বাংলাদেশ, শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর অনুদান ও খাদ্য সহায়তা পাননি সুনামগঞ্জের ৪ শত মন্দিরের পুরোহিত পুজারী ও সেবাইতরা

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ 
করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সুনামগঞ্জ জেলায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক অনুদান পেলেও বঞ্চিত রয়েছেন মন্দিরের
পুরোহিত,পূজারী ও সেবাইতরা। এ পর্যন্ত কোন ধরনের সহায়তা তালিকায় তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর দিন কাটানোর ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতির শিকার হয়ে বঞ্চিত মানুষ হিসেবে তারাও তাদের সঞ্চিত কষ্ঠের কথা সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করছেন।
সুনামগঞ্জ শহরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরের পরোহিত কানু চক্রবর্ত্তী ও শ্রী শ্রী কালিবাড়ী নাট মন্দিরের পুরোহিত আশু চক্রবতী বলেন,আমরা কেউ কেউ মাসে ৫২৫ টাকা থেকে মাত্র ১ হাজার টাকারও কম পাই। এটাকে মাসিক বেতন বা সম্মানী কি বলবো তা আমাদের জানা নেই। তাও আবার অনেক সময় নিয়মিত পাইনা। করোনা পরিস্থিতির কারণে পূজা পার্বন ও কীর্ত্তন অনুষ্ঠান না হওয়ায় সকলের মতো আমাদের পরিবার পরিজনরাও অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। আমরা আমাদের কষ্ঠের কথাগুলো কিভাবে কার কাছে বলবো তাও বুঝে উঠতে পারছিনা। মনে করছি বলার জায়গা আমাদেরও একটাই আর তা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যেন করোনার এই দুর্দিনে সুনামগঞ্জের সকল মন্দিরের পুরোহিত পুজারী ও সেবাইতদের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে তার সাধ্যমতো সহায়তা করেন।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট বিমান রায় ও সাধারন সম্পাদক বিমল বনিক বলেন,জেলা প্রশাসন,পৌর কর্তৃপক্ষ,উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদতো দূরের কথা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টও এ দুর্যোগে মন্দিরের পুরোহিত,পূজারী ও সেবাইতদেরকে করোনা দুর্যোগে কোন ধরনের সহায়তা দেয়নি। অথচ সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে আমাদের পুরোহিত,পূজারী ও সেবাইতগনও সবচাইতে বেশী অসহায়। তারা বলেন,সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৪ শতাধিক মন্দির রয়েছে। এসব মন্দিরের আওতায় গত বছর ৩৮৬ টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। দুর্গোৎসবের দেশ সুনামগঞ্জের সবগুলো মন্দিরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের আওতায় আনার জন্য তারা সরকারের কাছে দাবী জানান।
শ্রী শ্রী কালিবাড়ী নাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট স্বপন কুমার দাস রায় ও শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির
সাধারন সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজু বলেন,মন্দিরের দেশ সুনামগঞ্জ। এই জেলায় বড় বড় মন্দিরগুলিতে পুরোহিত,পূজারী ও সেবাইত মিলিয়ে ৫ জন এবং ছোট মন্দিরগুলিতে একজন পুরোহিত ও একজন করে পুজারী থাকেন। তাদেরও আছে পরিবার পরিজন। মন্দিরগুলিতে নিয়মিত পুজা কীর্ত্তনসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি হলে তাদের কর্ম তৎপরতার পাশাপাশি দিনকালও ভাল থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাস ও লকডাউন থাকার কারণে এখন পূজা পার্বন পূর্বের মতো হয়না বলে আমাদের পুরোহিত ও পূজারীদের খবর কেউ নেয়না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী জনসাধারনের দাবী অন্ততপক্ষে পুরোহিত,পূজারীদের বাঁচিয়ে রাখতে তাদেরকেও খাদ্য সহায়তাসহ সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করুন।
জেলা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প পরিচালক রবীন আচার্য্যবলেন,প্রাক প্রাথমিক,গীতা শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা এই ৩ ক্যাটাগরীতে সুনামগঞ্জ জেলায় মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ১৫৫টি কেন্দ্রে পরিচালিত হয়ে থাকে। এর বাইরে মন্দিরের পুরোহিত পূজারীদেরকে কোন ধরনের খাদ্য বা আর্থিক অনুদান প্রদানের ব্যাপারে তালিকা প্রণয়নের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় আমরা প্রয়োজনীয় লোকবল সংকটের মাঝেও শুধুমাত্র নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ নিয়েই সীমাবদ্ধ আছি। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস বলেন,কোন ধর্ম বর্ণ নয় করোনা দুর্যোগে সকল শ্রেণিপেশার মানুষই প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়েছেন।সরকার সুনামগঞ্জে অনেক মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছেন কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত রয়েছেন সেইসব পুরোহিত,পূজারী সেবাইতদের পূণর্বাসনেও ব্যবস্থা গ্রহন করা
দরকার বলে আমি মনে করি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক করুনাসিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন,আমরা সরকারের কাছে দাবী করবো যাতে অনুদান ও খাদ্য সহায়তা বঞ্চিত পুরোহিত,পূজারী সেবাইতদের সঞ্চিত কষ্টের কথা মানবিক বিবেচনায় এনে তাদেরকেও সহায়তা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,মন্দিরের পুরোহিত,পূজারী ও সেবাইতদের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা কিংবা অনুদানের ব্যাপারে কোন আবেদন পাওয়া গেলে আমরা সেসব আবেদনগুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনাক্রমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরণ করবো। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে সরকারের পক্ষে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌছে দিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। তারপরও কোন শ্রেণি পেশার মানুষ যদি বঞ্চিত থাকেন তাহলে তাদেরকে সরকারী সাপোর্ট দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসন কাউকেই হতাশ করবেনা।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply