বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লালখান বাজারের ধর্ষনকারিরা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল এর অনুসারী তিনিও বললেন, আপনি লিখে দেন ওরা আমার অনুসারী

 সাগর চক্রবর্তী
 স্বামীর খোঁজে চট্টগ্রাম লালখান বাজারে এসে ধর্ষিত গৃহবধুর  আট আসামির সবাই লালখান বাজার কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবুল হাসনাত বেলালের অনুসারী  এবং আসামিদের সাথে তার একটি দলীয় অনুষ্ঠানের ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই ছবিতে আবুল হাসনাত বেলালের সাথে আসামি মনির হোসেন,ইমরান,জাকির ও মাসুদকে দেখা যায়।
 সত্যতা যাচাই করতে আবুল হাসনাত বেলালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ” বিষয়টা হচ্ছে যে, দেখবেন যে এটা একটা দলীয় অনুষ্ঠানের ছবি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের ছবি আমার কথা হলো, যে একটা দলীয় অনুষ্ঠানে অনেকেই আসে,আর আমার পাশে যে ছবি তুলছে ওর আগে তো, ধর্ষন মামলার আগে তো এমন কোনো মামলা নাই যে আমি বুঝতে পারবো ওর নামে মামলা আছে ওর সাথে ছবি তুলা যাবে না।আর এখানে তো অনেকেই এসে পাশে দাঁড়ায় ছবি তুলে আর আমরা যেহেতু নির্বাচন করছি এখন অনেককে নাও করা যায় না, এখন এরা এসে ছবি তুলছে এখন এর পরে ওর মনের ভিতর যে কি অপরাধ কর্মকান্ড লালন করবে বা কি অপরাধ করবে সেটা মাপার মত আমার কাছে তেমন কোনো যন্ত্র নাই, এই বিষয়ে যখন জিজ্ঞেস করা হয় আসামিরা আপনার অনুসারি কিনা তখন তিনি বলেন সব চেয়ে মজার বিষয় হলো ঘটনার পুরো ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে এখানে পুরো ফুটেজে মাসুদ, জাকির, সোহেল,মুন্না এই চারটা ছেলেকে ভিডিওর কোনো অংশে দেখা যাচ্ছে না, তবে এটা আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কে সরবরাহ করবো, তবে উল্লেখ্য যে, ধর্ষিতা বাদি হয়ে এই চার জন সহ মোট আট জনের নাম দিয়ে মামলা করেন।
তিনি আরো বলেন তার কাছে মোট ৪৮ ঘন্টার ভিডিও ফুটেজ আছে এখানে কি হয়েছে আর কি হয়নি তারও একটা বিষয় আছে এই সব পেলে আইন প্রয়োগকারীর তদন্তে সুবিধা হবে কারন এজাহারে আছে ৬.৩০ মিনিট মেয়েটা ধর্ষন হয় এবং ১২ টা বাজে সেই মেয়ে আসছে আবার বোরকা নিতে।এই ধর্ষনের বিষয়ে তিনি সাংবাদিক কে বলতে বলেন আপনি স্বাভাভিকভাবে যদি কোথাও মারধর শিকার হোন তাহলে কি আপনি পূনরায় সেখানে একা যাবেন ?এবং তিনি আরো বলেন পুরো ভিডিওটা আমাদের কাছে আছে এবং মহিলাটা ওই বিল্ডিংয়ে ছিলো কোথাও যায়নি এবং ১২ টা থেকে ২ টার ভিতরে যে ঘটনা গুলো ঘটেছে এবং ওইখানে কারা গেছে আর না গেছে তারও ভিডিও ফুটেজ আছে বলে জানান তিনি।এখানে তিনি বলেন, জাকির সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ অফিসে চাকুরি করেন এবং ঘটনার সময় জাকির চাকরিতে ছিলো এবং মনির চাদাঁবাজির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন মনির এমনিতেই পুলিশের সোর্স তার থেকে চাঁদাবাজি করতে হয় না এটা আমার থেকে ভালো আপনারা বুঝবেন আর যারা অপকর্ম করে তারাই মনিরকে টাকা দেয়।এক পর্যায়ে আবুল হাসনাত বেলাল জিজ্ঞেস করলে মনির হোসেন তার অনুসারি কিনা তিনি কর্কষ ভাষায় বলেন আপনি লিখে দেন ওরা আমার অনুসারী।
 
 
মূলত স্বামীর সাথে মিলিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম এনে আশ্রয়দাতা ও তার সহযোগীরা হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু। বর্তমানে ধর্ষিতা ওই মহিলা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় খুলশী থানায় ধর্ষণ ও অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত দুটি মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পুলিশের সোর্স মনির হোসেন (৩৩), মাসুদ (২০), দিদার (২২) ও সোহেল (২৪)। তবে মামলার আসামিরা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে শুনা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামিরা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত পুলিশের সোর্স মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা সবাই নিজেদেরকে লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলালের কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম চালান। পলাতক অপর চার আসামিদের মধ্যে মো. জাকির চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী এবং মো. মুন্না আরো একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ভয়ে কোন প্রতিবাদের সাহস দেখাত না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকায় জনৈক শিউলির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মাসখানেক আগে তারা বাসা ছেড়ে কুমিল্লায় চলে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমন অবস্থায় গত ৬ নভেম্বর ঘটনার মূল আসামি মনির হোসেন ভুক্তভোগী ওই নারীকে তার স্বামীর সাথে মিলিয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে মনির হোসেনের পূর্ব পরিচয় ছিল বিধায় ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি মনিরের বাসায় আশ্রয় নেন এবং মনিরের স্ত্রীর সাথে রাত যাপন করেন।পরদিন গত ৭ নভেম্বর সকালে মনির হোসেনের স্ত্রী গার্মেন্টেসে চাকরিতে চলে গেলে তিনি ওই নারীকে গলায় ছুরি ধরে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন। বেলা ১২ টার সময় ভুক্তভোগী ওই নারী ফেলে যাওয়া বোরকা আনতে মনিরের বাসায় গেলে মামলার অপর আসামিরা তাকে খারাপ আখ্যা দিয়ে মনির হোসেনের সাথেই বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু মনির হোসেন ইতিপূর্বে ৬/৭টি বিয়ে করেছে এমন জনশ্রুতি থাকায় ওই গৃহবধু রাজি হননি। এমন অবস্থায় আসামিরা তাকে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ২০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় থানায় এসে মনির হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধু।
এ ব্যাপারে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষ থেকে ধর্ষণ মামলা ও পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র মামলা দায়ের করেছে। এই পর্যন্ত চার আসামিকে তথা পুলিশের সোর্স মনির হোসেন (৩৩), মাসুদ (২০), দিদার (২২) ও সোহেল (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরো বলেন, মনির হোসেন এর আগের ৬/৭ তা বিয়ে করেছে বলে এমন জনশ্রুতি আছে তবে এই মামলায় জড়িত কিছু আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে,এবং তারা মূলত সবাই খারাপ।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply