বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোভিড-১৯ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে আইওএম-এর সাইকেল-আরোহী স্বেচ্ছাসেবকরা

কক্সবাজার (১৫.০৬.২০২০)

 কোভিড-১৯ মহামারী রুখে দেওয়ার যুদ্ধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে এমন সময়ে যখন সু-সচেতন হওয়া জনস্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তখন প্রয়োজনীয় তথ্য প্রবাহের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ। আর তাই স্থানীয়ভাবে তথ্য প্রবাহের কাজে রিকশা কিংবা সাইকেল ব্যবহারের চিন্তাটির উদ্ভব হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরের শহর কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম- জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা) শরণার্থী শিবির ও জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের মাঝে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রবাহের নিত্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে। জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে রিকশার মাধ্যমে তথ্য বিতরণ ও আইওএম-এর ইন্টারএক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেমের মত তথ্য প্রবাহের উদ্যোগগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু যেখানে রাস্তা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের নেই সেখানে এসব পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা আছে।

প্রয়োজনীয় বার্তা প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং জীবন রক্ষাকারী তথ্য প্রাপ্তি থেকে একজনও যেন বাদ না পড়ে সেজন্য কক্সবাজারে আইওএম-এর মেন্টাল হেলথ এবং সাইকোসোশাল সাপোর্ট (এমএইচপিএসএস) ইউনিট সাইকেলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনবসতি জুড়ে তথ্য সরবরাহের কাজ শুরু করেছে।

সাইক্লিংয়ের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার জন্য ‘২০৩০ এজেন্ডা’ এবং জাতিসংঘের “সবুজ পুনরুদ্ধার” সুপারিশগুলির সাথে সঙ্গতি রেখেই আইওএম এর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের সাইকেল সরবরাহ করে ক্যাম্পগুলোতে বার্তা বিতরণের কাজে সহায়তা করছে। সাইকেল-আরোহী স্বেচ্ছাসেবকরা মেগাফোনের মাধ্যমে রেকর্ডকৃত বার্তাগুলো ক্যাম্পের প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের জন্যই রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং ইতোমধ্যে ক্যাম্পের ৬৭,০০০ সুবিধাভোগীর কাছে এসব বার্তা পৌঁছে গেছে। কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বার্তা বিতরণের কাজেও গতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১০ জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৭ জন শরণার্থী কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা সাইকেল-আরোহী স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ হাসান বলেনঃ “এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার ক্যাম্প এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে পেরে আমি খুব খুশি। তাছাড়া এই কাজের মাধ্যমে আয় দিয়ে আমি আমার পরিবারের ভরণপোষণও করতে পারছি।“

কোভিড-১৯  সম্পর্কিত তথ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য বিতরণকৃত বার্তার বিষয়বস্তুতে থাকে। বেঙ্গল ক্রিয়েটিভ মিডিয়া এবং ট্রান্সলেটরস উইথআউট বর্ডারস এর অনুবাদকদের সহায়তায় বাংলা, ইংরেজী এবং রোহিঙ্গা ভাষায় এসব বার্তা রেকর্ড করা হয়। বার্তাগুলো ইউএসবি ড্রাইভে সংরক্ষিত থাকে, যাতে বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে তথ্য বিতরণ সহজেই অভিযোজিত পারে এবং শিবিরের যেখানে যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেখানেও যেন তথ্য সহজেই বিতরণ করা যায়। রিকশার মাধ্যমে তথ্য প্রবাহের পদ্ধতির মতই সাইকেলের মাধ্যমে বিকল্প যোগাযোগ পদ্ধতিটি পরিবেশ বান্ধব এবং স্বেচ্ছাসেবক-উপকারভোগীদের স্বাস্থ্য ও জীবিকাতে অবদান রাখে। এই উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী।

আইওএম কক্সবাজারের এমএইচপিএসএস ক্যাপাসিটি বিল্ডিং লিয়াজোঁ অফিসার কেনি রসুল বলেনঃ “বৈশ্বিকভাবে আমরা অভূতপূর্ব একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। ক্যাম্পে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি যা আমাদের একটি জটিল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠিদের সহায়তা করার জন্য এবং একজনও যাতে পিছনে পড়ে না থাকে সেজন্য আইওএম এখানে টেকসই পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে বিরামহীনভাবে কাজ করছে।“

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply