বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা রেজাউল করিম চৌধুরী সমীপে

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৩) আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সমীপে

মাননীয়,

আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী  সমীপে,

শ্রদ্ধেয়  রেজা ভাইজানরে, ,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া করোনা ভাইরাস রোধে নানান সচেতনামূলক ক্যাম্পইন, ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী বিলি করিয়া নগরবাসীকে লইয়া ভবিষ্যতের হরেকরকম চিন্তা করিয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া  বাঁচিয়া আছি। গেল বারে  আপনার প্রিয় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াশিকা আয়েশা খান এমপি সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা  লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন, এশিয়ার লৌহ মানবখ্যাত বাঙ্গালীর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।এর আগে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও এনামুল হক দানুর কমিটিতে আপনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। ছাত্রজীবন থেকেই আপনি রাজনীতির সাথে জড়িত।শুনিয়াছি, ছাত্রাবস্থায় আপনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করিয়াছেন।আপনি একজন জাতীর গৌরবের ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা।চট্টগ্রামের বিখ্যাত ‘বহদ্দারহাট’ আপনার পূর্ব পুরুষের নামেই।রাজনৈতিক জীবনে শুধুই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করিয়া স্থানীয়ভাবে কোন গ্রুপে গা ভাসাননি আপনি।এইসব কারণে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা এইবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আপনাকে মেয়র হিসাবে মনোনয়ন দিয়াছেন।যদি কেউ কেউ অন্য কথাও বলিতেছে। ইতিপূর্বে দলের বহু পদে আপনি  যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করিয়া অসংখ্য মানুষের প্রিয়ভাজন ব্যাক্তিত্বে পরিণত হইয়াছেন।যাক, সেই সব কথা।

 ভাইজানরে,

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস সংক্ষমণ রোধে ও চট্টগ্রাম বাসীকে নিরাপদ রাখিতে আপনার দৈনন্দিন কর্মসূচী মানুষ দেখিতেছে।পাশাপাশি আজম নাছির উদ্দিন, মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ডাক্তার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, আবদুল লতিফ এমপি সাহেবেরাও খুবই সক্রিয় রহিয়াছেন।আবদুল লতিফ এমপি করোনাকালের আগেও গরীব, অসহায় ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কাছে রান্না করা খাবার, ন্যার্য্য কিংবা ভর্তকি মূল্য  পণ্য বিক্রির  ব্যবস্হা করিয়া নগরবাসীর কাছে  দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন।যদিও কেউ কেউ এইসবেরও নানা সমালোচনা করিয়া থাকেন।এইটা তাহাদের জেনেটিক সমস্যা হইতে পারে।ইতিমধ্যে ত্রাণ, ইফতার ও ঈদ সামগ্রী , স্বাস্হ্য সুরক্ষা বিলি, ফিল্ড হাসপাতাল এয়ার কণ্ডিশনার প্রদান, মধ্য রাতে সেহেরী দিয়া নগরবাসীর আপনি কাছাকাছি থাকিতেছেন।চট্টগ্রামবাসী বলিতেছে, এইসব মানবকল্যাণকর ও সমাজসেবামূলক কাজে আপনাকে সবার্গ্রেই থাকিতেই হইবে।এইজন্য জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  নগরবাসীর সেবা করিবার জন্য আপনাকেই মেয়র পদে সিলেক্ট করিয়াছেন।  সত্য – মিথ্যার শতভাগ সমর্থন না থাকিলেও অনেকেই বলিতেছে, এই সিলেক্টের পিছনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সাহেবের ভুমিকা রহিয়াছে।বিষয়টি আপনিই সবার চেয়ে ভালোই জানেন।ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সাহেবের সমর্থকেরা বলিতেছে, আপনার সুনামের সাথে তাঁহাদেরও সম্মান জড়িত।অন্যদিকে চট্টগ্রামে আ জ ম নাছির উদ্দিনের রহিয়াছে বিশাল সমর্থক গোষ্টি । কেউ কেউ বলিতেছে, আপনাকে মেয়র করিলেও আ জ ম নাছির উদ্দিনকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিও বানাইবেন।কেউ বলিতেছে,  মেয়রের কাজ বেশী আবার অন্যদিকে অনেকেই বলিতেছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির সম্মান ও কাজ আরো বেশী।এই বিতর্ক আওয়ামী লীগের লোকজনের মধ্যে যেমন আছে তেমনি আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন না তাহাদের মধ্যেও আছে।

ভাইজানরে,

করোনাকালে গোটা দুনিয়ার মানুষ নানা টেনশান ও দুশ্চিন্তায় রহিয়াছ।দুনিয়ার মহা শক্তিধর আমেরিকায় বিপর্যয় ঘটিয়াছে।সে তুলনায় আমাদের দেশের অবস্হা কী হইবে আল্লাহ মালুম।আল্লাহই না করুক, সচেতন লোকেরা  বলিতেছে,  দেশ ছাড়িয়া গোটা দুনিয়ার মধ্যে করোনার হটস্পট চট্টগ্রামও হইতে পারে বর্তমান আলামত সেই ইংগিতই দিতেছে। বিষয়টি মোটেই হালকা মনে করিবেন না।দিন দিন শুধু চট্টগ্রামে নতুন করোনা রোগীর সনাক্ত বাড়িতেছে।এই বাড়া শুধুই বাড়িতেছে।তাই গতানুগতিক কর্মসূচীর পাশাপাশি সাহসী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে।করোনা সংক্ষমণরোধে ঠাণ্ডা মিয়া একটি পাইলট প্রোগ্রাম নিয়া দীর্ঘদিন ভাবিয়াছে। এই বিষয়টি লইয়া ঠাণ্ডা মিয়া বহুজনের সাথে কথাও বলিয়াছে।সবাই বিষয়টা লইয়া কয়েকজন ব্যাক্তির সামনে বিষয়টি উপস্হাপন করিবার জন্য পরামর্শ দিয়াছেন।সেই কয়েকজন ব্যাক্তির মধ্যে আপনিই প্রথম ব্যাক্তি।লোকেরা এই পাইলট প্রোগ্রামটি বাস্তবায়ণ করিয়া সফল হইলে গোটা দেশ এমনকি দুনিয়াবাসী বিষয়টি আমলে নিতে পারিবেন।পরের প্যারায় আমি পাইলট প্রোগ্রাম টি উপস্হাপন করিতেছি। একটু ধৈর্য ও গভীর মনোযোগ সহকারে শুনিবেন ও ভাবিবেন এবং যাহা প্রয়োজন তাহাই করিবেন।

ভাইজানরে,

আপনার পছন্দই একটি ওয়ার্ড বাঁচিয়া  লই।যেখানে ধনী, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও বিভিন্ন পেশার লোকজন রহিয়াছে । ধরুন, ওই ওয়ার্ডে পরিবার সংখ্যা ৫ থেকে ১০ হাজার।ধর্ম বর্ণ গোত্র দল এখানেই আমাদের কাছেই সবাই সমান । শুধু ইহারা মানুষ এই আমাদের চিন্তা।ইহাদের সবাইকে করোনা সংক্ষমণ থেকে বাঁচাইতে হইবে এইটা লক্ষ্যে।এখানে সফল হইলে তারপর আরো ব্যাপক চিন্তা।তখন আমাদের একটা হিসাব অটোভাবে পাইয়া যাইব।এখন আমাদের কাজ হইল ওই ওয়ার্ডের কেউই একটি মাস ঘরের বাইরে যাইতে পারিবেন না।বাইরে কেন যায় ? নিশ্চয় আয় রোজগার কিংবা খাবার দাবারের জন্য।সবাই কিন্তু ঘরের বাইরে যায় না তারপরও যাহারা যায় আয় রোজগার কিংবা খাবার দাবারের জন্য তাহাদের কারণে সবাই অনিরাপদ।এই ওয়ার্ডের সবাইকে খাবার দিতে হইবে।অনেকের সামর্থ্য আছে তাই নিবে না। আবার অনেকেই আছেন তার প্রতিবেশী ৫০ থেকে ১০০পরিবারের দায়িত্বও নিতে পারিবেন। অনেকে নিবে খাবার পেলে বাইরেও যাইবে না।।বিষয়টি ঠান্ডা মিয়া অনেকের সাথে কথা বলিয়াছে।খাবার পাওয়ার পর কেউ বাইরে গেল পুলিশ ও আর্মিরা এ্যাকশানে যাইতে পারিবেন।এই ওয়ার্ডের সবাইকে বিষয় কায়দায় পাইলট প্রোগ্রাম শুরুর আগে টেস্ট  করাইতে হইবে।এমন যদি হয় তখন কত টাকায় কত মানুষকে নিরাপদে রাখা যায় তা ভাবা যাইবে।এখনো ওই ওয়ার্ডের মানুষগুলো খাবার খায় তখনো খাবে কৌশল পরিবর্তন মাত্র।আর একটি কথা হইল ওই ওয়ার্ড লইয়া ত্রাণের নামে সস্হা প্রচারণা, পাওয়া না পাওয়ার অভিযোগ এইসব আর থাকিবেন।বিষয়টি  বাস্তবায়ণে  মেধা, শ্রম, অর্থ , সময়  ও প্রশাসনিক সহযোগিতা লাগিবে।এইজন্য এইসব কাজ করিবার আপনিই এই সময়ে একমাত্র যোগ্য ব্যাক্তি।এই প্রোগ্রামে ঠান্ডা মিয়াও বাস্তবায়নকারী ব্যাক্তির সাথে আন্তরিকভাবে পাশে থাকিবেন সবসময় ।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাসহ্য কামনায় । ইতি আপনারই গ্রাম বাংলা অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া ।

গ্রন্হনা:   ম. আ. হ

আগামী সংখ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে  ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা   (২২৪) সম্প্রচার করা হইবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply