বাংলাদেশ, সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ‘এক মিনিটের বাজার’

 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি

পাহাড় রাণী পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চালু হলো ‘এক মিনিটের বাজার’।

আজ বুধবার (২০ মে) সকালে খাগড়াছড়ির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে ‘এক মিনিটের বাজার’ উদ্বোধন করেন, সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাধিক বিগ্রেড, খাগড়াছড়ির রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমান, এসজিপি এএফডবিউসি, পিএসসি।

মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক তখনই বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে দেশবাসীর আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তেমনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগের নাম ‘এক মিনিটের বাজার’।

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক চাষীরা তাদের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্য যেমন সহজে বিক্রি করতে পারছেন না, ঠিক তেমনি নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী অর্থাভাবে এবং যোগান না থাকায় কিনতে পারছেন না। এমতাবস্থায় খাগড়ছড়ি সেনা রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কিনে তা ‘এক মিনিটের বাজার’ নামে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আয়োজিত, ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। নামে বাজার হলেও এখানে সবাই তাদের পছন্দ মতো সব উপকরণই পাচ্ছেন বিনামূল্যে।বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে অসহায়, কর্মহীন ও প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী তুলে দিতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সেনা সদস্যদের উদ্যোগে এই বাজার চালু করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়, এখানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে সবাই যার যার পণ্য সংগ্রহ করছে। এই বাজার থেকে বিনামূল্যে চাল, আলু, পুঁইশাক, বরবটি, চিচিঙ্গা, করলা, ঢেঁড়স, লেবু, আনারস, সাবান, খাবার স্যালাইন ও সিভিট সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছেন সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সার্বিক ত্বত্তাবধানে খাগড়াছড়ি সেনা জোন বিষয়টি আয়োজন ও পরিচালনা করে।

খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিপদগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন তারা। খাগড়াছড়ির প্রত্যান্তঞ্চল থেকে এইসব খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। যেমন রামগড় থেকে লেবু, মহালছড়ি থেকে আনারস এবং পানছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে শাক সবজি ন্যায্য মূল্যে কিনে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। জেলার প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি সবজি সংগ্রহ করে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। ঈদের পরও ‘এক মিনিটের বাজার’ চালু রাখার কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে ‘এক মিনিটের বাজারে’ প্রবেশ পথে ছিল জীবাণুনাশক বুথ ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করে হত দরিদ্র মানুষেরা। নিজেদের চাহিদামতো বিনামূল্যে বাজার সংগ্রহ করে হতদরিদ্র মানুষ। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে খুশি তারা।

এদিকে, সেনাবাহিনীর কাছে সরাসরি সবজি বিক্রি করে দাম ভালো পেয়ে খুশি বিভিন্ন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরাও। তারা জানান, বাজারে নিয়ে গেলে সবজির তেমন দাম পান না তারা। সেনাবাহিনী তাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি কিনে নিয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর এক মিনিটের এ বাজারের কারণে প্রায় শতাধিক প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে, আবার অন্যদিকে দুঃস্থরাও খাদ্য পাচ্ছেন। ঈদের আগেই সেনাবাহিনী জেলার ৯ উপজেলার দুঃস্থ পরিবারের কাছে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেবে।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply