বাংলাদেশ, শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় জেএসসির রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

 আরমান হোসেন, আনোয়ারা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা গ্রামের দুর্জয় দাশ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়,উপজেলার বিভিন্ন মহলে হয়রানি হয়ে জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে রাগে,ক্ষোভে স্কুল ছাত্রটি আত্মহত্যা করে। গত ২৯ জুন ( সোমবার) রাতে নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের মিলন দাশের ছেলে ও কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ বারের জেএসসি পরীক্ষার্থী। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন ছিল কয়েকদিন আগে রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে স্কুল থেকে জানানো হয় জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স দুই বছর বেশি। তাই রেজিস্ট্রেশন করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে। সে জন্ম সনদ সঠিক করতে প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরুকে ফোন করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দিতে বলেন। সেখান থেকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠান। তথ্য সেবা কেন্দ্রের মহিউদ্দিনের কাছে গেলে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটা প্রত্যয়নপত্র আনতে বলেন। প্রত্যয়নপত্রের জন্য প্রথমে কৈনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন ইউএনওর কাছে তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে আমাদের নামে অভিযোগ করেছেন তিনি নিষেধ করেছেন প্রত্যয়নপত্র না দিতে। সেখানে না পেয়ে প্রত্যয়পত্রের জন্য কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন এ দায়ভার আমরা দিতে পারবনা। তখন প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে বললাম প্রত্যয়নপত্র না দিলে সে পরীক্ষা দিতে পারবেনা। প্রত্যুত্তরে প্রধান শিক্ষক বলেন এ বার দিতে না পারলে আগামী বছর দিবে। সেখানেও না পেয়ে পরবর্তীতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের কাছে যাই। তিনি বলেন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনলে আমরা এখানে থেকে সার্টিফিকেট দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেব। সোমবার পুনরায় কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে অনেক অনুরোধের পর ২০০ টাকা দিয়ে স্কুলের কেরানি হুবহু আগের বয়স ঠিক রেখে একটা প্রত্যয়নপত্র দেয়। এটা নিয়ে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের মহিউদ্দিনের কাছে গেলে তিনি বলেন এটা আগের বয়সের। এটা দিয়ে নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে দেওয়া যাবে না। বার বার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অনেক চেষ্ঠা করেও জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও জেএসসির পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন করতে না পেরে সোমবার সন্ধ্যায় রুমের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। তার ছোট বোন দেখে দা দিয়ে দড়ি কেটে দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেনি। এ ঘটনার পরও স্কুলের কোন শিক্ষক বা স্কুল কমিটির কোন সদস্য আমাদের বাসায় দেখতেও আসেনি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্কুলে প্রধান শিক্ষক আসলে এলাকার কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি বলেন এটা স্কুল কমিটি জানে। স্কুল কমিটির সভাপতি বলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে কিছু জানায়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়। এ বিষয় আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply