বাংলাদেশ, বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জের পতনঊষারে সচেতন নাগরিক সমাজের মানববন্ধন পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং, মিটার ভাড়া ও ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি

 

এম এ ওয়াহিদ রুলু
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাসিক হারে মিটার ভাড়া, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল
আদায় ও ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে কমলগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার
(৫ আগষ্ট) বেলা ১২ টায় উপজেলার পতনঊষার শহীদনগর বাজারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির
অভিযোগ কেন্দ্রের সম্মুখে পতনউষার সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজেন এ
মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল হান্নান চিনুর সভাপতিত্বে ও যুবনেতা আব্দুল
মুকিত হাসানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী অলি আহমদ খান, কলেজ
শিক্ষক বয়তুল হক চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল মুহিত হাসানী, পতনউষার সচেতন
নাগরিক সমাজের সমম্বয়ক ও সমাজকর্মী তোয়াবুর রহমান তবারক, কমলগঞ্জ
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমরেড আফরোজ আলী,
কবি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার যেখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা
বলছে সেখানে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নানা অজুহাত দেখিয়ে
প্রতিনিয়ত ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়েও পল্লী
বিদ্যুৎ সমিতি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভুতুড়ে বিল তৈরী করে নিরীহ সাধারণ
গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া টাকা দিয়ে
মিটার কেনার পরও প্রতি মাসে মিটার ভাড়া আদায় করছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নানা
অনিয়ম ও ক্রুটি-বিচ্যুতির কারণে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগন্তির শিকার হচ্ছেন।
লোডশেডিং, মিটার ভাড়া ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায় বন্ধ করার জন্য সরকার ও
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা জোর দাবি জানান।

দলই চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে মানববন্ধন

আকষ্মিকভাবে বন্ধ রাখা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্যক্তি
মালিকানাধীন দলই চা বাগান অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবিতে শমশেরনগর চা বাগানে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চা শ্রমিকরা। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে
৯টায় শমশেরনগর চা বাগান কারখানার সামনে এ মানববন্ধন কমূসূচি পালিত হয়।
শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য লছমন মাদ্রাজীর সঞ্চালনায় ও
পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নিপেন্দ্র বাউরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য
রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালীর কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক

নির্মল দাশ পাইনকা, চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সীতারাম বীন, জাগরণ যুব ফোরামের
সভাপতি মোহন রবিদাস, চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত
কানু গোপাল, নারী নেত্রী মনি গোয়ালা, আশা আরনালসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।
বক্তারা বলেন, গত ২৭ জুলাই থেকে বে-আইনীভাবে দলই চা বাগান বন্ধ ঘোষণা
করে কর্তৃপক্ষ। এই চা বাগানের ব্যবস্থাপক নানা কারণে বিতর্কিত। চা বাগানের
ছায়াদানকারী গাছ কেটে বিক্রিসহ না অনিয়মের সাথে তিনি জড়িত। গত ২৩ জুন
তিনি সে চা বাগানের এক শ্রমিক সন্তানকে বেদড়কভাবে পিটিয়ে আহত করে
উল্টো তার চা বাগান থেকে বিতাড়িত করতে চান। এর প্রতিবাদে দলই চা বাগানে
এক দিনের কর্মবিরতি পালন হয়। এরপর ইউনিয়ন পর্যায়ে দু’দফা সমঝোতা বৈঠক হলেও
কোন সমাধান হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে দলই চা বাগানে কাজ চললে কোম্পানী মিথ্যে
অজুহাত দেখিয়ে আইন পরিপন্থী আকস্মিকভাবে ঈদের ৫ দিন আগে নোটিশ
টাঙ্গিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দলই চা বাগান বন্ধ ঘোষনা করে। এরপর ২৯ জুলাই ও গত
৪ আগষ্ট কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদে দু’দফা
বৈঠকেও দলই চা বাগান খোলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তাই এখন থেকে
চা শিল্পাঞ্চলে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে বুধবার সকালে শমশেরনগর চা বাগানে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যেই কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি
পালিত হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার জেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলের চা বাগানে
মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply