বাংলাদেশ, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকার একজন ভালো অর্থ ব্যবস্থাপক, একজন ভালো আর্থিক উপদেষ্টাও

আজ সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলার “সাক্ষাৎকার” পর্বে আমরা কথা বলবো তরুণ ব্যাংকার মোঃ তানভীর উদ্দিন চৌধুরী (শাওন) এর সাথে । সাক্ষাৎকারটি অনলাইন দৈনিক বাংলাপোস্টবিডিকম ভিজিটরদের জন্য নিম্নে পত্রস্হ করা হলো।
 আনোয়ারা থানার বারখাইন ইউনিয়নের পূর্ব বারখাইন গ্রামে মোঃ তানভীর উদ্দিন চৌধুরী (শাওন) এর জন্ম ও বেড়ে উঠা। ২০০০ সালে তৈলাদ্বীপ বারখাইন এর্শাদ আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০২ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরবর্তীতে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম থেকে এমবিএ শেষ করে বর্তমানে মার্কেন্টাইল ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখাতে কর্মরত আছেন। পেশায় একজন ব্যাংকার হলেও  তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। মানবিক সংগঠন গুলোতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে  তিনি ভালোবাসেন। আজ আমরা তাঁর সাথে ব্যাংক সেক্টর নিয়ে কথা বলবো।
রবিন: আসসালামু আলাইকুম।
তানভীর শাওন: ওয়ালাইকুম সালাম।
রবিন : কেমন আছেন আপনি?
তানভীর শাওন : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
রবিন: ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে আপনার ভাবনা?
তানভীর শাওন : কিছুদিন আগেও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ রোল মডেল ছিলো বিশ্বে। ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে গর্ব করতাম আমরা। অথচ, আজকের দিনে সবচাইতে দুর্বল অবস্থায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। বিশাল অংকের খেলাপি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ব্যাংকগুলো। একটার পর একটা অনিয়ম-ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রোফার মনিটরিং করলে ব্যাংকিং সেক্টরে এতোটা সমস্যা হত না। ব্যাংক ঋণ, পোর্ট ব্যবহার, সিঅ্যান্ডএফ সুবিধা, রাস্তায় মালামাল পারাপারে অযথা হয়রানি-অরাজকতা অনেক সময় আমরা দেখি, এগুলো সব সিস্টেমেটিক্যালি অ্যাড্রেস করা উচিত। আমরা অনেক সময় দেখি বিউটিফিকেশনের জন্য গাছের টবের পেছনে শত কোটি টাকা খরচ করছে । মেহমানদের ফুল দেয়ার জন্য ব্যয় করছে কোটি কোটি টাকা। অথচ, করোনাকালীন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতেও প্রাইভেট সেক্টরকে চাঙ্গা রাখতে বেতন ভাতার সাথে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছিলো, সেখানে আমরা একদমই উল্টোপথে হেঁটেছি। চাকরী হারানোর ভয়ে অস্থির ছিলো প্রাইভেট সেক্টর। যেকোন সময়ের জন্যে এই ভয় থেকে বের করে আনতে হবে কর্মীদের। সাবেক এবং বর্তমানদের সমন্বয়ে গঠন করতে হবে এক্সপার্ট টীম। কর্মীদের যত্নও নিতে হবে।
রবিন: দুর্নীতি ঋণখেলাপী এদের থেকে সমাজ বা দেশের পরিত্রাণের উপায় কি?
তানভীর শাওন: একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন নতুন প্রজন্ম অনেকটা দূর্নীতি বিমুখ বা দূর্নীতি বিরোধী। পাশাপাশি রেগুলেটরি বোর্ড ( বাংলাদেশ ব্যাংক, দূর্নীতিদমন কমিশন) স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা এই রোগ থেকে মুক্তি পাবো।
রবিন: মোবাইল ব্যাংক, ব্যাংকিং খাতে কোন ধরনের ভুমিকা রাখছে?
তানভীর শাওন: লেনদেন অনেকটা সহজ করে দিয়েছে মোবাইল ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশকে সহজে যুক্ত করেছে ব্যাংকিং লেনদেনে।
রবিন: সমাজে ব্যাংকারদের ভূমিকা কেমন?
তানভীর শাওন: একটা সুস্থ সমাজের জন্য দরকার একটা সুস্থ আর্থিক ব্যবস্থাপনা। দরকার নিরাপদ সঞ্চয় আর নিরাপদ লেনদেন। এর সবটারই নিশ্চয়তা দেয় একজন ব্যাংকার।
রবিন: আনোয়ারায় সরকার হাট একটি বিরাট অর্থনীতির জোনে পরিণীত হচ্ছে। ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে দ্রুত। এখানে ব্যাংকের কোন শাখা করা যায় কিনা?
তানভীর শাওন: হ্যাঁ, বড় হাটে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন বেশ বাণিজ্য হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ শাখা করার সময় এখনো হয়নি। তবে ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম যেমন মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং এই সব সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যেতে পারে।
রবিন: তরুন ব্যাংকারদের উদ্দেশ্য কিছু বলুন।
তানভীর শাওন: ব্যাংকিং একটা সম্মানজনক পেশা একই সাথে প্রতিযোগিতাপূর্নও। এখানে ভালো করতে হলে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং সম সাময়িক বিষয় সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন ব্যাংকার একজন ভালো অর্থ ব্যবস্থাপক ও একজন ভালো আর্থিক উপদেষ্টা।
রবিন: বারখাইন ইউনিয়ন নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ?
তানভীর শাওন:   জীবনের প্রয়োজনে শহরমুখী হলেও এখনো আমার মন পড়ে থাকে গ্রামে। মানব সেবাতে’ই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাই। মানবিক কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়েই একজন  স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে “আমাদের পূর্ব বারখাইন” “স্বপ্নের আনোয়ারা” সহ অনেক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছি। ইচ্ছে আছে গ্রামবাসী কে সাথে নিয়ে আমার গ্রাম পূর্ব বারখাইনে একটা মাধ্যমিক স্কুল নিয়ে কাজ করার। ক্ষুধা মুক্ত আর সুন্দর মন মানসিকতার সমাজের স্বপ্ন দেখি আমি। আমার গ্রামে ছড়ানো ছিটানো থাকবে আমার ছেলেবেলার অনাবিল প্রশান্তি। যেখানে বড়দের সাথে নিয়ে তরুণ সমাজ নেতৃত্ব দিবে প্রতিটি ভালো কাজে। গল্প উপন্যাস পড়ে কাটবে কিশোর কিশোরীদের অবসর। ঝলমলে একটি গ্রাম হবে আমার গ্রাম বাংলার বুকে যেটা আদর্শ হবে। জানিনা কতোটা কি করতে পারবো। তবে আমৃত্যু আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব।
রবিন-: সাপ্তাহিক  পূর্ব বাংলা পত্রিকা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
তানভীর শাওন : সপ্তাহান্তে সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা প্রকাশিত হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। সেই সাথে বাংলার গ্রাম কে নিয়ে “পূর্ব বাংলার” চিন্তা চেতনা সত্যি’ই প্রশংসনীয়। আশা রাখছি বাংলার অবহেলিত গ্রাম এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনা দেশ বাসীর সামনে নিয়ে আসতে কাজ করে যাবে সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা। জনকল্যাণকর কাজ করে যাওয়ার আহ্বান সহ শুভ কামনা রইলো।
রবিন : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
তানভীর শাওন : আপনাকেও

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply