জুন ১৩, ২০২১ ১:৫৫ অপরাহ্ণ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (৩০২) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সমীপে

মাননীয়,

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সমীপে

শ্রদ্ধেয় হুদা ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া বৈশ্বিক করোনাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করিয়া নানান কল্যাণকর কর্মসুচী ও দেশের ভবিষ্যত হরেক – রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে আপনার মহা কৌশলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত চট্টগ্রামের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড) থাকিতেছে না বলে মন্তব্য করিয়াছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলিয়াছেন, ‌‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোর গতি প্রকৃতি দেখিয়া আমার ধারণা হইতেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনের যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও ভারসাম্য রক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তাহা হইতেছে না। এক কেন্দ্রীয় নির্বাচনে স্থানীয় নির্বাচনের তেমন গুরুত্ব নাই, নির্বাচনে মনোনয়ন লাভই এখন গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। স্থানীয় নির্বাচনেও হানাহানি, মারামারি, কেন্দ্র দখল, ইভিএম ভাঙচুর ইত্যাদি মিলে এখন একটা অনিয়মের মডেল তৈরি হইয়াছে। বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হইলেও অসংখ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা দুর্ঘটনা মিলে এক ধরনের অবিছিন্নতা তৈরি হয়, যাহা নির্বাচনের অনুষঙ্গ হিসাবে রূপ লাভ করিয়াছে।’জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ২ মার্চ মাহবুব তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন অনিয়ম তুলিয়া ধরিলেন।

এই সবের জবাবে আপনি পাল্টা জবাবও দিলেন। আপনি বলিলেন, ‘ভেবেছিলাম ভোটার দিবস হিসাবে তিনি কিছু বলিবেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখিলেন। ইসিকে কতখানি হেয় করা যায়, কতখানি নিচে নামানো যায়, অপদস্ত করা যায় তাহাই তিনি করে চলিতেছেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ভোটের উদাহরণ দিয়া মাহবুব তালুকদার বলিলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে চমক সৃষ্টিকারী পৌরসভা নির্বাচন হইয়াছে চট্টগ্রামের রাউজানে। মেয়র ও ১২ জন কাউন্সিলর বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হইয়াছেন। ফলে রাউজান থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তখন তুলিয়া নেওয়া হইয়াছে। ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাচনেও ঠিক এইভাবে রাউজানে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হইয়াছিলেন। তবে এটা ‘নির্বাচন’ না বলিয়া ‘মনোনয়ন’ বলাই সম্ভবত অধিকতর সংগত। সারা দেশে যদি এই মডেলে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি হইতে পারেন, তাহা হইলে নির্বাচনে অনেক আর্থিক সাশ্রয় হয় এবং সহিংসতা ও হানাহানি থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। ইহাতে নির্বাচন কমিশনের দায়-দায়িত্ব তেমন থাকিবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আর প্রয়োজন হইবে কিনা, সেটা এক বড় প্রশ্ন।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হইলে সুষ্ঠু, অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করিয়া মাহবুব তালুকদার বলিলেন, সংস্কার না হইলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রায় অকার্যকর হইয়া পড়িবার আশঙ্কা রহিয়াছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করিয়া সংশ্লিষ্ট সব মহলের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হইলে এখন যে ধরনের নির্বাচন হইতেছে, তাহার মান আরও নিম্নগামী হওয়ার আশঙ্কা রহিয়াছে।

ভাইজানরে,

একই অনুষ্ঠানে আপনারা দুই জনের দুই রকম বক্তব্য শুনিয়া দেশবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করিতেছে। কেউ কেউ এইটাকে নাটকও বলিতেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্হা শূন্যের কোটায় নামিতেছে।বিষয় গভীরভাবে ভাবিবেন।ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না। এক সময় মানুষ হুদা নির্বাচনের কথা উদাহরণ টানিয়া কথা বলিবে।

ভাইজানরে,

এখনতো মানুষ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আইডি নাম্বার দরকার হইতেছে।ব্যাংক একাউণ্ড, সিম ক্রয়, ভোট দিতে, পাসপোর্ট তৈরী, জায়গা-সম্পত্তি ক্রয় বিক্রি কালে, বিয়ের কামিন নামা, যে কোন আইডি কার্ড তৈরী সহ বহু বিশেষ বিশেষ কাজে এই জাতীয় পরিচয় পত্র বা আইডি কার্ড ব্যবহার হইতেছে। আইডি না থাকিলে ঘাটে ঘাটে দেশের মানুষকে ভোগান্তিতে পড়িতে হইতেছে। শুনিতেছি, সারাদেশে অনেক দ্বৈত ভোটার হইয়াছে । তৎমধ্য কিছু লোক অসৎ উদ্দেশ্য দ্বৈত ভোটার হইয়াছে। অধিকাংশ দ্বৈত ভোটারের বেলায় তাহা প্রযোগ্য নয়। এখন দ্বৈত ভোটারেরা অনেক বৈধ ও দেশগঠনমূলক কাজও করিতে পারিতেছে না।যাহারা দ্বৈত ভোটার হইবার পর ক্ষমা চাহিয়া নিজে নিজে একটি ঠিকানায় একটি আইডি কার্ড পাইবার জন্য অনুবিভাগে আবেদন করিয়াছে তাহাদের একটি স্মার্ট কার্ড প্রদান করিয়া দিলে তাহারা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করিতে পারিবে। এই দ্বৈত ভোটারের কারণে অনেকে বিপদে পড়িয়াছে বলিয়া শুনিতেছি। ইহারা যাহাতে বৈধ কাজ করিতে পারে সেইটুকু ব্যবস্হা করিয়া দিবেন।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠাণ্ডা মিয়া

গ্রন্হনা ম. আ.  হ

আগামী সংখ্যায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা ( ৩০৩ ) সম্প্রচার করা হইবে।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply