বাংলাদেশ, শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হেফাজতের আমির শফী পুত্র আনাস মাদানী বহিষ্কার

অবশেষে আন্দোলনের মুখে হেফাজতে আমির ও হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর পুত্র কেন্দ্রীয় হেফাজতের প্রচার সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পরে মাদ্রাসার মসজিদের মাইকে এমন ঘোষণা পাঠ করেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও মেখল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী ঘোষণা পাঠ করে শোনান। মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাওলানা নোমান ফয়জী বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতিসহ মোট তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুরা কমিটি। সেগুলো হলো- এখন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো রকমের হয়রানি করা হবে না। আগামী শনিবার মজলিসে শুরার সব সদস্য মিলে বাকী সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।

মাদ্রাসার মাইকে ছাত্ররা বারবার দাবি দিতে থাকেন- আনাস মাদানিকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়ন সহকারে সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আল্লামা আমদ শফি শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় পরিচালক পদ থেকে তাকে সম্মানজনক অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে। উস্তাদদের পুর্ণ অধিকার ও বিয়োগ নিয়োগকে সুরার নিকট পুর্ণ ন্যস্ত করতে হবে। বিগত শূরার হক্কানি আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদেরকে পদচ্যুত করতে হবে।

দাবি আদায় না হলে মাদ্রাসার সমস্ত একাডেকিম কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও মাইকে ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী ছাত্ররা। তারা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। আন্দোলন চলাকালে মাদ্রাসার ভেতরে আনাস মাদানিসহ তিন জন শিক্ষকের কক্ষ ভাংচুর করা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে হেফাজত নেতা মঈনুদ্দিন রুহিকেও।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর