বাংলাদেশ, শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ কর্তৃপক্ষের সপক্ষের দাবী নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন

 সাগর চক্রবর্তী 

শিক্ষকের কথা শিক্ষার্থীরা ধারণ করে। বিশ্বাস করে সকলেই।কিন্তু চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ কর্তৃপক্ষের সপক্ষের দাবী নিয়ে খোদ শিক্ষা বোর্ডের লোকজনও বিশ্বয় প্রকাশ করেছে। ছাত্র – ছাত্রী ও অবিভাবকরাও বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের ফাদেঁ সত্য মিথ্যা বুঝতে পারছে না।শিক্ষার্থীদের আর্কষণ করে এমন চমকি পোস্টার ও ফেস্টুন ছাপিয়ে তারা কাড়ি কাড়ি টাকা কামানোর মিশনে নেমেছে।ইতিপূর্বেও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সুত্রমতে, ক্যাম্পাস নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। এটি চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ জাহেদ খান নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হর্তাকর্তা সেজে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছেন।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ একটি আলোচিত-সমালোচিত প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় বিজ্ঞান কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের তথ্য।এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তার ক্যাম্পাস নিয়ে। কলেজ এক হলেও ঠিকানা একাধিক,এবং জানা যায় কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একাধিক ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন । শুধু তাই নয় দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ১৮তম এবং বেসরকারিতে ১ম হিসেবে দাবি করে আসছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতে ছাপানো হয় বিভিন্ন রকম মন গড়া তথ্য দিয়ে ব্যানার ও ফেষ্টুন। তা অধিকাংশ মানুষেরা যাতে দেখতে পায় এমনভাবে নগরীর অলি গলি থেকে শুরু করে পরিবহন পর্যন্ত ছাটানো হয়।এসব পোস্টার, ব্যানার  ও ফেস্টুন ছাঁটানোর জন্য কখনো সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নেয়া হয়নি । সিটি কর্পোরেশনের বড় এক কর্তার সাথে তাদের অবৈধ লেনদেন থাকায় তারা পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের পরিদর্শক ও কর্মীদের পাত্তাই দেয়নি।গোটা চট্টগ্রামে তারা পোস্টার, ব্যনার ও ফেস্টুন লাগানোর কারণে কখনো সিটি কর্পোরেশন থেকে কখনো নোটিশও পায়নি।মামলাতো দূরের কথা।

তাদের ঠিকানা সম্পর্কে জানতে গুগোলে সার্চ করলে দেখা যায় চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের ঠিকানা মতি টাওয়ার,৪র্থ তলা,চকবাজার কলেজ রোড,চট্টগ্রাম ৪২০৩।তাদের ঠিকানা অনুযায়ী দেখা করতে গেলে পাওয়া যায়নি তাদের কলেজের অস্তিত্বও। এ বিষয়ে মতি টাওয়ারে কর্মরত এক দারোয়ানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এখানে কলেজ নেই কলেজ এখন বহদ্দারহাট চাঁদগাঁও-এ । ব্যানারে নাম্বার আছে যোগাযোগ করে দেখেন ! পরে তাদের ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখলে তাদের ঠিকানা ছিলো মুক্তি ভবন ৬৫/এ চকবাজার গুলজারের পশ্চিমে। পরে মুক্তি ভবনে গেলে দেখা যায় ভবনের বিশাল করে সাইনবোর্ড লাগনো আছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ তবে সাইনবোর্ড শুধু একটি নয় সাইনবোর্ড দুটি আর একটি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ!এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে উঠে আসে ভিন্ন রূপ তথ্য।কলেজ দুটির মালিক অধ্যাপক মোঃ জাহেদ খান ! ক্যাম্পাস পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য জানতে কলেজে কর্মরত সুমন ভৌমিক এর সাথে কথা বললে তিনি কলেজ এর ঠিকানা দেন গুলজার এর পাশে ।পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তাদের অফিস এডমিন এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এই বিষয়ে অফিস এডমিন খোরশেদ আলম এর সাথে কথা বললে জানা যায়, তাদের কলেজ এখন মুক্তি ভবনে, তবে বহদ্দারহাট চাঁদগাঁও-এ তাদের কোনো কলেজ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তাদের হোস্টেল এটি।তাদের ক্যাম্পাস পরিবর্তন সম্পর্কে বোর্ডের কোনো অনুমতি আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন থানা থেকে একই থানায় পরিবর্তন করলে অনুমতি লাগে না তবে আমরা তো এক থানায় আছি তাই আর অনুমতি লাগবে না। এ বিষয়ে কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ জাহেদ খানের সাথে বার বার ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।সর্বশেষ তার ০১৭০৬ ৩৯৩৬০৩ রাত ৮ টা ৪৬ মিনিটে এই রিপোর্ট লেখাকালীন সময়েও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ১৮তম এবং বেসরকারিতে ১ম হিসেবে দাবি করার বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসার মুহাম্মদ জাহেদুল হক বলেন, গত ৫ বছর ধরে আমরা কোন তম বিবেচনা করিনি। ওরা ১৮ তম কীভাবে দাবী করে সেটা তারাই জানে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply