বাংলাদেশ, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহামারী করোনা বিপর্যয়’র শঙ্কায় খাগড়াছড়ি

সংক্রমণ ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রম-সচেতনতার নামে গণজমায়েত

 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি
সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ধেয়ে আসছে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারী করোনাভাইরাস। এ অবস্থায় খুব দ্রুত লকডাউনের পথে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িও। পাহাড়ে বসবাসকারি মানুষের মাঝে সচেতনতার চেয়ে আতংকই যেনো বেশি।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে একদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে নানা উদ্যোগ, অন্যদিকে সচেতনতার নামে লিফলেট, সাবান, মাস্ক ও ন্যায্য মূল্যে ভোগ্য পণ্য বিক্রয় নামে বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের গণজমায়েত। এতে পুরো শহর জুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এই অবস্থায় পর্যটন নগরী খাগড়াছড়ি শহর এবং জেলাকে কোভিড-১৯’র বিপর্যয় থেকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে, গতকাল মঙ্গলবার থেকে শহরের প্রবেশমুখ বঙ্গবন্ধু স্কোয়ারে করোনা সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ এবং সবধরণের যানবাহনে জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি স্প্রে করে যাচ্ছে সংবাদকর্মীসহ একঝাঁক তরুণ। যাত্রীরাসহ শহরে প্রবেশ করা সকল জনসাধারণের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। খাগড়াছড়িতে করোনাভাইরাস সচেতনতা ও প্রতিরোধ কমিটির নামে পরিচালিত এই কার্যক্রম পরিস্থিতি সহনীয় না হওয়া পর্যন্ত, শহরের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লার অলিগলিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে নিতে জেলাবাসীর সহযোগীতা কামনা করেছেন আয়োজককারীরা।

এদিকে, জেলাকে কোভিড-১৯’র বিপর্যয় থেকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেই জীবাণুনাশক গণকার্যক্রমে অংশ নিতে মাঠে নেমেছেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।আজ বুধবার সকাল ১১টায় শহরের শাপলা চত্ত্বরে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জনসচেতনতা কর্মসূচি ও সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। এছাড়াও জেলা সদর হাসপাতালে খাগড়াছড়িতে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন এবং আইসোলেশন বেড ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সাংদস কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, পরিষদ সদস্য এডভোকেট আশুতোষ চাকমা, খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো:  শানে আলম, পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রশিদ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার, কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড সভাপতি তপন কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক সওকত উল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা, ছাত্রলীগ সভাপতি টিকো চাকমা প্রমুখসহ জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র শাপলা চত্বর মুক্তমঞ্চে ও জেলা সদর হাসপাতালে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনসচেতনতা কর্মসূচি ও সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণে অনুষ্ঠানে শত শত মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জনসচেতনতার নামে এমন কর্মসূচিতে জনসাধারণের উপস্থিতি পুরো শহর জুরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল চত্ত্বরে মেসার্স খাগড়াছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ উদ্যোগে টিসিবি’র পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য। এতে মাথা পিছু ১ কেজি চিনি, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল ও ১ কেজি পেঁয়াজ নিতে দীর্ঘ সারিতে গাদাগাদি করে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য নারী পুরুষ। যেখানে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল ধরণের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, চা দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় আড্ডাসহ সকল প্রকারের গণজমায়েত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক। সেখানে এমন কর্মসূচি বা গণজমায়েত ভাবিয়ে তুলছে পুরো শহরবাসীকে।

প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারী করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ ও বিপর্যয় ঠেকাতে গণজমায়েত করে কোন কর্মসূচি নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা। সকলে মিলে সচেতন হলেই এর ছোবল থেকে পর্যটন নগরী খাগড়াছড়ি জেলাবাসী এবং পুরো দেশকে রক্ষা করা যাবে বলে মনে করছেন সকলে।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply