ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

রাঙামাটিতে এনজিও’ সমিতি চাকরী প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ!

চৌধুরী হারুনুর রশীদ,রাঙামাটি
রাঙামাটিতে এনজিও সমিতি’র চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবক -যুবতীসহ শত শত চাকরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের চোখের সামনে এ অনিয়ম-অপরাধ মাসের পর মাস চলতে থাকলেও দেখার কেউ নেই।
সমতল ভুমির বরগুনাজেলার একটি সমিতি যার নাম ”উদয়ন সমাজ কল্যাণ সমিতি” নামে রাঙামাটি শহরে টিটিসি রাস্তার মুখে এক বহুতল ভবনে ৬ তলায় অফিস খুলে বসানো হয়েছে এ প্রতারণার ফাঁদ। এ পাতানো ফাঁদে পা দিচ্ছেন রাঙামাটি পাহাড়ের অধিকাংশ দরিদ্র, অসহায় ও বেকার যুবক যুবতীরা।

 

 

 

 

উদয়ন সমিতির কর্পোরেট অফিস দেখানো হয়েছে ঢাকাস্থ ৪৩/১, নয়া পল্টন, ঢাকা-১০০০ এ। কিন্তু বাস্তবে সেখানে অফিস আছে কিনা তাও সন্দেহ করছেন ভূক্তভোগীরা। কারন, সেই অফিসের কাগজে মুঠোফোনের নাম্বার দেয়া থাকলেও বারংবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়না।

পাশর্^বর্তী বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী বিপ্লব চাকমা নিজেকে তিন জেলা (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) জেলার জেলা ম্যানেজার দাবী করে এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকার দু’এক জনের সাথে যোগসাজস করে এ অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গত মার্চ মাস ২০২০ইং দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের লকডাউনের সময় থেকে।

চাকরী প্রার্থীদের বোঝানো হচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের উপর শত কোটি টাকার ফান্ড ব্যয় করা হবে তিন জেলায়। প্রথমে সার্ভে কাজ করা হবে তারপর মূল কাজ শুরু করা হবে বলা হচ্ছে। সেজন্য সমিতির ঢাকা অফিস থেকে আইডি কার্ড প্রদান, রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকায় ফাইল নিয়ে যাওয়া এবং ইন্টারভিউ খরচ দেখিয়ে সুকৌশলে প্রত্যেক প্রর্থীর কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৫ হাজার থেকে ১০/২০ বিশ হাজার ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশী টাকা নেয়া হচ্ছে বলে ভূক্তভোগীরা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

সমিতির কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, চাকরী দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ যেমন-এরিয়া ব্যস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক, সুপাভাইজার ও মাঠকর্মী দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিপ্লব চাকমা প্রথমে অফিস ভাড়া নেয় জেলা শহরের কল্যাণপুরস্থ সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর অফিসে। সেখান থেকে বাড়ীর বিল্পবের প্রতারণা বুঝতে পেরে তাড়িয়ে দেয়া হয় ।

জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা নয়ন তংচঙ্গ্যা বলেছেন, তাকে দশ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল শাখা ব্যবস্থাপক পদের জন্য। অন্য তিন জন ৫হাজার করে দিয়েছিল বিপ্লব চাকমার হাতে। ঠিক একই অভিযোগ করেন নানিয়াচর উপজেলার প্রার্থী নরেন চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, তাদের উপজেলা থেকে চার জন মিলে ৫হাজার করে ২০হাজার টাকা দিতে হয়েছিল। রাঙামাটি সদর এলাকার রিপনা চাকমারও সেই একই অভিযোগ। তাকে মাঠ কর্মী পদের জন্য ৫হাজার দিতে হয়েছিল।
জুরাছড়ি,বিলাইছড়ি,বাঘাইছড়ি,লংগদু ,বাঘাইছড়ি,নানিয়াচর ,কাউখালী,কাপ্তাই ও রাঙামাটি সদরে লোক প্রক্রিয়ার মেয়াদ পত্রিকার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মতে অনেক আগে শেষ হয়েছে ।
”চাকরী পাবার আশায় অন্য জনের কাছ থেকে ধার করে ঐ টাকা দিয়েছিলাম সেই দেশব্যাপী লকডাউনের সময়। ঐ টাকার জন্য এখন মা-বাবার কাছ থেকে কথা শুনতে হচ্ছে প্রতিদিন। কিন্তু পাঁচ মাস চলে গেলেও নিয়োগপত্র পায়নি। আজ না কাল, এই মাসে না হলে আগামী মাসে নিয়োগ দেয়া হবে বলে কাল ক্ষেপন করা হচ্ছে” বলেন রিপনা।

এ ব্যাপারে বিপ্লব চাকমার সাথে কথা বললে সে জানায়, প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া সমস্ত টাকা তাকে হেড অফিসে পাঠাতে হয়। যেহেতু, প্রার্থীদেরকে ঢাকায় গিয়ে ইন্টারভিউ দিলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়তে হতো। কাজেই তাদের সুবিধার্থে এটা বাতিল করে এ কাজ রাঙামাটিতে করা হচ্ছে এবং অফিস খরচ নেয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করে। বিপ্লব আরো জানায় যে, তারা এখনও ফান্ড পায়নি। তাই সমিতির নিজস্ব টাকা দিয়ে প্রথমে সার্ভে কাজ করা হবে তিন জেলায়। বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে টাকা নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, নিয়োগ প্রার্থীদের কাগজপত্র ঢাকা আসা যাওয়া খরচের টাকা নেয়া হয়েছে ।
রাঙামাটি জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক ফোন করে নির্দেশনা দিয়েছেন,এনজিও নীতিমালা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে ।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply