বাংলাদেশ, সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকসহ এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনসহ এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, জাতীয় সংসদসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। শনিবার বিকেলের শেষভাগে গুলশান থানায় দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন এবং পত্রিকাটির সাংবাদিক সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার।

অভিযোগ পত্রে ব্যারিস্টার সৌমিত্র নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী উল্লেখ করে বলেন, ‘গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইন সংস্করণে “এইচ টি ইমামকে সরিয়ে দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার, জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পর্কে চরম আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, বিকৃত ও মানহানিকর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির মূল উদ্দেশ্য দেশে বিদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে দেশের অভ্যন্তরে একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।’

প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদের চরম অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “গৃহপালিত বিরোধী দল থাকায় বর্তমান সংসদ নিয়ে মানুষের তেমন আগ্রহ নেই।” যা মহান জাতীয় সংসদ সম্পর্কে একটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য। এমন মন্তব্য কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই উক্তির মাধ্যমে পত্রিকাটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য প্রকাশ করেছে।”

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা, বিকৃত ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে চরম বিষাদাগার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, “এর আগে দৈনিক ইনকিলাবসহ অন্যান্য দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় কুয়েতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল গ্রেফতারের পর টাকা দিয়ে এমপি হওয়ার নেপথ্য কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। ভোটের কয়েক দিন আগে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক চিঠি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদের পক্ষে প্রচারণায় নামার নির্দেশনা পাওয়া নিয়ে লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরেছেন। কিন্তু প্রথম আলোর প্রতিবেদন যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেয়ার মতোই।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঐ রিপোর্টে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের এমপি হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিকৃত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ম্লান করার জন্যই এটি করা হয়েছে।

ওই আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, “প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মানবপাচারকারী পাপুলকে এমপি বানানোর রূপকার এইচ টি ইমাম। এখানে তার ভয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও কাঁপেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় প্রশাসনে তিনিই সর্বেসর্বা। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার ছায়া। প্রধানমন্ত্রী তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সবকিছু দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রবীণ আমলা এইচ টি ইমামের অপছায়া যেন সর্বত্রই। … বয়োবৃদ্ধ সাবেক এই আমলা যেন বর্তমান সরকারের নিয়ন্তা হয়ে গেছেন। অথচ তার কারণে প্রশাসনের অভ্যন্তরে যেমন আছে অসন্তোষ; তেমনি অনিয়ম-দুর্নীতি করে অপকর্মের হোতারা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন।”

এই আইনজীবী জানান, দৈনিক ইনকিলাবের এই মন্তব্য গুলো চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ, মিথ্যা, অপমানজনক, বিকৃত, মানহানিকর ও আক্রমণাত্মক। তথ্যগুলো মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও বিবাদীদ্বয় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে এই গুলো প্রচার করছে। এই মন্তব্য গুলোর মাধ্যমে বিবাদীদ্বয় রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে চরম বিষাদাগার করেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি করার জন্যই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কথা গুলো বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে বিকৃত, মিথ্যা, অপমানজনক, আক্রমণাত্মক ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হয়।

ব্যারিস্টার সৌমিত্র অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে এই পাপুলদের এমপি করা হচ্ছে কেন? আওয়ামী লীগের নেতারা ইতোমধ্যেই সে প্রশ্ন তুলেছেন। কুয়েতে পাপুলের বিচার হলেও সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ তাকে যারা সৃষ্টি করেছেন সেই এইচ টি ইমামরা প্রশাসনের উচ্চস্তরে বসে আছেন। আরও পাপুলের জন্ম দিয়ে এমপি করবেন বলে। বঞ্চিত হবেন দলের নেতাকর্মীরা। অতএব সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়।”

ইনকিলাবের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “প্রতিবেদনের এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেও তারা দ্বিধা করেনি। সেখানে মন্তব্য করা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের একজন এইচ টি ইমাম যেন সবকিছুর রক্ষক-ভক্ষক হয়ে গেছেন।’ এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা ও মেধা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এই ধরণের কর্মকাণ্ড অমার্জনীয় অপরাধ।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে মামলাটি দায়ের করেছি। আমার মূল অভিযোগ, গতকাল ইনকিলাব অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’ সবটুকু খবর জানতে ক্লীক করুন।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply