বাংলাদেশ, রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৫) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমীপে

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৫) চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাননীয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমীপে

মাননীয়,

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাননীয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমীপে,

শ্রদ্ধেয় নাছির ভাইজানরে  ,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া করোনা ভাইরাস রোধে নানান সচেতনামূলক ক্যাম্পইন,  ত্রাণ বিতরণ, করোনা হাসপাতাল  ও আইসোলেশান সেন্টার, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও  ভবিষ্যত রাজনৈতিক হরেক রকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেলবারে  বঙ্গকন্যা, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে, 

আপনি হইলেন, দেশের সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র।দেশ জুড়িয়া আপনার পরিচয় রহিয়াছে।ছাত্রলীগের রাজনীতি করিয়া অসংখ্য বন্ধুর রাস্তা হাঁটিয়া আজ আপনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র পদে আসীন আছেন। বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ও চট্টলসিংহ নামে খ্যাত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে আপনি রাজনীতিও করিয়াছেন আবার গ্রুপিং রাজনীতিও করিতে হইয়াছে। এইসবের জলন্ত স্বাক্ষী অধ্যাপক পুলিন দে, আতাউর রহমান খান কায়সার,   এম এ মান্নান, ইসহাক মিয়া,  ইদ্রিস বিকম,  ওহাব মিয়া ও নুরুল আলম চৌধুরীরা এখন আর বাঁচিয়া নাই।ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেব বাঁচিয়া আছেন ও সভানেত্রীর খুব কাছের লোক হিসাবে কাজ করিতেছেন।বিষয়টি আপনিই আরো ভালো জানেন।রাজনীতিতে আপনি লড়াই করিয়া টিকিয়া আছেন।দেশবাসী তাহা ভালো করিয়া জানে। মহিউদ্দিন গ্রুপ নাছির গ্রুপ, বাবু গ্রুপ মহিউদ্দিন গ্রুপ আবার বাবু গ্রুপ নাছির গ্রুপ এইসবতো সংবাদ পত্রে প্রায়ই শিরোনাম হইত।অবশ্য বাবু ও মহিউদ্দিন গ্রুপের যখন গ্রপিং রাজনীতি ছিল তখন আপনি বাবুর পক্ষেই ছিলেন।এখন বাবু পুত্র জাবেদ ও মহিউদ্দিন পুত্র নওফেল দুইজনেই মন্ত্রী।জাতীয় পতাকা উড়াইয়া বাঁশি বাজাইয়া রাস্তায় চলিতেছে তাঁহারা।যদিও ক্ষেত্রবিশেষে মন্ত্রীর চেয়েও নগর মেয়রের সামাজিক মর্যদা অনেক বেশী।কিছু কিছু লোকেরা বলিতেছে ,মন্ত্রী হইবার চেয়েও মেয়র হওয়া অনেক কঠিন।দেশের অনেক মন্ত্রীরা মেয়র পদে প্রার্থী হইলে তখন বুঝিবেন কত ধানে কত চাল।কেন কি কারণে আপনাকে মন্ত্রী মর্যদা দিলেন না, কাহারা ষড়যন্ত্র করিল, যাহারাই ষড়যন্ত্র করুক তাহারা ঠিক করেন নাই, সত্যিই তাহারা দলের ক্ষতি করিয়াছে বলিয়া সচেতন লোকেরা বলিতেছে।বিজ্ঞ লোকেরা বলিয়া থাকে , দাদার পরিচয়ে গাধা , বাপের পরিচয়ে আধা আর নিজ পরিচয়ে শাহজাদা । যাক, সেই সব কথা।

ভাইজানরে,

এই করোনাকালে চট্টগ্রামের মানুষ বুঝিয়াছে, গণ মানুষের নেতা কে ? দিন রাত কে মানুষের জন্য কাজ করিয়াছে।সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল, ইলেক্টনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার তৎপরতা দেখিয়া অনেকে আপনাকে অনুসরণ করিয়াছ। এইটা মোটেই খারাপ না।ভালো কাজের প্রতিযোগিতাও হইলো, হইলো নিজের অবস্হানও নির্ণয়।সাধারণ মানুষও কিছু ত্রাণ পাইল।নইলে অনেকে ঘরে বসিয়া থাকিতেন সাধারণ মানূষও কষ্ট পাইত।তবে অনেকে অভিযোগ  করিতেছে,  মধ্যবিত্ত পরিবার করোনাকালে এইবার সবচেয়ে বেশী বিপদে ছিলেন এখনো আছেন।ফোন ছিল বিজি, মেসেজে সাড়া মিলেনি এই অভিযোগ ছিল ব্যারিষ্টার নওফেল ও আপনার প্রতি।এইবার মানুষকে সেবা করিবার যেই সুযোগ আসিয়াছে জীবনে আর নাও আসিতে পারে।করোনাকাল এখনো শেষ হয়নি। মেধা বুদ্ধি দিয়া এই কুরবানে ও করোনা মৌসুমে মানুষের পাশ না ছাড়িবার জন্য আপনার ভক্ত- অনুরক্তরা অনুরোধ করিতেছে।ঠান্ডা মিয়া করোনা রোধে একটি পাইলট প্রোগ্রামের কথা ভাবিয়াছে । নিচের প্যারায় তা তুলিয়া ধরা হইল ।তাহা বাস্তবায়ণ করিবার আপনিই যোগ্য ব্যাক্তি বলিয়া আপনার সমর্থকেরা বলিতেছে।

ভাইজানরে,

আপনার পছন্দই  একটি জেলা কিংবা উপজেলা বাঁচিয়া  লই।যেখানে ধনী, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও বিভিন্ন পেশার লোকজন রহিয়াছে । ধরুন, ওই  উপজেলার কিংবা জেলার পরিবার সংখ্যা ২ থেকে ১০ লাখ।ধর্ম বর্ণ গোত্র দল এখানেই আমাদের কাছেই সবাই সমান । শুধু ইহারা মানুষ এই আমাদের চিন্তা।ইহাদের সবাইকে করোনা সংক্ষমণ থেকে বাঁচাইতে হইবে এইটাই আমাদের লক্ষ্যে।এখানে সফল হইলে তারপর আরো ব্যাপক চিন্তা।তখন আমাদের একটা হিসাব অটোভাবে পাইয়া যাইব।এখন আমাদের কাজ হইল ওই উপজেলার কিংবা জেলার  কেউই একটি মাস কিংবা ২১দিন ঘরের বাইরে যাইতে পারিবেন না।বাইরে কেন যায় ? নিশ্চয় আয় রোজগার কিংবা খাবার দাবারের জন্য।সবাই কিন্তু ঘরের বাইরে যায় না তারপরও যাহারা যায় আয় -রোজগার কিংবা খাবার দাবারের জন্য তাহাদের কারণে সবাই অনিরাপদ হইয়া পড়ে।এই জেলা কিংবা উপজেলার সবাইকে খাবার দিতে হইবে।অনেকের সামর্থ্য আছে তাই নিবে না। আবার অনেকেই আছেন তাহার প্রতিবেশী ৫০ থেকে ১০০ পরিবারের দায়িত্বও নিতে পারিবেন। অনেকে খাবার পেলে বাইরেও যাইবে না।।বিষয়টি ঠান্ডা মিয়া অনেকের সাথে কথা বলিয়াছে।খাবার পাওয়ার পর কেউ বাইরে গেল পুলিশ ও আর্মিরা এ্যাকশানে যাইতে পারিবেন।এই জেলা কিংবা উপজেলার সবাইকে বিশেষ কায়দায় পাইলট প্রোগ্রাম শুরুর আগে সরকারী খরচে করোনা টেস্ট  করাইতে হইবে।এমন যদি হয় তখন কত টাকায় কত মানুষকে নিরাপদে রাখা যায় তা ভাবা যাইবে।এখনো ওই জেলা কিংবা উপজেলার মানুষগুলো খাবার খায় তখনো খাবে কৌশল পরিবর্তন মাত্র।আর একটি কথা হইল ওই  জেলা কিংবা উপজেলা  লইয়া ত্রাণের নামে প্রচারণা, পাওয়া না পাওয়ার অভিযোগ এইসব আর থাকিবে না।বিষয়টি  বাস্তবায়ণে  মেধা, শ্রম, অর্থ , সময়  ও প্রশাসনিক সহযোগিতা লাগিবে।এইজন্য এইসব কাজ করিবার আপনিই এই সময়ে একমাত্র যোগ্য ব্যাক্তি।এই প্রোগ্রামে ঠান্ডা মিয়াও বাস্তবায়নকারী সংস্হা কিংবা ব্যাক্তির সাথে আন্তরিকভাবে পাশে থাকিবেন সবসময় ।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাসহ্য কামনায় । ইতি আপনারই গ্রাম বাংলা অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া ।

গ্রন্হনা:   ম. আ. হ

আগামী সংখ্যায় ভুমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ  সমীপে  ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা   (২২৬) সম্প্রচার করা হইবে।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply