বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২০ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুজিববর্ষে স্বাধীনতা দিবস – আবছার উদ্দিন অলি

 

স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এবারের স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী মুজিব বর্ষ পালিত হবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। মুজিববর্ষে স্বাধীনতা দিবস নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে। তাই এবারের স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন বেশ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে এই মার্চ মাসেই। স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে আমাদের শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সুরকার, গীতিকার, নাট্যকার, কবি-সাহিত্যিক সহ সকল শিল্পনুরাগী ব্যক্তিবর্গ অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। যাদের অবদান কখনই ভুলা যাবেনা। যাদের আত্মত্যাগে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন এবং সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মান চিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন এই ভূখন্ড। তার বিনিময়ে আমাদের হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। স্বাধীনতার এই দিনে আমরা স্মরণ করছি আমাদের সে সব অকুতোভয় বীর সেনানীকে। পৃথিবীর সব দেশে ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙালিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধ চলাকালীন সাহস শক্তি অনুপ্রেরণা উৎসাহ যুগিয়েছেন আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা। শিল্পীদের সংগ্রামী কন্ঠের গান সাড়া জাগিয়ে তোলে বাংলার পথে প্রান্তরে।

স্বাধীনতার গৌরবে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধচলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঙালি জাতিকে সংস্কৃতি অঙ্গন সহ বহি:বিশ্বে পরিচয় ঘটিয়েছে লাল সবুজ পতাকাকে। এ জন্য আমরা গর্বিত, আমরা অনুপ্রাণিত, আমরা আনন্দিত, আমাদের দেশের গান এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে যা কখনোই ভাবেনি কোন শিল্পী। পৃথিবীর কোন দেশে তার দেশ নিয়ে এত গান আছে বলে জানা নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার গান আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের অগ্রগন্য ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের সবাইকে আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শিল্পীদের গান আমাদেরকে উৎসাহিত করেছে। সময় হয়েছে এখন অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, সমঝোতার সংস্কৃতির বদলে নির্ভয়ের সংস্কৃতি বরণকে। যে জাতির অপমানবোধ নেই, সেই জাতির জাতি হিসেবে টিকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ সে জাতির মানসিক উন্নতি হয় না, দাস হয়ে থাকে, আগাছার মধ্যে ডুবে আগাছা হয়ে যায়। আপসের সংস্কৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের সংস্কৃতিকেই বরণ করার সময় এসেছে, সময় এসেছে তা বরণ করে নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারার মতো গৌরবের বিষয় আর কি হতে পারে ? বাংলাদেশের জন্ম ও নতুন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন যুদ্ধ করেছেন ইতিহাসে তারা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। স্বপ্নের হাজারো রং ছড়িয়ে আমরা সবাই চাই আমাদের দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ, হৃদয়ে স্বাধীনতার গান। মুক্তির সংগ্রামে গানে গানে সুরে সুরে সারা দেশে স্বাধীনতার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধচলাকালীন বেতার ছিল সকল খবরা খবরের একমাত্র মাধ্যম। বেতারের খবর শুনতে হাজার হাজার লোক এক সাথে জড়ো হতো।

বাক সর্বস্ব জাতিতে পরিণত হতে চলেছি আমরা। যা মুখে বলি, তা কাজে প্রয়োগ করি না, এমনকি বিশ্বাসও করি না। বাঙ্গালি জাতির ঐক্য নেই এখন সবাই দলে দলে বিভক্ত। স্বাধীনতা দিবসে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। ১৯৭১’র সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে এখনও নতুন করে উজ্জীবিত করে এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা যোগায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখন শিশু-কিশোরদের স্বাধীনতার ইতিহাস সঠিক ভাবে জানাতে হবে। দেশের জন্য স্বাধীনতার জন্য যতদিন এ দেশ থাকবে, ততদিন মনে রাখবে এবং গুন গুনিয়ে গাইবে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”।

আমাদের দেশটি আমাদের বড় ভালোবাসার দেশ, বড় মমতার দেশ। যাঁরা জীবন বাজি রেখে এই স্বাধীন দেশটি আমাদের এনে দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আর যেসব স্বাধীনতা বিরোধী, বিশ্বাসঘাতক, যুদ্ধাপরাধী এই স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে তাদের জন্যে রয়েছে অন্তহীন ঘৃণা। আজ থেকে একশ বছর কিংবা হাজার বছর পরেও যতদিন বাংলাদেশ টিকে থাকবে, এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী, বিশ্বাসঘাতক, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করবে না। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের নতুন প্রজন্ম মাতৃভূমিকে ভালোবাসার তীব্র আনন্দটুকু অনুভব করতে শিখবে। তারা তাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে ঘুরে ঘুরে অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের হাত স্পর্শ করে বলবে, আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দেয়ার জন্যে ভালোবাসা এবং ভালোবাসা। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কোমল গলায় বলবে, আমরা তোমাদের কথা দিচ্ছি, তোমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলে আমরা সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। তোমাদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করব। বাংলার আপামর জনতার সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। গৌরবময় আমাদের স্বাধীনতা, মুজিববর্ষে তাই দেশ মাতৃকার সংগ্রামে বাঙালি জাতি সর্বদা ঐক্যবদ্ধ।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply