বাংলাদেশ, সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অসুস্থ মাকে দেখতে এসে লঞ্চডুবিতে লাশ হলেন ছেলে

আফজাল সেখ (৫০) ময়মনসিংহ সদরে ব্যবসা করতেন। দুই মেয়ে বৃষ্টি ও বর্ষা আর স্ত্রীকে নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন তিনি। সেখানে টায়ারের দোকান আছে তার। ধারদেনায় জর্জরিত আফজাল শত প্রতিকূলতার মাঝেও দুই মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। বড় মেয়ে বর্ষা ময়মনসিংহ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী আর ছোট মেয়ে বন্যা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন।

আফজালের বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। মা জায়েদা বেগম (৮০) দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। হঠাৎ করে কিছুদিন আগে মা জায়েদা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৭ জুন মাকে দেখার জন্য চলে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঘিয়া গ্রামে আসেন আফজাল।

২৯ জুন সকালে মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম কাঠপট্টি লঞ্চঘাট থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চে চড়ে ফিরছিলেন ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য। মেয়েরা তাকে লঞ্চে চড়তে নিষেধ করেছিলেন। লঞ্চে চড়ার পর স্ত্রী রীমা বেগম আফজালের মোবাইলে ফোন দিলে জানান ময়মনসিংহে ফিরছেন।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে রীমার মোবাইলে কল করেন একই লঞ্চে বেঁচে যাওয়া যাত্রী আফজালের বোনের ছেলে মাসুদ। তিনি রীমাকে জানান আফজাল যে লঞ্চে ছিলেন সেটি ডুবে গেছে। বিশ্বাস হচ্ছিল না রীমার।

আফজালের বড় মেয়ে বৃষ্টি বলেন, বাবা আমাদের বলতো লঞ্চে করে মুন্সিগঞ্জ নিয়ে যাবে। আমরা বলতাম না আমরা সাঁতার জানি না; লঞ্চে চড়ব না। আমরা বাবাকে লঞ্চে চড়তে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা না শোনায় কাল হলো তার। লাশ এলো বাবার।

ছোট মেয়ে বন্যা জানায়, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাবা আমাদের বাসা থেকে মুন্সিগঞ্জে চলে আসে। তাই যেদিন চলে আসে সেদিন বাবার সঙ্গে দেখা ও কথা হয়নি আমার।নিহতের স্ত্রী রীমা বেগম বলেন, আমার স্বামী তার দোকানে অনেক ঋণ করে গেছেন। দুটি মেয়েকে নিয়ে কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে আমাদের জানি না।সবটুকু  পড়তে ক্লিক করুন

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply