বাংলাদেশ, রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৬) ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমীপে

মাননীয়,

 দেশে একমাত্র জাতি সংঘ পদক প্রাপ্ত  ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমীপে,

শ্রদ্ধেয় জাবেদ ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া করোনা কালে আপনার নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার সার্বিক  উন্নয়ন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নানান কল্যাণকর কর্মসুচী ও দেশের ভবিষ্যত হরেক রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

 ভাইজানরে,

আপনি হইলেন এইদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর ও দুঃসময়ের আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী প্রয়াত জননেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে।তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের ভুমি মন্ত্রী আপনি। এর আগেও এই মন্ত্রণালয়ের সফল প্রতিমন্ত্রী হিসাবে আপনি সুনাম কুড়াইয়াছেন।চট্টগ্রাম শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করিয়া ব্যবসায়ীমহলেও আপনি প্রশংসিত ও আলোচিত ব্যাক্তি।আপনার পরিচালিত মন্ত্রণালয় ‘জাতি সংঘ’ পদক লাভ দেশের জন্য এক বিরল ঘটনা।এইজন্য মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে ও আপনার মন্ত্রণালয়ের সবাইকে অভিনন্দন জানাইয়াছেন।এই পাওনা আনোয়ারা ও কর্ণফুলীবাসী শুধু নয় গোটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য বিশাল অর্জন। ডেল্টা গভর্নেন্স কাউন্সিলের দূর্লভ সদস্য হইবার ভাগ্য চট্টগ্রামের আর কাহারো হয়নি।সবমিলিয়ে আপনার তুলনা শুধু আপনিই।এই কারণে আপনাকে লইয়া চট্টগ্রামবাসী গর্ব করিয়া থাকে।এখন বাবু, কায়সার, মহিউদ্দিন নাই। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেবও বৃদ্ধ হইয়াছেন। কর্ণেল অলীর কথা এখন কেউই শুনে না।সাকার ফাঁসি হইয়াছে ।মোর্শেদ খান দেশেও নাই।নোমান সাহেব দলে ও তারেকের কাছে অবহেলিত।মুসলেম উদ্দিন আহমদ জীবনে এই প্রথম এমপি হইয়াছেন মাত্র।ওয়াশিকা আয়শা খান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পদ লইয়া ব্যস্ত।আমিন ও বিপ্লবেরা রাজনীতিতে সক্রিয়।মাইনুদ্দীন হাসান চৌধুরীর তৎপরতা এখন চোখে আর পড়ে না । আ জ ম নাছির উদ্দিন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ লইয়া সংগঠন চালাইতেছেন। ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এখনো সিকি মন্ত্রী মাত্র। চট্টগ্রামের সকল দাবী দাওয়া লইয়া দেন দরবার করিবার মতো সরকারের সাথে ড. হাসান মাহমুদ ও  আপনি ছাড়া আর কেউই নাই।যাক, সেইসব কথা।

 ভাইজানরে,

‘জাতি সংঘ‘ পদক লাভ  গোটা দেশের মধ্যে এইটি বিশাল অর্জন।  এই অর্জন চট্টগ্রাম শুধু নয়  দেশেরও আর কাহারো ভাগ্যে জুটে নাই।এমনকি পরিচ্ছন্ন ও কর্মটু মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সোহেল তাজ , ড. আবদুর রাজ্জাক, মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, আবদুল মান্নান ইহারাও দেশ জুড়িয়া প্রশংসিত হইলেও আপনার মতো এই বিরল সম্মানের পদক পাননি।এই বিষয়টি যত গভীর ও গাম্ভীর্যপূর্ণ  ছিল তাহা আপনার কাছের লোকেরা তেমন গুরুত্ব দেয় নাই ।লোকেরা বলিতেছে, এইটা দুইটি কারণে হইয়াছে ( ১)  তাহাদের এইসব দূরদর্শীতা বোধ শক্তি ছিল না (২) তাহারা শুধু স্বার্থের জন্য আপনার আশেপাশে থাকে আপনার মর্যদা ও ব্যাক্তিত্ব বাড়ুক এই বিষয়ে তাহাদের মাথা ব্যাথা নাই।এই বিষয়গুলো  আপনাকে না বলিবার জন্য  অনেকে  অনুরোধ করিলেও আবার আপনার অরজিনাল  ভক্তরা এইসব উল্লেখ করিতে অনুরোধও করিয়াছে।কিছু লোক বলিতেছে, এইসব আসল কথাগুলো বলিলে আমার সমালোচক বাড়িয়া যাইবে।আসলে  আমিও আমার সম্পাদিত পূর্ব বাংলায় এই বিষয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করিতে যাইয়া হাড়ে হাড়ে টের পাইয়াছি আপনার পিছনে এত লোক কেন ঘুরঘুর করিতেছে।মন্ত্রী আছেন, বাঁশি আছে বলিয়াই এই রমরমা অবস্হা আপনার।আপনার ঐতিহ্য ধরিয়া রাখিবার ,  আপনার পরিশ্রমের মূল্যায়ন পাইবার , ত্যাগী  ও পরিচ্ছন্নদের খুঁজিয়া আপনার পাশে রাখিতে হইবে । নইলে বাঁশি না থাকিলে লাইট দিয়াও উহাদের খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।ছোট মুখে বড় কথা বলিলাম শুধু আপনাকে আগাম বিষয়টি জানানোর জন্য। আওয়ামী লীগের মেধাবী, ত্যাগী ও নিঃস্বার্থ লোকেরা এইসব কথা বলাবলি করিতেছে।আপনাকে গোটা দেশের মধ্যে সুন্দরভাবে পরিচয় করিয়া  চট্টগ্রামবাসীর জন্য আপনি এক যোগ্য ব্যাক্তিত্ব তাহা বুঝানোর একটা সুযোগ আসিয়াছিল এইবার ।এই জীবনে আর আসিবে কিনা আল্লাহ মালুম।

ভাইজানরে

আপনার  নির্বাচনী  এলাকায় মসজিদে, সভায় ও বিভিন্ন বৈঠকে যেসব কথা বলিয়াছেন তাহা অক্ষরে অক্ষরে পূরন করিলে সাধারণ জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা বাড়িয়া যাইবে। গ্রামের মানুষ ওইসব ভুলিয়া যায় না। রাউজান ও চন্দনাইশে ফজলুল করিম চৌধুরী ও কর্ণেল অলির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তাহারা নিজ এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন কাজ করিয়াছে। রায়পুর ইউনিয়নে উপকুলীয় বাধঁ লইয়া নানান কথা বাতাসে উড়িতেছে।দুইটা মানববন্ধন হইয়াছে বাঁধ লইয়া।এলাকার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি , ভয়, উদ্বেগ ও অজানা আশংকা বিরাজ করিতেছে।আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়ার উন্নয়ন কাজে কাহাকে একটুও ছাড় দিবেন না।আপনার নামও যাহাতে বিক্রি করিয়া আপনার ক্ষতি যাহাতে করিতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখিবেন।কাফকোর সামাজিক খাতের টাকা বরিশালে ব্যয় হইয়াছে।এইটা কেমনে হইলো ? বিষয়টি বিস্তারিত খবর লইয়া বিহিত ব্যবস্হা করিবার জন্য আপনার শুভাকাঙ্গীরা অনুরোধ করিতেছে।কাফকোর সামাজিক খাতের একটি অংশ আনোয়ারা ডায়াবেটিক হাসপাতাল পাইতে পারে না ? অথচ অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনোয়ারা ডায়াবেটিক হাসপাতালে নাই ।  বিষয়টি আপনাকে ভাবিতে হইবে।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায়

ইতি আপনারই গ্রাম বাংলা

অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্হনা :  ম.  আ.   হ

আগামী সংখ্যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা ( ২২ ৭  ) প্রকাশিত হইবে ।

 

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply