বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লামায় কবরস্থান দখলে নিচ্ছে কোয়ান্টম

লামা সংবাদদাতা
লামায় কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা-এতিমখানার জমি দখল করেছে কোয়ান্টম। জালিয়াতি করে মৃত ব্যাক্তির নামের ভুমি কোয়ান্টমের প্রধান শহীদ আল বোখারীর নামে ক্রয় করেন সংশ্লিষ্টরা(!)। এমন একটি রহস্যজনক ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে কোয়ান্টম কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের ৪০ বছরের ও বেশি পুরাতন একটি কবরস্থানসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা-হেফজখানা ইত্যাদি দখল করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সরই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য পাওয়া যায়। জানাযায়, লামা উপজেলার ৩০৩ নং ডলুছড়ি মৌজায় ১১ নং সীটে ৮৯৭ দাগের আন্দর ৫ একর জমিতে বিগত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান,এতিমখানা, হেফজখানার অবকাঠমো নিয়ে গাছগাছালী সৃজন করে সামাজিকভাবে ভোগদখলে রয়েছে স্থানীয়রা। এসব সামাজিক-ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে দখলীয় ৫একর ভ‚মি প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্তির অপেক্ষায় রয়েছে বান্দরবান জেলা প্রশাসনে।
এদিকে সামাজিক এই সম্পত্তির প্রতি লোভ পড়ে যায় দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টমের। মোটাংকের টাকার বিনিময়ে একজন মৃত ব্যাক্তিকে মালিক সাজিয়ে সমাজের কবরস্থান, মসজিদ-মাদ্রাসার ভোগ দখলী সম্পত্তি কোয়ান্টম আগ্রাসন করার চেষ্টা করছেন।
জানাযায়, একই মৌজার আর/২৮৫ নং হোল্ডিং এর মালিক জনৈক ছাবের আহমদ, পিতা সুলতান আহমদ, ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে স্থানীয় ছাবের হোসেন নামের একজনকে ওই জায়গার মালিক হিসেবে ছাবের আহমদ বানিয়ে ২০১৮ সালে ৬৯৭/১৮ নং মূলে উপজেলা ভ‚মি রেজি: অফিসে জনৈক সেতুয়ার নামে একটি জাল দলিল সৃজন করেন। ভুমি সেতুয়ারা বেগম মালিক সেজে ২৩ জানুয়ারি/২০২০ সালে দলিল নং ৯০/২০২০ মূলে কোয়ান্টম প্রধান আল বোখারীর নামে বিক্রয় করেন।
বর্তমানে ওই সমাজের কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা-হেফজখানা, এতিমখানার ভুমি রক্ষার জন্য স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরেজমিন খোজ নিয়ে জানাযায়, সামাজিক কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনাসহ ওই জমিতে দখল-বেদখল নিয়ে কোয়ান্টম বনাম স্থানীয়দের মাঝে কয়েক দফা দাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সরকারে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বসহকারে নজরে আনা প্রয়োজন। অন্যথায় অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
কতিথ আছে নামে-বেনামে কাগজ দেখিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কয়েক হাজার একর ভ‚মির মালিক হয়েছে। এর ফলে সরই ইউনিয়নে বহু পরিবার ভ‚মিহীন হয়েছে। এর জেরধরে মিথ্যা মামলা-হামলার শিকার হয়েছে অনেকেই। সেই এলাকায় ভ‚মি কেন্দ্রীক ঘটনায় প্রায়ই আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা প্রান্তিক মানুষগুলোকে সামান্য টাকার লোভে ফেলে নিজেরা ভ‚-স্বামী বনছেন।
কোয়ান্টম কর্তৃক ভ‚মি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্টি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ অনুযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেন না বলে দাবী করেছেন সরই ইউনিয়নের বহু মানুষ। নিরপেক্ষ একটি সরকারের তদন্ত টিম লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বনাম কোয়ান্টমের মধ্যে বিরাজমান ভ‚মি বিরোধের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করার দাবী উঠেছে। এ বিষয়ে কোয়ান্টমের কারোর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা নজরে আনবেন, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply