অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁর রাণীনগরে প্রায় ৩০ বছর ধরে ঘর বন্দি নিপেন, অর্থাভাবে জুটছে না উন্নত চিকিৎসা

নওগাঁ প্রতিনিধি

 

 

 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ভান্ডারা গ্রামে নিপেন চন্দ্র পাল নামের এক মানসিক রোগীকে প্রায় ৩০বছর যাবত ঘরে বন্দি করে রেখেছে তার পরিবার। এক সময় চিকিৎসা করতে পারলেও বর্তমানে অর্থাভাবে নিপেনকে ঘরের মধ্যে পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। কোন সুযোগ-সুবিধা পা পাওয়ার কারণে গরীব এই পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নিপেনের উন্নত মানের চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নিপেনের বয়স ৪২বছর। উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের মৃত নরেশ চন্দ্র পালের ২য় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই নিপেন ছিলেন খুবই মেধাবী। স্কুলে পড়ার সময় ১২বছর বয়সের পর থেকে হঠাৎ করেই নিপেনের মাঝে অস্বাভাবিক আচার-আচরন লক্ষ্য করে ওর পরিবার। এরপর থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে নিপেন। গরীব পরিবার হওয়ার পরও অনেকবার নিপেনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সামর্থ না থাকায় আর চিকিৎসা সেবা নিপেনের ভাগ্যে জুটছে না। নিপেনকে বাহিরে ছেড়ে দিলেই মানুষকে মারপিট, গালিগালাজ করা, ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়াসহ নানা ধরনের অত্যাচার করার কারণে গত ৫বছর যাবত নিপেনের পায়ে লোহার শিকল দিয়ে একটি মাটির অন্ধকার ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছে তার পরিবার। বিয়ে দিলে হয়তো নিপেন ভালো হতে পারে ধারনা থেকে নিপেনকে বিয়ে দেয় তার পরিবার। বর্তমানে নিপেনের ঘরে ৭ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বয়স্ক মা সম্প্রতি বয়স্ক ভাতা পাওয়া শুরু করলেও নিপেনের পরিবার সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাই নিপেনের পরিবারের দাবী সরকারি ভাবে যদি নিপেনকে উন্নত মানের চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাহলে হয়তো বা নিপেন সুস্থ্ হয়ে উঠতে পারে। নিপেনের বড় ভাই নিতাই চন্দ্র পাল বলেন ১২বছর যাবৎ ভাইকে ঘরে বন্দি করে রেখেছি। এক সময় চিকিৎসা করতে পারলেও বর্তমানে অর্থের অভাবে আর চিকিৎসা করাতে পারছি না। দিন দিন নিপেনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অত্যাচার করে দেখে নিপেনকে তাই বাধ্য হয়েই শিকল দিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছি। নিপেনের স্ত্রী শিখা রানী পাল বলেন আগে পাগলামি কম থাকলেও দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থের অভাবে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। সরকারি ভাবে সহায়তা পেলে উন্নত মানের চিকিৎসা করানো যেতে পারে। হয়তো বা উন্নত মানের চিকিৎসা পেলে আমার স্বামী স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া এক মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে আমি মানবেতর জীবন-যাপন করছি। সবকিছুর জন্য মানুষের কাছে হাত বাড়াতে হয়। তাই আমরা সরকারের সার্বিক সহযোগিতা চাই। কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন আমি নিপেনের বিষয়টি শুনেছি কিন্তু কেউ তার সহযোগিতার জন্য লিখিত ভাবে জানায়নি। তবুও আমি তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন দ্রæত খোঁজ খবর নিয়ে নিপেনের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও তার পরিবারকে সহায়তা করার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নিপেনের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের এবং নিপেনের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে গ্রামবাসীরা।

                                  নওগাঁর মান্দায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত, আটক ২
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় ছোট ভাই এবং ভাতিজার লাঠির আঘাতে বয়েজ উদ্দিন (৭০) নামে একজন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি মান্দা উপজেলার চকগৌড়ী সোনার পাড়া গ্রামে জেহের আলীর ছেলে বয়েজ উদ্দিন বলে জানা গেছে। এঘটনায় ছোট ভাই এবং ভাতিজাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। স্থানীয় এবং মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে চকগৌড়ী সোনার পাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ওই দিন দুপুরের দিকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নিহতের ছোট দুই ভাই হাকিম, হাবিবর এবং হাকিমের ছেলে সুলতান ভিকটিম বাড়িতে এসে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করলে বয়েজ উদ্দিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় বয়েজ উদ্দিনকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তারেকুর রহমান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হবিবর রহমান এবং ভাতিজা সুলতানকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন এবিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং লাশ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply