ অনুষ্ঠিত হইয়াছে।এই জন্য আপনি প্রশংসিতও হইয়াছেন।কিন্ত মহানগর ও দক্ষিণ জেলায় এই অবস্হা কেন ? এই দুই কমিটিতেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করা দরকার। লোকেরা বলিতেছে, শেখ হাসিনাকে এই বিষয়ে আপনি পরামর্শ দিলে কার্যকর হইবে। ত্যাগী ও অরজিনালদের কাজ করিবার সুযোগ করিয়া না দিলে হাইব্রীডরা আপনাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ভুলিয়া যাইবে। সিংহা হত্যা, মুজিব ভাষ্কস, মৌদির দেশে আগমন, করোনা সংকটে লকডাউন ও সম্প্রতি হেফাজতের মামুনুল হক কাণ্ড লইয়া দেশ টালমাটাল অবস্হায় আছে।এইসময় আপনি নেত্রীর পাশে পাশে থাকিয়া সঠিক পরামর্শ দেওয়া উচিত বলিয়া অভিজ্ঞমহল বলিতেছে।

আজ আর না ।আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠাণ্ডা মিয়া

গ্রন্হনা ম ,আ  হ

আগামী সংখ্যায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম (৩০৪) সম্প্রচার করা হইবে।

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply