বাংলাদেশ, সোমবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মালিক ও ম্যানেজারের যোগসাজশে মুসলিম হোটেলে এসব কী হচ্ছে ? স্হানীয় লোকেরা পুলিশ কমিশনারের সহায়তা চেয়েছেন

  সাগর চক্রবর্তী 

নাম মুসলিম হোটেল। কিন্তু চলছে মুসলিম নীতির পরিপন্হি সব অনৈতিক কাজ। অসাজামিক কাজসহ মাদক ও জুয়ার আসরও এখানে।

চট্টগ্রামের রাইফেল ক্লাবের বিপরীত দিকে শিক্ষা অফিসের পাশে আলী মার্কেটের ৩য় তলায় হোটেল মুসলিম নামে একটি আবাসিক হোটেল আছে যেখানে রাতের ১০ টার পর থেকে শুরু হয় অনৈতিক কর্মকান্ড।করোনা শুরু কাল থেকে শুরু হয় তার অবৈধ ব্যবসা।গোপন তথ্য পেয়ে সত্যতা যাচাই করতে যাওয়া হয় মুসলিম হোটেলে।বুধবার রাতের ১০ টায় তাদের হোটেলের দিকে নজর রাখলে বুঝতে সময় লাগেনি এই আবাসিকে কি চলে,তাও ছদ্দবেশে তাদের হোটেলে গিয়ে রুম খুঁজলে রুম নেই বলে জানিয়ে দেন হোটেল ম্যানেজার বাবু তবে, বাবুর সাথে একটু ভাব করে জানতে পারা যায় বিস্তারিত।হোটেল থাকার নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন রুম ভাড়া ৫০০ টাকা আর সাথে ভোটার আই ডি কার্ড লাগবে,তবে ছদ্দবেশে কথা বলার কারনে ভোটার আই ডি কার্ড দিতে অস্বীকার করি।পরে আবার জিজ্ঞেস করা হয় আচ্ছা মেয়ে নিয়ে আসতে পারবো?
তবে ভোটার আই ডি কার্ড নেই। তখন ম্যানেজার জিজ্ঞেস করেন কতক্ষণ থাকবেন? তখন বলি ৩/৪ ঘন্টা!
ম্যানেজার উত্তর দিলেন ‘হ্যাঁ তাহলে পারা যাবে,
তবে পুরো রাত থাকা যাবে না’
পুলিশের কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আছে তবে টাকা দেবেন ছেড়ে দেবে।
এর মধ্যে হোটেল এর একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসে এক মহিলা যার মুখের প্রত্যেক টি বাক্য খুব খারাপ ইংগিত করে।দেখে বুঝার বাকি রইলো না মহিলার পেশা কি!
পরিস্থিতি খারাপ দিকে যাওয়ার আগেই হোটেল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় একটি মহিলা দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন যাবেন কিনা তখন প্রশ্ন করলে জানা যায় মহিলা কে দিতে হবে ২০০ টাকা এবং হোটেল ভাড়া দিতে হবে ৩০০ টাকা!
কথা না বাড়িয়ে অবস্থান ত্যাগ করতে চাইলে পরিচয় হয় ওই আবাসিকে থাকা এক ব্যাক্তির সাথে যিনি ওই আবাসিকে থাকেন ১৫০ টাকা রুম ভাড়া দিয়ে এক রুমে তিন জন থাকেন এবং তিনি পেশায় ভ্যান গাড়ি করে ডাব বিক্রি করে থাকেন! দীর্ঘ সময় কথা বলার পর বেরিয়ে আসে ভিন্ন রূপ তথ্য, মঙ্গলবার রাতে ২ টা নাগাদ ওই আবাসিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।তবে বেশ কিছু অনৈতিক কার্যকলাপ চোখে পরলেও তারা কাউ গ্রেফতার না করে ৬০০০ টাকা এবং একটি স্যামসাং ফোন নিয়ে যায় ! তবে তারা ওই অভিযানের কোন পুলিশের নাম জানাননি।এমনও হতে পারে হোটেল ম্যানেজার কিংবা মালিকের সাজানো ভুয়া পুলিশ।

এই বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় আলী মার্কেটর বেশ কিছু ব্যবসায়ী তার প্রতিবাদ করলে হোটেল কর্তৃপক্ষ তা মাথায় নেন নি উল্টো বলেন আমি টাকা দিয়ে নিছি আমি কি করবো আর কি করবো না তা আমার ব্যাপার।এ ছাড়া আরো জানা যায় এই আবাসিক হোটেলের মালিক এর নাম ওয়াসিম এবং তিনি নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা, স্থানীয় সূত্রে জানা যায় তিনি সম্মানিত ব্যক্তি,তবে জন মনে প্রশ্ন, সম্মানিত ব্যক্তির এই সব অনৈতিক ব্যবসা এলাকা এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর তবে তিনি কেন এই সব করছেন?আর কাদের তাবেদারি করে এই ব্যবসা, আজ প্রায় ৮ মাস যাবত ধরে করে যাচ্ছেন!

এটা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীদের মনে অভিযোগ থাকলেও বলার সাহস পাচ্ছেন না কেউ কারণ স্থানীয়দের অভিযোগ কোতোয়ালি থানা পুলিশ কে টাকা দিয়ে তো এই সব অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে।

এই ব্যাপারে হোটেল ম্যানেজার সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিককে বলেন আপনি হোটেলে আসেন এবং দেখে যান! এবং তিনি তার সকল অনৈতিক কার্যকলাপ অস্বীকার করলে আমাদের হাতে পাওয়া তথ্য ভিডিও ফুটেজ এর কথা বললে তিনি আর কথা বলবেন না বলে ফোন টা কেটে দেন! তার এই মুঠো ফোন নাম্বার ০১৮২৩ ৭৩১৭৬৭  এ আমাদের প্রতিনিধির মুঠোফোনে উপরোক্ত কথা হয়।

এই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহসিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করি এবং গ্রেফতার করি এবং তারা সরকারি ভাবে জরিমানা ১০০/২০০ টাকা প্রদান করে চলে যায় এবং যার কারণে এই সব অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে!

তবে উল্লেখ যে, স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা বলেন পুলিশ আসে অভিযান পরিচালনা করে তবে কাউকে গ্রেফতার না করে টাকা নিয়ে চলে যান। এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহসিন বলেন আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করি।

তবে প্রশ্ন কাদের কথা সত্য?

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply