২৮ মার্চ ২০২৪ / ১৪ই চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ / দুপুর ২:১৫/ বৃহস্পতিবার
মার্চ ২৮, ২০২৪ ২:১৫ অপরাহ্ণ

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ফাগুনে চোখ ধাঁধানো শিমুল ফুল 

     

এম ওসমান 
ফালগুনের হাওয়া দক্ষিনা বাতাসে মিশে আম্রমুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুগ্ধ চারিদিক। পাশাপাশি প্রকৃতিতে শিমুল ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৈন্দর্য, কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দোলা দিচ্ছে। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা, মুকুল আর ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আবার এলো ফাগুন, এলো বসন্ত।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুলের মেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্তপ্রায় দিনে দিনে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শিমুল ফুলের ঐতিহ্য।
বিগত এক যুগ আগেও বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে আর রাস্তার ধারে প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেতো। প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো বসন্ত এসেছে দ্বারে।
শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যেত। যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তুলতো আশা। অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। জোয়ার এনে দেয় কবির কল্পনার জগতে। কেবল সৌন্দর্য‍্যই বিলিয়ে দেয় না, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।
প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম “বোমবাক্স সাইবা লিন”।
এটি বোমবাকাসিয়াক পরিবারের উদ্ভিদ। বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফুটে। গাছ ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয় ।
নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ দেড়শ’ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়।
বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিক ভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্নে অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই এ গাছ বেড়ে ওঠে।
এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদি পশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলা যুগ যুগ ধরে ঐতিহ্য বাহন করে আসছে। কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের শিমুল গাছের বংশবৃদ্ধির হার কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে একটু নজর দেবেন এমনটাই কামনা করেন সচেতন মহল।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, বানিজ্যিক ভাবে এখন দেশের কোথাও এই শিমুলগাছ বা তুলা চাষ করা হয় না। এটি প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠে। যার কারণে শিমুলগাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এর তুলাটা খুবই ভাল এটি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হলে মানুষ আসল তুলার মর্ম বুঝতে পারতো।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply