বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মফস্বল সাংবাদিকদের ঈদ ভাবনা

শেখ রাজু আহমেদ রমজান
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

ঈদ মানে অনাবিল আনন্দ ভাগাভাগি। পবিত্র ঈদুল ফিতর সুখ বয়ে আনুক সবার জীবনে প্রত্যাশা করি। এই দিনে প্রেম-ভালবাসা, আবেগ-অনুভূতি আর দোয়া কামনা করলেও সমাজের বঞ্চিত মানুষেরা (বিশেষ করে সাংবাদিক সমাজ) আজও বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। যায়যায়দিন তবুও বঞ্চনার অবসান হয় না এসব মানুষদের। কেন ? কি কারণে? কোন অভিশাপে মানুষের এই দুর্গতি তা কেউ না জানলেও বাস্তবে যাদের জীবনে এরকম ঘটনা হরহামেশা ঘটে থাকে তারাই হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিক সমাজ।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত শহীদ জিয়াউর রহমান দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ঢালাওভাবে পত্র-পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ দিয়ে গেছেন যা সব মানুষই জানেন। তাঁর লক্ষ্য কতখানি মহৎ ছিল আমাদের অনেকের বোধগম্য না হলেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে পরবর্তীতে যা হচ্ছে তা কিন্তু দেখছি। আজ মনে প্রশ্ন জাগে, এসব কি দেখছি আমরা। ৫৪ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন দেশে বর্তমানে দেড় হাজারেরও অধিক দৈনিক পত্রিকা, প্রায় ১০০০টিরও বেশি অনলাইন পোর্টাল, ৪৪টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম, ৩২টি কমিউনিটি রেডিও এর সম্প্রচার অব্যাহত আছে।
এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি টেলিভিশন রয়েছে সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায়। মাসিক,ত্রৈমাসিক,পাক্ষিক,সাপ্তাহিকের কথা নাই লিখলাম। সবচেয়ে খাঁটি বাক্যটি হচ্ছে কালো টাকার মারাত্মক প্রভাব থাকার কারনে কিছু কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্টান বনে যাচ্ছেন প্রকাশক, সম্পাদক এমনকি সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি। এসব কালো টাকার মালিকদের অধীনে কর্মরত আমরা মফস্বল সাংবাদিকদের মোটেই অর্থ কষ্ট থাকার কথা নয়। কারণ তাদের অর্থ আছে। লাখ লাখ টাকা মাসিক বেতন দিয়ে তারা সম্পাদক থেকে স্টাফ রিপোর্টার খাটায়। কিন্তু আমাদের কোন খোঁজ-খবর রাখেন না তারা। কখনো বুঝতে চান না আমরা মফস্বল সাংবাদিকরাও সৃষ্টির সেরা মানুষ। আমাদেরও রয়েছে ঘর-সংসার আর স্বজনসহ অনেক প্রয়োজন।
লাইনেজ বিল,নির্ধারিত মাসিক বেতন দেওয়াতো দূরের কথা বিজ্ঞাপনের কমিশনের টাকাটাও দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তারা। মফস্বল সাংবাদিকদের এমনিভাবে দিনের পর দিন বঞ্চিত রেখে অমানবিক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছেন। আবার একশ্রেণীর মফস্বল সম্পাদক আছেন যারা মফস্বল শহরের সাংবাদিকদের কাছে এটা ওটা দাবী করে বসেন। রাজধানীতে অবস্থান করার কারনে তারা শুধু নিজের প্রয়োজনটা উপলব্ধি করেন। অধ:স্থনদের কোন দাবীর প্রতিই তারা ভ্রক্ষেপ করেন না। অন্ততপক্ষে ফিতরার টাকা হিসেবেও যদি তারা মফস্বল সাংবাদিকদেরকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা দিতেন তাহলেও শ্বাস ফেলা যেতো। কিন্তু আমরা এমনই দূর্ভাগা যে,আমাদের দীর্ঘশ্বাস এর কথা এদেশে বলারও কোন জায়গা নেই। কর্তব্যরত পুলিশকে আঘাত করলে পুলিশ এসল্ট মামলা হয়।
অথচ কর্মরত সাংবাদিকদেরকে খুন করলেও জার্নালিস্ট প্রটেকশন এ্যাক্ট প্রনয়ন হয় না। উল্টো চাঁদাবাজী তথা বিভিন্ন হয়রানীমূলক মামলায় আমাদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। পেশাগত কলম সৈনিকদের ভাতে মারার ফন্দি- ফিকির যারা করেন তাদের হাতে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক আজ কেউই নিরাপদ নন। সংবাদপত্র সত্যিকার অর্থে সেদিনই স্বাধীন হতে পারবে যেদিন এর পুরো দায়-দায়িত্ব প্রকৃত সাংবাদিক নেতাদের হাতে পড়বে। সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এই শিল্পের সাথে জড়িতদের এমন দূর্দশা পৃৃথিবীর কোন সভ্য রাষ্ট্রে আছে বলে আমাদের জানা নেই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সংবাদপত্রকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন। তাই ভালো ছিল। জাতীয়করণ নীতি বাস্তবায়ন হলে হয়তো আজ মফস্বল সাংবাদিকদের এমন করুণ পরিণতি ভোগ করতে হতো না। দেশের সংবিধানে ভাত,কাপড়,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এমন এক পেশাজীবী মানুষ আমরা যারা আজও রয়েছি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। তথ্য অধিকার আইন নামে একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা নিত্যদিন যারা সকল মিডিয়ায় তথ্য পরিবেশন করে যাচ্ছি তাদের অধিকার নিয়ে কোন ইনফরমেশন এতে নেই।
বর্তমান সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ড গঠন করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন না হলেও মফস্বল সাংবাদিকদের বেলায় এর প্রয়োজন ও গুরুত্ব যে অপরিসীম তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ৩ বারের শাসন ক্ষমতায় বয়স্ক-বিধবা ভাতা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জাতীকে এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু একবার তিনিও কি ভেবে দেখেছেন আমরা মফস্বল সাংবাদিকরা কতটুকু অবহেলিত? প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে মফস্বল শহরের নিবেদিত পেশাদার সংবাদকর্মীদের চিহিৃত করে  জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে দু:স্থ সাংবাদিক ভাতা প্রদান করে দূর্দশা লাঘব করতে পারেন। শত হতাশার পরও এবারের ঈদ সবার জীবনে ভয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ এটাই প্রত্যাশা করি।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply