বাংলাদেশ, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাস রোগ টা অবিকল ডায়াবেটিস রোগের মত ই, ডায়াবেটিস রোগ এর ফাংশন যেমন রক্তের সাথে ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাস এর সম্পর্ক টা রক্ত সার্কুলেশন এর সাথে

করোনা ভাইরাস থেকে আমরা কি শিক্ষা পেলাম?অধম এম এ করিম ইবনে মছব্বির। সারা পৃথিবীটা দীর্ঘ পাঁচ মাসের অদৃশ্য পেনডেমিক মাইক্রোসকোপ ভাইরাসে দৃশ্যমান অগণিত লাশ, লকডাউন, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, সকল ধর্মের পবিত্র জায়গা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, পেগডা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হসপিটালে রোগীর নিকট ডাক্তার গেলে, ডাক্তার ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে, পৃথিবীর সকল মানব জাতিই দৃশ্যমান করোনা ভাইরাস এর অদৃশ্য আযাব দেখে সবাই অনুধাবন করতে পারছেন যে, মৃত্যুর পর কিয়ামতের আযাব টা কেমন হবে?দুনিয়ার করোনা ভাইরাস এর আযাব টা পৃথিবীর সকল মানব জাতিকেই শিক্ষা দিয়েছে যে, ইয়া নাফছী, ইয়া নাফছী, ইয়া রাব্বানা ইয়া রাব্বানা, ।করোনা ভাইরাস থেকে আমরা কিছুটা না হলে ও শিখতে পেরেছি যে, আর জীবনে কখনো কবিরা গোনাহ, ছগীরা গুনাহ করবো না। মিথ্যা কথা বলবো না, চুরি, ডাকাতি, খুন, সুদ, ঘুষ,হিংসা, চোগল খুরী,গীবত খুরী, দুর্নীতি, সবই বন্ধ হয়ে গেছে, ।করোনা ভাইরাস এর প্রথম দিকে মানুষ খুবই ভয় পেয়ে মসজিদমুখী এবং আল্লাহমুখী হয়েছিলো, ।পরে কিছু কিছু মানুষ যারা করোনা ভাইরাস এর মধ্যে দিয়ে খারাপ কাজ করছে, ।আল্লাহর নিকট করোনা ভাইরাস এর ভয়ে তাওবা করে, আবার করোনা ভাইরাস আপ ডাউন করলে কেউ বা হয়ে যায় শক্ত মনের কেউ বা নরম মনের, করোনা ভাইরাস এর প্রথম দিকে মানুষ খুবই ভয়ে আতংকিত ছিলো, কিছু কিছু মানুষ করোনা ভাইরাস এর মাঝেও অপকর্ম করে তাদের অন্তর ও কঠোর হয়ে গেলো, এ বিষয়ে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, আমি তাদের কে অভাব অনটন ও রোগ ব্যাধি দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা আমার নিকট কাকুতি মিনতি করে, অতঃপর তাদের নিকট যখন আমার আযাব আসলো, তখন তারা কোন কাকুতি মিনতি করলো না? প্রকৃত পক্ষে তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেলো। সুরায়ে আনয়াম আয়াত ৪২ ,৪৩।এমতাবস্থায় করোনা ভাইরাস থেকে যারা আল্লাহ কে চিনতে পেরেছে তারাই ইহকাল এবং পরকালে সাফল্য মন্ডিত। আর যারা পাপ কাজে লিপ্ত তারা ই ইহকাল এবং পরকালে বিপর্যস্ত। করোনা ভাইরাস এর শিক্ষা টা হলো মুলত কিয়ামত দিবসের ইয়া নাফছীটা কে অনুভব করা, ।করোনা ভাইরাস যেমন অদৃশ্য ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাস এর মেডিসিন ও হলো অদৃশ্য। আর করোনা ভাইরাস এর অদৃশ্য মেডিসিন হলো, জন্ম থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত যত রকম, কুফুরী, শির্কী, কবীরা গোনাহ, ছগীরা গুনাহ, বাতিনী গোনাহ, জাহিরী গোনাহ, জেনে গোনাহ না জেনে গোনাহ মাফ এর জন্য আল্লাহর নিকট খালিছ নিয়তে তাওবা করা, পাঁচ ওয়াক্ত এর ফরজ নামাজ আদায় মনযোগী হওয়া, জন্ম থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত জীবনে যত ফরজ নামাজ কাযা হয়েছে সে ফরজ নামাজের কাজা নামাজ গুলি আদায় করা। নিয়মিত আল কোরআন তিলাওত করা, ।তাহাজজুদ এর নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর নিকট চোখের পানি ফেলে দোয়া করা, ফজরের নামাজ আদায় করে ভোরের রহমতের হাওয়া, বাতাস গ্রহণ করা, নিয়মিত কালো জিরা এবং খাটি মধু আহার করা। পৃথিবীর সকল রকম দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা, মনে মনে এটাই ভাবতে হবে যে দুনিয়া তে আমি তো আর স্হায়ী থাকবো না, অতএব সাড়ে তিন ইন্চি পেঠের জন্য হাত হুতাশ করে অহেতুক রোগ বাড়ানোর দরকার নেই। করোনা ভাইরাস রোগ টা অবিকল ডায়াবেটিস রোগের মত ই, ডায়াবেটিস রোগ এর ফাংশন যেমন রক্তের সাথে ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাস এর সম্পর্ক টা রক্ত সার্কুলেশন এর সাথে। হালাল অর্জনের রিজিক খাবার খাবেন। হারাম সকল কাজ থেকে দূরে থাকবেন। সব সময় চেষ্টা করবেন গোনাহ মুক্ত থাকার জন্য। যে দিন চলে যায় সে দিন আর ফিরে আসে না, অতএব করোনা ভাইরাস শেষ হলে ও সেই সোনালী দিন গুলি আর ফিরে আসবে না। পৃথিবীতে আগের মতো মানবতা, সামাজিকতা থাকবে না। কারণ করোনা ভাইরাসে অধিকাংশ মানুষের মন কঠোর করে ফেলেছে। করোনা ভাইরাস এর মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা মানুষ গুলি আর আগের মতো থাকবে না, কারণ তাদের রক্তের মাঝে জীবাণু এর আঘাত, একবার যার করোনা হয়েছে সেটা আবার ফিরে যেতে পারে। এমতাবস্থায় মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা বাকি জীবন টা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় ঘরে হোক আর মসজিদে হোক জায়নামাজে বসে থাকাটা ই উত্তম। রিজিক এর কি হবে সব কিছু ই মহান রাব্বুল আলামীন এর উপর ছেড়ে দিন। পবিত্র আল কোরআন আল্লাহ পাক বলেন যে, একমাত্র তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করো, যদি তোমরা প্রকৃত পক্ষে মুসলিম হয়ে থাকো, ।সুরায়ে ইউনুস ।করোনা ভাইরাস এ পৃথিবীর অগণিত মানুষ মারা গেছেন, অগণিত মানুষ মগজ ধোলাই হয়ে গেছেন। চাকুরি হারা, পরিবার পরিজন হারা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, লাইফ সাপোর্ট এর করোনা কালীন পৃথিবী ।এমতাবস্থায় আমরা যেনো ঈমান হারা এবং ধৈর্য হারা না হই। হযরত ইউনুস নবী, হযরত ইব্রাহিম আ, হযরত মুসা আ,হযরত ইসমাইল আ,হযরত ইউসুফ আ,হযরত জাকারিয়া সহ সকল নবী দের কে ও আল্লাহ পাক জান মালের পরীক্ষা করছেন। অতএব আমরা ও আল্লাহর বান্দা এবং আখেরী নবী রাছুল মোহাম্মদ সা এর উম্মত রা ও আল্লাহর সকল কঠিন পরীক্ষা তে ঈমান, ইস্তেগফার, সালাত, জিকির, তাকওয়া এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ই হলো আল্লাহর পাঠানো গজব অদৃশ্য করোনা ভাইরাস এর শিক্ষা হলো একমাত্র নিরবে, নির্জনে আল্লাহর নিকট তাওবা করা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, আল্লাহ পাক আমাদের কে মাফ করে দেন তার অসীম দয়ার গুনে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply