ডিসেম্বর ২, ২০২১ ১০:১৩ অপরাহ্ণ

ঈদ বোনাসের নামে গলাকাটা ভাড়া আদায় কেন?

আকাশ ইকবাল
ঈদ বোনাসের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বেশ কিছু বাস কোম্পানী। গতকাল ২৪ জুন (বুধবার) নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন একেখান মোড এলাকার কয়েকটি বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায় যায় এই চিত্র। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছে শত শত যাত্রী। জোনাকী সার্ভিস লাইন ও শাহী পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু বাস সার্ভিসও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যদিও গত ১৯ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে নগরীর বেশ কিছু এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে ঈদের বোনাসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে ও হয়রানি বন্ধে অভিযান চালায় এবং মোবাইল কোর্ট চালু করে। অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিবেও বলেছিলেন জেলা প্রশাসক ইশতেয়াক আহমেদ। কিন্তু মোবাইল কোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কথা অমান্য করে নির্ভয়ে বাস সার্ভিসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ও লক্ষীপুর যাওয়ার নির্ধারিত ভাড়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। শাহী পরিবহনের টিকিটের দামও একই। কিন্তু তাঁরা নির্ধানিত ভাড়া আদায় না করে ২৫০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে নোয়াখালী, লক্ষীপুর যাওয়ার কিছু লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। সেগুলোতেও একই অবস্থা। লোকাল বাস সার্ভিসে নির্ধানিত ভাড়া নেই। যে যার কাছ থেকে যা নিতে পারে। তবে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী লক্ষীপুর ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সে জায়গায় ঈদ উপলক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার উপরে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে শ্যামলী, হানিফ, গ্রীণ লাইন ইত্যাদি পরিবহন তাদের নির্ধানিত ভাড়াই নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম থেকে লক্ষীপুর যাবে এমন একজন যাত্রী মো. হামিদ হোসাইন বলেন, সাধারণ বাসগুলোতে চট্টগ্রাম থেকে লক্ষীপুর যেতে ১০০-১২০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো লোকাল। যেখানে সেখানে দাঁড়ায়। এতে লক্ষীপুর যেতে ৬-৭ ঘন্টা সময় লেগে যায়। অন্যদিকে জোনাকী ও শাহী বাসগুলো সরাসরি লক্ষীপুর যায় সে জন্য তারা ভাড়া নেয় ২৫০ টাকা। যা নির্ধারিত। কিন্তু ঈদ আসলে বোনাসের নামে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। গত বছর ঈদের সময় তারা জন প্রতি আদায় করেছে ৪০০ টাকা করে। আর এই বছর ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। আবার বাড়ি থেকে ফেরার সময়ও একই ভাড়া দিয়েই আসতে হবে।
জোনাকী বাস কাউন্টারের ভেতরে রুবী নামের এক যাত্রীকে দেখা যায় কাউন্টারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তর্ক করতে। উক্ত যাত্রীর কাছে তর্কের কারণ জানতে চাইলে বলেন, দেখুন না ঈদ বোনাসের নাম করে ডবল ভাড়া আদায় করছে তারা। নোয়াখালী যাবার নির্ধানিত ভাড়া ২৫০ টাকা। এখন তারা নিচ্ছে ৫০০ টাকা। আমরা গার্মেন্টেস এ চাকরি করি। বেতনও ঠিক ভাবে পায়নি। যে বেতন পেয়েছি তা দিয়ে ঠিক ভাবে ঈদ পালন করা মুশকিল। যেতে ৫০০ আবার আসতে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী আসা যাওয়া যদি ১ হাজার টাকা লাগে তাহলে ঈদে বাড়ি গিয়ে কি করবো?
এই চিত্র গত দুই তিন দিন ধরে চলছে। যদি এমন হয় তাহলে মানুষ স্বস্তিতে থাকবে কিভাবে? বুঝলাম এখন ঈদের সময়। যাত্রী বেশি গাড়ি কম। তাই বলে গলাকাটা ভাড়া আদায় করবে? দেশের সকল যাত্রীদের কি একই আয় নাকি? এই বাস সার্ভিসগুলোর বেশির ভাগ যাত্রীই গার্মেন্টস কিংবা ছোট খাট কাজ করে কোন রকম কষ্টে জীবন যাপন করে। ২৫০ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছে এটাই তো তাদের জন্য বেশি। ৫০০ টাকা কম দিয়ে যেতে পারলে সেই ৫০০ টাকা দিয়ে পরিবার, সন্তানের জন্য বাড়তি কিছু নিয়ে যেতে পারবে। দুই দিন ভাল খাবার খেতে পারবে।
অতিরিক্তি ভাড়া আদায় করার বিষয়ে যাত্রী নুর আলম বলেন, এভাবে যাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করে অতিরিক্ত গলাকাটা ভাড়া আদায় করা ঠিক হচ্ছে না। প্রশাসন কি করছে? প্রশাসনের কি উচিত নয় প্রতিদিন অভিযান করা? নাকি প্রশাসনের মদদে তারা এ কাজ করছে? প্রশাসনের উচিত এখনই তাদের হাতে নাতে ধরা। শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করতে না পারে।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করতে হবে

সামাজিক শৃংখলার অধঃপতন

Leave a Reply